আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পর এবার সিআইএমসিতে হচ্ছে ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পর এবার সিআইএমসিতে হচ্ছে ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল

ফন্ট সাইজ:

চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পর এবার চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবায় চাপ কমাতে আরও ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ (সিআইএমসি)। প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের প্রাথমিক কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
শনিবার চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের কনফারেন্স হলে আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাক্রেডিটেশন সেলিব্রেশন’ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

এতে লিখিত বক্তব্য দেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মুসলিম উদ্দিন সবুজ। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২২ সালে জাতীয় সংসদে অ্যাক্রেডিটেশন আইন পাসের মাধ্যমে বিএমইএসি গঠিত হয়। বাংলাদেশি মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উচ্চশিক্ষা, উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও পেশাগত সুযোগ সৃষ্টি এই ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য। দেশের ১২৪টি সরকারি, বেসরকারি ও আর্মি মেডিকেল কলেজের মধ্যে ২১টি প্রতিষ্ঠান বিএমইএসি’র কাছে স্বীকৃতির জন্য আবেদন করে। বিভিন্ন ধাপে মান যাচাইয়ের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ ও নর্থ-ইস্ট মেডিকেল কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতি পায়।

সর্বশেষ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ এবং চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এতে দেশে বিএমইএসি’র স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মেডিকেল কলেজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আটটিতে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে রয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠার ১৩ বছরে সিআইএমসির উদ্যোগে চারটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সম্মেলনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ১৫টি দেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও গবেষকরা অংশ নিয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেছেন।

মালয়েশিয়া, তুরস্ক, চীন ও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সিআইএমসির সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) রয়েছে। এসব আন্তর্জাতিক যোগাযোগের মাধ্যমে চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হচ্ছে বলে জানানো হয়। বর্তমানে সিআইএমসির সঙ্গে ৫০০ শয্যার চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে। হাসপাতালের ২১টি বিভাগে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন। অন্তর্বিভাগের অধিকাংশ শয্যা প্রায় সময় পূর্ণ থাকে। শয্যার সংকটের কারণে অনেক সময় রোগী ভর্তি করানো সম্ভব হয় না।

স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য হাসপাতালটিতে প্রায় ১০ শতাংশ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়া হয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নগরের স্বাস্থ্যসেবার উপর চাপ কমাতে আরও ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত হাসপাতাল নির্মাণে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। ইতিমধ্যে প্রকল্পটির প্রাথমিক ফাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে দাতাসংস্থা, সরকার এবং সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম মোহসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলেজের চেয়ারম্যান ও গভর্নিং বডির সভাপতি ডা. এ কে এম ফজলুল হক, সিন্ডিকেট সদস্য ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী, এক্সিকিউটিভ কমিটির সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. নুরুন্নবী, সাবেক অধ্যক্ষ ও একাডেমিক অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ডা. মো. টিপু সুলতান এবং উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসলিমা আক্তার।