প্রথমে অপহরণ। তারপর ৪ জনের সংঘবদ্ধ দল ২ ঘণ্টা ধরে চালালো পাশবিক নির্যাতন। এরপর মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ফেলে দেয়া হলো বাড়ির পাশের এক নির্জন স্থানে। সেখান থেকেই পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৪ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গতকাল দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ওই তরুণী। পাশবিক এই ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার গোলাপনগরে। সূত্র জানিয়েছে, গত ১৫ই সেপ্টেম্বর রাত ৯টায় গোলাপনগর বাজারের পার্লারে সেজেগুঁজে নিজ বাড়ি ফকিরাবাদ বখশিপাড়ায় ফিরছিলেন তমা খাতুন (২০)।
সে ওই এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। এ সময় রাস্তা থেকেই একটি মোটরসাইকেল তার গতিরোধ করে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। স্থানীয়দের ধারণা, কোনো অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে গিয়ে অনুমানিক ৪/৫ জনের সংঘবদ্ধ একটি দল উপর্যুপরি ধর্ষণ ও পাশবিক নির্যাতন চালায়। এরপর রাত ১২টার দিকে বখশীপাড়ার নির্জন মোড়ে তাকে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। রাত সাড়ে ১২টার পর পরিবারের সদস্যরা ওই তরুণীকে উদ্ধার করে রাত ১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করে। পরে সেখান থেকে রাতেই রেফার্ড করা হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ৪ দিন চিকিৎসার পর তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে অপহরণের পর দিন নিহতের মা কাজলী খাতুন বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, নিহত তমার দেড় বছর আগে বিয়ে হয় গোলাপনগর এলাকার আবু বক্করের সঙ্গে। গত দেড় মাস আগে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তমাকে অপহরণ, অতঃপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় স্বামী বক্করের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। ভেড়ামারা থানা পুলিশ ইতিমধ্যে তার স্বামীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। এ ঘটনায় ভেড়ামারা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে জানিয়েছেন নিহতের মামাতো ভাই হাবিবুর রহমান হাবিব। ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ তদন্ত রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে নিহতের সাবেক স্বামীকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
