শরীয়তপুরের জাজিরায় ব্যবসা করতে গিয়ে স্থানীয় চাঁদাবাজদের চাপের মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। তার মালিকানাধীন ‘ইলিশ পোলাও’ রেস্টুরেন্টের বিদ্যুৎ সংযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইকবালের দাবি, নিয়ম মেনে নেওয়া বিদ্যুৎ সংযোগকে ইস্যু বানিয়ে তার কাছে অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি করা হয়েছিল। সেই দাবি পূরণ না করায় এখন নানা ধরনের চাপ ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। জাজিরার নাওডোবা ইউনিয়নের তস্তারকান্দি এলাকায় অবস্থিত ‘ইলিশ পোলাও’ রেস্টুরেন্ট। রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণের সময় অন্য একটি ফিডার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই ফিডারে পর্যাপ্ত লোড না থাকায় ব্যবসার প্রয়োজন অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছিল না। এ কারণে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাছে নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করা হয়।
আবেদনের পর সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা কারিগরি সক্ষমতা যাচাই করেন। কোন ফিডারে পর্যাপ্ত লোড রয়েছে, নতুন লাইন নির্মাণে কী ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন এবং কোন পথ দিয়ে লাইন নেওয়া সম্ভব—এসব বিষয় পর্যালোচনা করেই টোলপ্লাজার ফিডার থেকে সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান ইকবাল। তার দাবি, সংযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে লাইন নির্মাণের পুরো ব্যয়ও তিনি গ্রাহক হিসেবে নিজেই বহন করেছেন।
ইকবাল বলেন, রেস্টুরেন্টে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়ার জন্য নিয়ম মেনেই পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে আবেদন করা হয়েছে। কর্মকর্তারা কারিগরি বিষয়গুলো যাচাই করে টোলপ্লাজার ফিডার থেকে সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নতুন লাইন নির্মাণের খরচও আমি নিজেই বহন করেছি। এ ছাড়া যে জায়গা দিয়ে লাইন নেওয়া হয়েছে, সেই জমি ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে।
এই প্রযোজক-পরিচালকের অভিযোগ, সব ধরনের নিয়ম মেনে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার পরও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে মূলত স্থানীয় একটি চাঁদাবাজ মহলের দাবির কারণে। ইকবালের ভাষ্য, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে বিভিন্ন সময় অর্থ দাবি করেছেন। সেই দাবি পূরণ না করায় এখন বিদ্যুৎ সংযোগের মতো একটি প্রশাসনিক ও কারিগরি বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
ইকবালের দাবি, বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের নথি ও অনুমোদন যাচাই করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। তিনি বলেন, আমি নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনো সংযোগ নিইনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি, তারা কারিগরি সক্ষমতা যাচাই করেছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তারপরও যদি এ নিয়ে অপপ্রচার করা হয়, তার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, সেটিই প্রশ্ন।
