ভৈরবে মাদকবিরোধী মিছিলে হামলায় নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের ছোট তুলাকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে তাসলিমা বেগম, সিরাজ মিয়া, স্বপন মিয়া, বাতাসি বেগম ও আবদুল্লাহ মিয়া আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে তাসলিমা বেগম ও আবদুল্লাহ মিয়া ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। পরে আবদুল্লাহ মিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক উম্মে হাবীবা জুঁই।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫-২০ দিন ধরে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অভিযান চালাচ্ছেন তুলাকান্দি গ্রামের যুবকরা। এর ধারাবাহিকতায় ১৯শে সেপ্টেম্বর রাতে স্থানীয় শামীম মিয়ার বাড়িসহ কয়েকটি ঘরে অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার করেন তারা। তবে টের পেয়ে মাদক কারবারিরা পালিয়ে যায়।
এরপর রোববার সকালে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও যুবকরা মাদকের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে মিছিল বের করলে মাদক কারবারিরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বাদার বাড়ির লোকজনের সঙ্গে মুন্সি বাড়ি, হাফিজ মেম্বারের বাড়ি ও ভাঙ্গার বাড়ির লোকজনের মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
মুন্সি বাড়ি, হাফিজ মেম্বারের বাড়ি ও ভাঙ্গার বাড়ির পক্ষে ফিরোজ মিয়া ও জজ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। বাদার বাড়ির শামীম ও তার ভাই মোস্তফাসহ বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। শনিবার রাতে তাদের বাধা দেয়ায় আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। পরে রোববার সকালে আমরা শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করলে মাদক কারবারিরা তাদের সহযোগীদের নিয়ে ফের হামলা চালায়।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে বাদার বাড়ির প্রতিনিধি নীল মিয়া বলেন, আমরাও মাদকের বিরুদ্ধে। আমাদের বংশের কেউ মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকলে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করা যেতো, আমরাও সহযোগিতা করতাম। কিন্তু তা না করে মিছিলে আমাদের বংশের ভালো মানুষদের উদ্দেশ্য করে কটূক্তি করা হয়। আগের শত্রুতা মেটাতে আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। সাধারণ মানুষের সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন, তবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মারামারি করা গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধীদের আইনের হাতে তুলে দিতে হবে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
