চুরির অপবাদে পিটিয়ে হত্যার ১৩ দিনেও হয়নি মামলা। দুই থানার ওসি’র মামলা নিতে টালবাহানা। গাজীপুরের শ্রীপুর থানার ওসি’র দাবি এ ঘটনায় মামলা হবে ময়মনসিংহের ভালুকা থানায়। আবার ভালুকা থানার ওসি’র দাবি মারধরের ঘটনা ভালুকায় হলেও ভিক্টিম মারা গেছে শ্রীপুর থানা এলাকায়। মামলা হলে শ্রীপুর থানাতেই হবে। নিহত সুজন মিয়া (৩৫) শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া গ্রামের আমিনুল হক কালুর ছেলে। তিনি শ্রীপুর থানার তেলিহাটি এলাকার আবদার পাড়া তাসলিমার বাড়ির ভাড়াটিয়া।
গত ৭ই সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় তাকে চোর সন্দেহে মারধর করে। এতে সুজন অচেতন হয়ে পড়লে মারধরকারীরা মারা গেছে মনে করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে গাজীপুরের শ্রীপুরের একটি ময়লার স্তূপে ফেলে রেখে যায়। সেখানে স্থানীয়রা তাকে দেখতে পেয়ে মাথায় পানি ঢেলে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। পরে খবর পেয়ে পুলিশ রাতে শ্রীপুর উপজেলার জৈনাবাজার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ফুটওভার ব্রিজের নিচে ময়লার স্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সূত্রটি জানায়, মৃত্যুর আগে সুজন স্থানীয় লোকদের জানিয়েছেন, ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার লোকজন তাকে চোর সন্দেহে মারধর করেন। এতে গুরুতর আহত হলে তাকে সিএনজিতে তুলে গাজীপুরের দিকে রওনা হয়। কিছুক্ষণ পরই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। নিহত সুজনের চাচা মানিক মিয়া বলেন, গত ৮ই সেপ্টেম্বর রাতে সুজনের মরদেহ বাড়িতে আনার পর রাতেই তাকে দাফন করা হয়। তার দুই সন্তান থাকে নানার বাড়িতে। স্ত্রী থাকে জর্ডানে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনূর আলম জানান, জানতে পেরেছি, ভালুকার মাস্টারবাড়ি এলাকায় একটি ইলেকট্রনিকস পণ্যের দোকানে চুরির সন্দেহে সুজনকে মারধর করে ওই এলাকার লোকজন। পরে তাকে সিএনজিতে করে জৈনাবাজার এলাকায় ফেলে যায়। সেখানে তার মৃত্যু হয়। তিনি আরও বলেন, মারধরের স্থান ভালুকায়। যে কারণে মরদেহ ময়নাতদন্ত করে সব তথ্য ভালুকা থানায় পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় ভালুকা থানায় মামলা হবে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সুজনকে ভালুকা থানা এলাকায় মারধর করা হলেও মারা গেছে শ্রীপুর থানা এলাকায়। তাই, আমাদের এখানে মামলা নেয়ার সুযোগ নেই। শ্রীপুর থানায় মামলা নেয়ার পর তদন্ত করে আমাদের কাছে আসলে, আমরা সহায়তা করবো। এ বিষয়ে ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামিন বলেন, ঘটনাটি ভালুকাতে হলেও সুজন শ্রীপুর থানার অধীনে আইনগত ব্যবস্থা শ্রীপুর থানা পুলিশই নিবে। তবে, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ভালুকা থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
