রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ-সংক্রান্ত বিলে সই করে সেটিকে আইনে পরিণত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পথ খুললো।
এতে ভারত ও চীন ১০০% নতুন শুল্কের ঝুঁকিতে পড়েছে।
এনডিটিভি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ ২৬২-১৫৯ ভোটে ব্যাপক পরিসরের এই নিষেধাজ্ঞা বিল পাস করার দুইদিন পর শুক্রবার এতে সই করেন ট্রাম্প।
‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট’ আইনটির নামকরণ করা হয়েছে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে। তিনি ওয়াশিংটনে ইউক্রেনের অন্যতম জোরালো সমর্থক ছিলেন। চলতি বছরের জুলাইয়ে কিয়েভ সফর শেষে ফেরার কিছুদিন পর তিনি মারা যান।
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বিলে কী আছে
রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যয় করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের প্রবাহ কমানোই এই আইনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এতে রুশ কর্মকর্তা, ব্যাংক, জ্বালানি খাত এবং মস্কোর সামরিক অভিযানকে সহায়তা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের ক্ষমতা ট্রাম্পকে দিয়েছে নতুন আইনটি। এর উদ্দেশ্য হলো, এসব দেশের রুশ তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমানো।
দেশটির প্রতিনিধি পরিষদের ওয়েজ অ্যান্ড মিনস কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এই আইনে রাশিয়ার পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে রুশ তেল ও গ্যাস কেনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিধানের আওতাভুক্ত দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং রুশ সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে।
ভারতের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে
ট্রাম্প এই আইন কার্যকর করায় ভারতের ওপর নতুন শুল্কের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখন ট্রাম্প যদি ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন, তাহলে দেশটিতে বর্তমানে আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্কের অতিরিক্ত হবে।
জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহার করে তৈরি পণ্য আমদানি বন্ধে যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র নয়াদিল্লি থেকে আমদানির ওপর এই ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। তবে নতুন শুল্কের কারণে ভারতের রপ্তানিতে ঠিক কতটা প্রভাব পড়বে, তা যুক্তরাষ্ট্র শুল্কের হার ঘোষণা করার পরই নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানিকে কেন্দ্র করে গত বছর ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল। তখন ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত ২৫ শতাংশ পারস্পরিক শুল্কের পাশাপাশি রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য আরও ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন।
তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য কাঠামোর অংশ হিসেবে পারস্পরিক শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়।
এদিকে এরইমধ্যে ভারত জানিয়ে দিয়েছে, নিজেদের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে তারা প্রস্তুত।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিল্লি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বৈচিত্র্যময় উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ এবং পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতির ভিত্তিতে ভারত এই নীতি অব্যাহত রাখবে।
