সোনাইমুড়ীতে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটছে। এর মূল কারণ মাদকের গডফাদাররা দীর্ঘদিন থেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযানে মাদকসেবন ও সরবরাহকারী কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও মূলহোতারা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পৌরসভার কলেজ গেট রাস্তার পাশে, নাওতোলা-বরলা সীমানার পাটোয়ারী বাড়ির পূর্ব পাশের জারা পুকুরপাড়, সতেরো মাইল মুন্টার দোকানের সামনে ও জননী ওয়ার্কশপের পাশে, কৌশল্যারবাগ মাওলানা বাড়ির পাশে, বাইপাস বুট ওয়ালা বাড়ির সামেন, রেজিস্ট্র্রি অফিসের পাশের সড়কে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাদক বেচাকেনা ও সেবকদের আড্ডা বসে। এসব এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা বেড়েছে। ফলে তরুণ, যুবকরা মাদকসেবন ও ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে।
পার্শ্ববর্তী কুমিল্লা থেকে নোয়াখালীর সীমান্তবর্তী চাষীরহাট হয়ে এই মাদক পৌর এলাকায় ঢুকছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন মালবাহী গাড়ির মাধ্যমে অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে গাঁজা, ইয়াবার মতো মাদকদ্রব্য নিয়ে আসছে। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় একশ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি ও যুবক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে বলে জানা গেছে। এইসব মাদক পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার দোকান বা নির্জনে সুকৌশলে সরবরাহ করে কিছু নারী ও পুরুষ ব্যবসায়ীরা। চিহ্নিত মাদক কারবারিরা হলেন- সোনাইমুড়ী পৌরসভার শিমুলিয়া গ্রামের নাজিম উদ্দিন, শাকিল, রাজীব, সোহেল, জহির। কৌশল্যারবাগ গ্রামের মিলন, রনি। ভানুয়াই গ্রামের বিপ্লব, আনোয়ার, খেয়াজ খিজির সবুজ। সোনাইমুড়ী গ্রামের যুবরাজ, ইব্রাহিম, শিপন। পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড নাওতলা গ্রামের তানভীর আহম্মেদ, মহিন, ফাহাদ, আজাদ, ইমান হোসেন, রিপন, খোরশদ আলী, বাবুসহ আরও অনেকে রয়েছে মুখোশের আড়ালে।
জানা যায়, পৌরসভার এসব গডফাদারদের দুই একজন ধরা পড়লেও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে র্যালি ও আলোচনা সভা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
