মানিকগঞ্জে স্ত্রী ও কন্যার হত্যার দায়ে মৃত ব্যক্তি প্রবাসী একরামের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

ফন্ট সাইজ:

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের জান্নাকান্দি এলাকায় সৌদি আরব প্রবাসী একরাম হোসেন (৪২), তার দ্বিতীয় স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২৫) এবং দেড় বছরের মেয়ে আলিজা নূরের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার রাতে মানিকগঞ্জ সদর থানায় দু’টি মামলা হয়। এ ছাড়া, রোববার বিকালে তিনজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

প্রবাসী একরামের স্ত্রী নিহত প্রিয়াঙ্কা আক্তারের বড় বোন মিশু বেগম বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যেহেতু ধারণা করা হচ্ছে, একরাম স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন, তাই মৃত একরাম হোসেনকেই এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকতে পারে সন্দেহে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। অপরদিকে, নিহত একরাম হোসেনের মা তাহমিনা বেগম বাদী হয়ে তার ছেলের আত্মহত্যার ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলা করেন।

দুই পক্ষের করা পৃথক মামলার কারণে ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে। তবে মামলার তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মৃত ব্যক্তির নামে মামলা নেয়ার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া রয়েছে; যেহেতু স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার সময় তিনি জীবিত ছিলেন, তাই তার নামেও মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে তার মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে। অপর একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে নিহত একরামের মা।
উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বারাহী জান্নাকান্দি এলাকার প্রবাসী একরাম হোসেন দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দেড় বছরের শিশুকন্যাকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেন। শনিবার তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী ও কন্যাকে হত্যার পর ওই প্রবাসী আত্মহত্যা করেছে। জানা যায়, দীর্ঘদিন সৌদিতে প্রবাস জীবন কাটিয়ে সম্প্রতি দেশে ফেরেন আকরাম হোসেন। শনিবার দুপুরে ঘরের ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে তিনজনের নিথর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।