বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি দফায় দফায় জাতির কাছে ওয়াদা করেছে। কিন্তু সরকার গঠনের পর তারা সব ভুলে গিয়েছে। এক এক করে তারা সবকিছুতেই উল্টো পথে চলছে। যেই পথে হাসিনা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল, সেই পথ ধরে বর্তমান সরকার হাঁটছে। হাসিনার পথে সরকার হাঁটলে তাহলে পরিণতিও একই হবে।
শনিবার রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ৮ দফা দাবিতে ঢাকা টু রংপুর লংমার্চ কর্মসূচির সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতের আমীর বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, যদি আল্লাহ আমাদের নির্বাচিত করে সরকার গঠনের সুযোগ দেয়, তাহলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো। আমরা বলেছিলাম গোটা উত্তরবঙ্গকে কৃষির রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলবো। কিন্তু ভোট আপনারা দিয়েছেন, ইঞ্জিনিয়ারিং করে আপনাদের প্রিয় প্রার্থী, প্রিয় মানুষের বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে। দেশের স্বার্থে আমরা নির্বাচনের অন্যায্য ফলাফল মেনে নিয়েছি।
তিনি বলেন, রংপুরের মানুষ বিদ্যুৎ পায় না, গ্যাস পায় না, সার পায় না, কাজ পায় না। কিন্তু একটি দলের লোকজন কাজ পায়, সেই কাজ হলো চাঁদাবাজি। রংপুরসহ সারা দেশে চাঁদাবাজি চলছে। চাঁদাবাজদের জ্বালায় জাতি অস্থির। চাঁদাবাজদের কারণে দ্রব্যমূল্য তিনগুণ চারগুণ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই সরকার নির্বাচনের আগে বলেছিল, তারা যদি সরকার গঠন করে তাহলে কোরআনবিরোধী কোনো আইন পাস করবে না। কিন্তু ইতিমধ্যে একটি আইন পাস হয়েছে যা সুস্পষ্ট কোরআনবিরোধী। আমরা প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করেছিলাম আপনি এই আইন পাসে স্বাক্ষর করবেন না। যদি এই আইন পাস হয় তাহলে বাংলাদেশের মুসলমানরা ঘরে বসে থাকবে না। এই আইনের কারণে ঘরে ঘরে বিপর্যয় নেমে আসবে। অবিলম্বে সম্পত্তি হস্তান্তরের আইন পাস করতে হবে।
লংমার্চ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের জিজ্ঞাসা করা হয় তোমরা লংমার্চ করো কেন। আমি বলি তোমরা জাতিকে দেয়া ওয়াদা ভঙ্গ করেছ বলেই আমরা লংমার্চ করি। তোমরা ওয়াদা রাখো, আজকেই ঘোষণা দেও আমরা যা করেছি ভুল করেছি, এখনই সংশোধন করে নেবো এবং দৃশ্যমান বাস্তবায়ন দেখাও, তাহলে আমাদের লংমার্চের কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা সমস্ত অপশক্তি, অন্যায় এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলবো। আমরা বিশ্রাম নেবো না। আমরা নেমেছি ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায়ে, সেটি আদায় করেই ঘরে ফিরবো।
জামায়াতের আমীর বলেন, আমাদের সহকারীরা বলেছেন ৮ দফা জাতির প্রয়োজনে এক দফায় পরিণত হতে পারে। আজকে সারা বাংলা থেকে আওয়াজ আসছে, আর সহ্য হয় না, আপনার কিছু একটা করেন। সেই একটা কিছু হওয়ার আগেই চাই সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। যদি না হয়- তবে আমরা বসে বসে আঙ্গুল চুষবো না। সংসদের ভেতরে তীব্র প্রতিবাদ হবে, সমান্তরালে রাজপথেও আন্দোলন চলবে।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর-বিক্রম বলেছেন, তারেক রহমান বিদেশে ১৫ বছর অতিবাহিত করেছেন। অনেক জিনিস শিখে এসেছেন এবং এয়ারপোর্টে নেমে বলেন, আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান। তার প্ল্যানটা হবে তার বাবার থেকেও ভালো, মায়ের থেকেও ভালো। কিন্তু সে হাসিনার মন্ত্রিসভা করবে, এটা আমরা কল্পনাও করি নাই। বর্তমান যে মন্ত্রিসভা সেটি বিএনপি’র মন্ত্রিসভা নয়, এটা হাসিনার ও ভারতের মন্ত্রিসভা।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারের স্লোগান সবার আগে বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করতে সরকার সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। না হলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কেন দিল্লির সঙ্গে তারা নেগোশিয়েট করতে পারছে না। কেন ভূ-রাজনীতিতে তারা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ আদায় করতে পারছে না। এটা থেকে বুঝতে পারি আমরা, তারা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ নয়, নিজেদের দলীয় স্বার্থ আদায়ে সরকারে গিয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, রংপুরবাসীকে শুনতে হচ্ছে বিরোধী দলকে ভোট দেয়ার কারণে রংপুরবাসীর উন্নয়নে কোনো বরাদ্দ পাবে না। রংপুরবাসীর সঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে চলমান বৈষম্য এই সরকার বহাল রাখছে। তারেক রহমানের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে মন্তব্য করে জাতীয় নাগরিক পার্টির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আমরা তারেক রহমানকে সুযোগ দিতে চাইতাম কিন্তু দিল্লির পথে কেউ যদি যায়, তাকে এক সেকেন্ডও সুযোগ দিতে চাই না। আগামীর বাংলাদেশ হবে শহীদ ওসমান হাদির বাংলাদেশ।
জামায়াতের নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ, এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, রংপুর-৪ আসনের এমপি, এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর-বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকে আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।
