সার সিন্ডিকেটে জিম্মি লালপুরের কৃষক

সার সিন্ডিকেটে জিম্মি লালপুরের কৃষক

ফন্ট সাইজ:

প্রথমে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলারদের বরাদ্দ করা সার চলে যাচ্ছে অবৈধ মজুতকারীদের কাছে। পরে হাতবদল হয়ে সেই সার আবার ফিরে আসছে উপজেলার বিভিন্ন সাব-ডিলার ও অনুমোদনহীন খুচরা সার ব্যবসায়ীদের কাছে। অথচ ডিলারের কাছে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সার না পেয়ে কৃষকদের ছুটতে হচ্ছে এসব সাব-ডিলার ও অনুমোদনহীন সার ব্যবসায়ীর কাছে। সেখানে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করা হচ্ছে। দেয়া হচ্ছে না কোনো ভাউচার। নাটোরের লালপুরে এভাবেই রাসায়নিক সার সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হওয়ার অভিযোগ করেছেন উপজেলার কৃষক ও মৎস্যচাষিরা।

অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেছে। বড়বড়িয়া গ্রামের কৃষক আসলাম উদ্দিন বলেন, আমন ধান চাষের জন্য ডিলারের কাছে চাহিদা অনুযায়ী টিএসপি, ইউরিয়া ও এমওপি সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে প্রতি বস্তায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দিয়ে সার কিনতে হয়েছে। মোমিনপুর গ্রামের মৎস্যচাষি হাফিজুল ইসলাম বলেন, তার ২০টি পুকুরে প্রতি মাসে ১৭ বস্তা সার লাগে। কিন্তু ডিলারের কাছে পর্যাপ্ত সার পাওয়া যায় না। তবে বেশি দাম দিলে বাইরে থেকে সার পেতে সমস্যা হয় না।

সিন্ডিকেটের সার পরিবহনে জড়িত উপজেলার আমিরুল ইসলাম (৪২) নামের এক ভ্যানচালক জানান, স্থানীয় সার ডিলার ছাড়াও রাজশাহীর বাঘা উপজেলার সার ব্যবসায়ী বাচ্চু, গোলাম, রুবেল ও গোলাপের কাছ থেকে তিনি প্রায়ই সার নিয়ে আসেন। পরে মহাজনের নির্দেশে সেই সার পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে নির্ধারিত সার ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেন। সার পরিবহনের সময় তা যাতে দেখা না যায়, সেজন্য কালো, লাল, নীল ও ছাই রঙের অস্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে বস্তাগুলো ঢেকে রাখা হয় বলে জানান তিনি। একই তথ্য দিয়েছেন হাবিল উদ্দিন (৪০) নামের আরেক ভ্যানচালক। বাঘা উপজেলা থেকে সার এনে নাটোরের বড়াইগ্রাম ও পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহের কথা স্বীকার করেছেন সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই অনুমোদনহীন সার ব্যবসায়ী।
এ ছাড়া, উপজেলার ফুরকান আলী নামের এক কীটনাশক বিক্রেতা বলেন, অনুমোদন না থাকলেও ঈশ্বরদী উপজেলার আরামবাড়িয়া থেকে সার এনে এলাকায় বিক্রি করেন তিনি।

বেশি দামে কেনায় বেশি দামে বিক্রি করতে হয় বলে জানান তিনি। পরিচয় গোপন করে আরামবাড়িয়া বাজারের সাব-ডিলার আ. কাদেরের কাছে সার কিনতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকের কাছে ৫০ বস্তা পর্যন্ত সার বিক্রির জন্য রাজি হন। একপর্যায়ে তিনি চট্টগ্রাম থেকে ট্রাকে করে সার এনে এলাকায় বিক্রি করার কথাও মানবজমিনকে জানান। এ ছাড়া, তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল সার বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় মানবজমিনকে জানান, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর- উভয় মাসেই চাহিদা অনুযায়ী ডিলারদের কাছে সার সরবরাহ করা হয়েছে। সার সংকটের কোনো কারণ নেই। সার পাচার ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির সঙ্গে স্থানীয় ডিলার, সাব-ডিলার ও অনুমোদনহীন ব্যবসায়ীদের জড়িত থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, পাচার রোধ এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিত অভিযানও চলছে। নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।