বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নিজেও বিদ্যুৎ ব্যবহারকে সাশ্রয়ী করতে সচিবালয়ে নিজের কক্ষের অর্ধেক লাইট ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে দিয়েছেন। সকল মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গতকাল সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে যান। তিনি অফিসে গিয়ে নিজের কক্ষের ৫০ শতাংশ লাইটের সুইচ অফ করে দেন এবং এসি’র বিদ্যুৎ প্রবাহ ২৫ দশমিক ১ মাত্রায় নিয়ে আসেন। এই মাত্রা নিলে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়। ওদিকে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রবেশ করেই কক্ষের অর্ধেক লাইট বন্ধ করে দিতে এবং এসি’র মাত্রা কমিয়ে দিতে বলেন। সচিবালয়ের ১ নং ভবনটি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর।
এই দপ্তরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ প্রধানমন্ত্রীর অধীনস্থ বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে। অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পরে তার দপ্তরের সব কক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে অর্ধেক লাইট বন্ধ এবং এসি’র মাত্রা কমানো হয়। এ ছাড়া সচিবালয়ের সকল মন্ত্রণালয়, সারা দেশে সরকারি অফিস-আদালত, বেসরকারি ভবন, শপিংমল, বিপণি বিতানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে তিনি লাইট কম ব্যবহার করে দিনের বেলা অফিস বা বাড়ি-ঘরের জানালার পর্দা সরিয়ে সূর্যের আলো ব্যবহারের জন্যও সকলকে পরামর্শ দেন।
আজ কূটনীতিক এবং কাল আলেম-উলামাদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার
দেশের সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় জাঁকজমকপূর্ণ ইফতার মাহফিল এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কূটনীতিক এবং এতিম-আলেম-উলামাদের সম্মানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দু’টি ইফতার মাহফিলে থাকবেন তিনি। গতকাল তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এসব কথা জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে শুধু দু’টি ইফতার মাহফিল আজ শুক্রবার কূটনীতিকদের সম্মানে এবং ৭ই মার্চ এতিম-আলেম-উলামা-মাশায়েকদের সম্মানে দু’টি ইফতার আয়োজন করছেন প্রধানমন্ত্রী। এই দুইটি ইফতার মাহফিল হবে যমুনায়।
প্রধানমন্ত্রী রাজনীতিবিদদের সম্মানে ৮ই মার্চ এবং গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সম্মানে ১০ই মার্চ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইফতার পার্টির সময়সূচি নির্ধারিত থাকলেও তা সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে বাতিল করা হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব।
প্রতিবছর রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন থাকে। তবে এবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করে তারেক রহমান নিজের বাসায় পরিবারের সঙ্গেই ইফতার করছেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে জাঁকজমকপূর্ণ ইফতার অনুষ্ঠান হচ্ছে না।
