উপনিবেশোত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রসঙ্গে

ইতিহাস, ভাষা ও শিক্ষার ঔপনিবেশিক রাজনীতি -৬

উপনিবেশোত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রসঙ্গে

ফন্ট সাইজ:

প্রথমত, দখলীকৃত ভূখণ্ডে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে, বৈষয়িক অর্থে, নতুন ধরনের কায়েমি স্বার্থ সৃষ্টি করা এবং সেই বৈষয়িক স্বার্থকে ঘিরে উপনিবেশিত জনগোষ্ঠীর ভেতর থেকে একটি নতুন কায়েমি স্বার্থবাদী শ্রেণির সৃষ্টি করা- যে শ্রেণিটি আপন বৈষয়িক স্বার্থের বশবর্তী থেকে, ঔপনিবেশিক শক্তির স্থানীয় ক্ষমতাবিন্যাসের উচ্চ স্তরে অবস্থানের ভিত্তিতে, বিদেশি ঔপনিবেশিক শাসন শুধু মেনেই নেবে না, তাকে শক্তিমান ও দীর্ঘায়ু করতেও সহযোগিতা করবে।

দ্বিতীয়ত, ইতিহাস ও ইতিহাসের দর্শন চর্চার নামে, উপনিবেশিত জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অসত্য কিংবা বিকৃত বয়ান তৈরি ও প্রচারের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ভেতর হীনম্মন্যতা সঞ্চার করে ওই সব ব্যাপারে নিজেদের উৎকৃষ্টতা প্রতিপন্ন করা এবং, সে অভিন্ন প্রক্রিয়ায়, উপনিবেশপূর্ব স্থানীয় শাসকশ্রেণি ও তাদের শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতনভাবে নেতিবাচক বয়ান নির্মাণ ও প্রচার করার মাধ্যমে নিজেদের ঔপনিবেশিক আগ্রাসন, দখলদারত্ব ও শাসনব্যবস্থার ‘ন্যায্যতা’ প্রতিষ্ঠার প্রয়াস গ্রহণ। উপনিবেশিত জনগোষ্ঠীর ভেতর সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত বিভক্তি সৃষ্টি করে ঔপনিবেশিক শাসনকে দীর্ঘায়িত করার পথ প্রশস্ত করার ক্ষেত্রেও উপনিবেশবাদী অনৈতিহাসিক ‘ইতিহাস’ চর্চা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।

তৃতীয়ত, উপনিবেশিত জনগোষ্ঠীর ভেতর ইতিমধ্যেই সৃষ্ট নতুন কায়েমি স্বার্থবাদী শ্রেণিটির মধ্য থেকে একটি উপনিবেশবাদী ‘শিক্ষিত’ এলিট সম্প্রদায় তৈরি করা, যে সম্প্রদায়টি নিজের বৈষয়িক সমৃদ্ধি
নিশ্চিত করার পাশাপাশি, ঔপনিবেশিক শক্তির সামাজিক, রাজনৈতিক ও ভাবাদর্শিক ভিতকে শক্তিমান করে তোলার জন্য নানা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রয়াস গ্রহণ করবে। এরকম একটি নতুন শ্রেণির সৃষ্টি ও বিকাশ
নিশ্চিত করার জন্য ঔপনিবেশিক শক্তিসমূহ দেশে দেশে যে দু’টি প্রধান কার্যকর উপায় অবলম্বন করেছে, তা হলো নতুন ভাষা ও শিক্ষানীতির প্রবর্তন ও প্রচলন নিশ্চিত করা।

স্থানীয় ভাষার পরিবর্তে ঔপনিবেশিক শাসকদের ভাষার মাধ্যমে নতুন শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করার লক্ষ্য ছিল, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে আপন ভাষা ও ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি জনবিচ্ছিন্ন উপনিবেশবাদী এলিটের জন্ম দেয়। এ পর্যায়ে যা উপলব্ধি করা জরুরি তা হলো, কোনো জনগোষ্ঠীর ভাষার সঙ্গে তার অকৃত্রিম সম্পর্কটি সেই জনগোষ্ঠীর সামষ্টিক বিকাশের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকে। কেননা, কোনো জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষাই তার আপন ইতিহাস ও ঐতিহ্য, অভিজ্ঞতা ও স্বপ্ন, ইত্যাদি ধারণ করে থাকে, তার তাবৎ ঐতিহাসিক ‘স্মৃতির ভাণ্ডার’ হিসেবে বিরাজমান থাকে, আর সেই ভাষার মাধ্যমেই তা ওই জনগোষ্ঠীর ভেতর প্রজন্মান্তরে সঞ্চারিত হয় ও নিরন্তর জারি থাকে। ফলে, কোনো জনগোষ্ঠীকে তার নিজস্ব ভাষা থেকে বিচ্ছিন্ন করার অর্থ হলো, সেই জনগোষ্ঠীভুক্ত বিশেষত তরুণ সম্প্রদায়কে তার আপন জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, অভিজ্ঞতা ও স্বপ্ন থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা। অর্থাৎ আপন অতীতের যাবতীয় ‘স্মৃতি’ ভুলিয়ে দিয়ে অতীত বিবর্জিত একটি নতুন সম্প্রদায় তৈরি করা, যে নতুনভাবে সঞ্চারিত বিদেশি ইতিহাস, ঐতিহ্য, অভিজ্ঞতা ও স্বপ্নে নিমজ্জিত থেকে আপন দেশে ‘বিদেশি’ হয়ে গড়ে উঠবে; আর নিজের মাতৃভাষাসহ যা কিছু স্বদেশি, তাকেই অবজ্ঞার চোখে দেখবে। ব্রিটিশ শাসনাধীন বাংলা প্রদেশের ক্ষেত্রে, এই সম্প্রদায়টির কথা মনে রেখেই ১৮৯২ সালের শুরুতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) লিখেছিলেন, “যাহারা অনেক ইংরাজি কেতাব পড়িয়াছেন তাঁহারা অনেকেই আধুনিক বাংলা লেখা ও লেখকদের প্রতি কৃপাকটাক্ষ নিক্ষেপ করিয়া থাকেন। এই রূপ অবজ্ঞা প্রকাশ করিয়া তাহারা অনেকটা আত্মপ্রসাদ লাভ করেন। বোধ করি ইতর-সাধারণ হইতে আপনাকে স্বতন্ত্র করিয়া লইয়া অভিমানে তাঁহারা আপাদমস্তক কণ্টকিত হইয়া উঠেন।”২৮

কিন্তু ঔপনিবেশিক শক্তি কর্তৃক কোনো কোনো জনগোষ্ঠীর তরুণ সম্প্রদায়কে তার আপন ইতিহাস, ঐতিহ্য, অভিজ্ঞতা ও স্বপ্ন থেকে শ্রেফ বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমেই, স্বয়ংক্রিয়ভাবে, একটি উপনিবেশবাদী নতুন এলিট তৈরি হয়ে যায় না- তার জন্য বরং সেই তরুণ সম্প্রদায়কে আবার ঔপনিবেশিক ভাবাদর্শেও দীক্ষিত করতে হয়, আর সেজন্যেই প্রয়োজন হয় ঔপনিবেশিক ভাষায় ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করা। স্পষ্টতই, ভাষা ও শিক্ষা যেমন একে অন্যের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত, তেমনি ভাষা ও শিক্ষা আবার নানা প্রকার ক্ষমতা সম্পর্কের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকে। ঔপনিবেশিক শিক্ষায় প্রশিক্ষিত নতুন এলিট শ্রেণিটি, নানা উপনিবেশবাদী রাজনৈতিক-বুদ্ধিবৃত্তিক তৎপরতার মাধ্যমে, দেশে দেশে, স্থানীয় জনগণের মন ও মননের ওপর দীর্ঘস্থায়ী ঔপনিবেশিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ভেতর দিয়ে নিজের দেশে বিদেশি ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণকে দীর্ঘায়িত করেছে।

এই এলিট শ্রেণিটির একটি ক্ষুদ্র অংশ উচ্চশিক্ষার বদৌলতে স্বাজাত্য ও স্বাধীনতার দর্শনে উদ্বুদ্ধ হয়ে আপন আপন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন বইকি, কোথাও কোথাও এমনকি নেতৃত্বও দিয়েছেন- তানজানিয়ায় যেমন জুলিয়াস নেরেরে, ঘানায় কোয়ামে নক্রুমা, ফরাসি শাসিত গিনির আহমেদ সেকু তুরে, পর্তুগিজ শাসিত গিনির আমিলকার কাবরাল, ভারতে তেমনি করমচাঁদ গান্ধী, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, জওহরলাল নেহরু প্রমুখ- কিন্তু বৃহত্তর অপরাংশটি স্বদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়েও বিদেশি ঔপনিবেশিক শাসকশ্রেণির পক্ষে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন। এই অভিন্ন এলিট সম্প্রদায় এমনকি উপনিবেশোত্তর স্বাধীন রাষ্ট্র ও সমাজগুলোতেও ঔপনিবেশিক ধ্যান-ধারণা জিইয়ে রাখে, যেগুলো ঔপনিবেশিক শাসন থেকে বেরিয়ে আসা ‘স্বাধীন’ দেশগুলোর যথার্থ গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ও মুক্তির অন্তরায় হিসেবে বিদ্যমান থাকে- বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় যে প্রপঞ্চটি এক মূর্তিমান বিপদ হিসেবে এখনো জারি রয়েছে।

তিন
এবার, ইউরোপের ঔপনিবেশিক শক্তিসমূহ এশিয়ার ভারতবর্ষসহ আফ্রিকা, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের তাদের শাসন-শোষণ ব্যবস্থা প্রবর্তন, প্রতিষ্ঠা ও জারি রাখার জন্য উপরিউক্ত তিনটি পদ্ধতিকে কীভাবে ব্যবহার করেছে, সংক্ষেপে তা আলোচনা করবো। তাছাড়া, বিভিন্ন অঞ্চলে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো আপন আপন শাসন প্রবর্তন ও প্রতিষ্ঠায় যে প্রায়-অভিন্ন অপ/ কৌশলগুলো ব্যবহার করেছিল, তার ওপরও আলোকপাত করবো। সেক্ষেত্রে, ভারতবর্ষে বিশেষত পর্তুগিজ ও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির প্রবেশ ও প্রভাব বিস্তারের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়েই শুরু করা যাক।

ভারতবর্ষে ইউরোপীয় উপনিবেশায়ন প্রক্রিয়ার সূত্রপাত ঘটে ১৫০৩ সালে, ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্য কেরালার সমুদ্রোপুকূলবর্তী কোচিন বন্দরে পর্তুগিজদের বাণিজ্যকুঠি স্থাপনের মাধ্যমে। এ ঘটনার সাত বছর পর, ১৫১০ সালে, আধুনিক নৌশক্তিতে বলীয়ান একটি পর্তুগিজ বাণিজ্যিক গ্রুপ ভারতের তৎকালীন বিজাপুর রাজ্যের অন্তর্গত সমুদ্রোপুকূলবর্তী গোয়া শহরটি জবর দখল করে একটি সামরিক দুর্গ প্রতিষ্ঠা করে। পর্তুগিজদের এই গোয়া শহর দখল ও সেখানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই ভারতবর্ষে প্রথম ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপিত হয়। এই পর্তুগিজরা কালক্রমে মুম্বই, মাদ্রাজ প্রভৃতি অঞ্চলে বাণিজ্যকুঠি স্থাপন ও বসতি গড়ে তোলে। পর্তুগিজরা বাংলায় প্রবেশ করে ১৫১৬ সালে এবং বাংলার তৎকালীন সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ্‌’র (১৫৩৮) অনুমোদনের ভিত্তিতে, ১৫৩৬ সালে, চট্টগ্রামে প্রথম বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করে। পরবর্তীকালে, এই পর্তুগিজরা বাংলার হুগলি থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সমুদ্রোপুকূলবর্তী অঞ্চলে তাদের বাণিজ্যিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। ইতিমধ্যে, পর্তুগিজদের বিরুদ্ধে জলদস্যুতা, লুণ্ঠন, অপহরণ, বলপূর্বক ধর্মান্তকরণ প্রভৃতি অপরাধের অভিযোগ উঠলে, দিল্লির সম্রাট শাহজাহান (১৫৯২-১৬৬৩), ১৬৩২ সালে, প্রথমে হুগলি থেকে এবং পরে, ১৬৬৬ সালে, সম্রাট আওরঙ্গজেব (১৬১৮-১৭০৭) চট্টগ্রাম থেকে পর্তুগিজদের বহিষ্কার করেন। তবে, ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে পর্তুগিজ বাণিজ্য অব্যাহত থাকে, তার কুঠিগুলোও অক্ষত থেকে যায়।

ইতিমধ্যে, ভারতীয় সমুদ্রোপুকূলব্যাপী বাণিজ্যিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তি যেমন পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, দিনেমার, ফরাসি ও ব্রিটিশদের ভেতর বিবাদ-বিসংবাদ ও যুদ্ধের মধ্যদিয়ে, শেষ পর্যন্ত, ব্রিটিশ শক্তির জয় হয় ও কালক্রমে সমগ্র ভারতবর্ষ তার ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনস্থ হয়ে পড়ে। কিন্তু গোয়াতে পর্তুগিজদের ঔপনিবেশিক শাসন গোটা ব্রিটিশ জমানায়ও অব্যাহত থাকে। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির ভারত ত্যাগের পরও প্রায় ১৪ বছর তা অব্যাহত ছিল। পরবর্তীকালে, ১৯৬১ সালে, ভারত সরকার একটি সফল সামরিক অভিযানের মাধ্যমে, গোয়াকে পর্তুগিজ শাসনমুক্ত করতে সক্ষম হয়।

এদিকে, ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার সূত্রপাতও ঘটে ভারতের সঙ্গে ইংরেজ বণিক সম্প্রদায়ের
বাণিজ্যিক যোগাযোগের পথ ধরে। ইংরেজ বণিক সম্প্রদায়ের একটি অংশ সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে ভারতের সমুদ্র উপকূলবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে, যেমন গুজরাট, হায়দ্রাবাদ ও বাংলা প্রদেশের বিভিন্ন বিকাশমান বন্দরে, বাণিজ্যকেন্দ্র গড়ে তোলে। ইংরেজ ছাড়াও, ইউরোপের অন্যান্য দেশের বণিকরাও, যেমন পর্তুগিজ, ফরাসি বণিকরা ব্যবসার জন্য এই অঞ্চলে বাণিজ্যকেন্দ্র গড়ে তুলেছিল, কিন্তু ইংরেজদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ও বিসংবাদে লিপ্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত তারা নিজেদের টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়। ইংরেজরা ভারতে প্রথম বাণিজ্যকেন্দ্র গড়ে তোলার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন লাভ করে ১৬০৯ সালে, ভারতের মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের (১৫৬৯-১৬২৭) রাজত্বকালে। সম্রাট জাহাঙ্গীর সে বছর একটি ইংরেজ কোম্পানির এক জাহাজের কাপ্তানের আবেদনক্রমে গুজরাট প্রদেশভুক্ত সুরাট শহরের উপকূলবর্তী এলাকায় একটি কারখানা স্থাপনের অনুমতি দিয়েছিলেন। ফলে, ১৯১২ সালের মধ্যে, সুরাটে কিছুসংখ্যক ইংরেজ বণিক একটি বাণিজ্যকেন্দ্র গড়ে তুলতে সমর্থ হন। কিন্তু সুরাটের বাণিজ্যকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের সূত্রপাত ঘটেনি- তা ঘটেছে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃক ১৬৩৩ সালে পুরনো বাংলা প্রদেশের উড়িষ্যা উপকূলের বালাসোর শহরে প্রতিষ্ঠিত ছোট্ট একটি কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে। কিন্তু খোদ বাংলা প্রদেশে নিজের কারখানা গড়ার অনুমতি লাভের জন্য কোম্পানিকে আরও ২৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়।

তথ্যসূত্র:
২৮. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, “বাংলাসাহিত্যের প্রতি অবজ্ঞা”, প্রবন্ধ সমগ্র, পৃষ্ঠা: ৪৮১