আট দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জ সদরে দুই জামায়াত নেতাকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় বিএনপি’র ১০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এতে অজ্ঞাত আরও ৫ থেকে ১০জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ। রোববার সকালে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় সয়দাবাদ ইউনিয়নের সারটিয়া কলেজপাড়া গ্রামের আহত আব্দুস সবুর শেখের স্ত্রী শোহর ভানু বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিকসহ ১০ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৫ থেকে ১০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন- একই ইউনিয়নের আল-আমিন (৩০), সোহাগ (২৫), হাসান সেখ (২৬), পারভেজ (৩০), জুলমাত আলী (৩২), হাসান আলী (২২), সানিল (৩৭), দুলাল সেখ (৩১) ও আলভী সেখ (৩৮)।
এর আগে, গত শনিবার ৮ দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড় এলাকায় একটি পথসভার আয়োজন করে জামায়াত।
এ সভাকে ঘিরে যমুনা সেতুর পশ্চিম সড়কের দু’পাশে সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা অবস্থান করছিলেন। কিন্তু টাঙ্গাইল পথসভা শেষে দুপুর সোয়া ১টার দিকে লংমার্চটি যমুনা সেতু পেরিয়ে সয়দাবাদ এলাকায় পৌঁছালে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী ভুয়া ভুয়া বলে স্লোগান দেয়। এ সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সয়দাবাদ ইউনিয়ন শাখা জামায়াতের সাবেক আমীর আব্দুস সবুর শেখ ও তার অনুসারীরা ছাত্রদলের এক নেতার সঙ্গে তর্কে জড়ান। এরই একপর্যায়ে ওই ছাত্রদল নেতা ফোন করলে বেশ কিছু লোক এসে আব্দুস সবুর শেখ ও নূরুন্নবীকে এলোপাতাড়িভাবে ছুরিকাঘাত করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় দু’জনকে প্রথমে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু আব্দুস সবুর শেখের অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরবর্তীতে এ হামলার ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে শহরের জেলা জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা সমবেত হয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন। সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে মানবজমিনকে বলেন, ওই ঘটনায় তারা শনিবার রাতেই থানায় অভিযোগ দিয়েছিল। এরপর সকালে সেটা এজাহারভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
