নবীগঞ্জে পুলিশের মামলা, আলোচনায় আওয়ামী লীগের দুই নেতা

নবীগঞ্জে পুলিশের মামলা, আলোচনায় আওয়ামী লীগের দুই নেতা

ফন্ট সাইজ:

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে পৌর শহরের শেষ প্রান্ত কলেজ রোডে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী-যুবলীগের কয়েক মিনিটের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের মামলা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি/সেক্রেটারির নাম গোপন রেখে ৩০ জনের নামে থানায় মামলা হয়। থানার এসআই দুলাল মিয়া বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করেন। থানার ওসি মো. আবুল হোসেন ছুটিতে থাকায় সার্বিক ঘটনা তদারকি করেন ওসি (তদন্ত) দুলাল মিয়া। দায়েরকৃত মামলায় আওয়ামী লীগ জামানায় আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি নেয়া সাংবাদিক সাইফুল জাহান চৌধুরীকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মামলায় উল্লেখ করা হয়। বাস্তবে তিনি বিগত ২০২১ সালে লিখিতভাবে হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগকে অবহিত করে অব্যাহতি নেন।

বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট গতিগোবিন্দ দাশকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ ছাড়াও বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিনের পরিবর্তে বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুল এবং ৫ই আগস্টের পূর্ব থেকে দেশের বাইরে থাকা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও যুবলীগের আহ্বায়ক আলহাজ ফজলুল হক চৌধুরী সেলিমকেও আসামিভুক্ত করা হয়েছে। পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক যুবদল নেতা রাশেদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ ও শুক্রবার বিকালে উপজেলা বিএনপি’র তরফে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার রাতে একটি মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। শহর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে তারণগাঁও এলাকায় বিক্ষোভের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাবার আগেই বিক্ষোভকারীরা পালিয়ে যায়। এ সময় ওই এলাকা তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের শুক্রবার বিকালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এনিয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা শতাধিক লোকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের পৌর এলাকার প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে তারণগাঁও এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের একদল নেতাকর্মী আতঙ্ক সৃষ্টি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে জড়িত ২ জনকে গ্রেপ্তার করে। পরে ১৮ই সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- পৌর এলাকার গয়াহরি গ্রামের রথীন্দ্র দাসের পুত্র অমিত দাস (২২), জিতেন্দ্র চন্দ্র দাসের পুত্র বিজয় দাস (২২), করগাঁও ইউনিয়নের তারণগাঁও গ্রামের বিধান দাসের পুত্র পিটু দাস সম্রাট (২৪), সাধন দাসের পুত্র উজ্জ্বল দাস (৩২), মৃত রথিশ দাসের পুত্র রাজিব দাস (২৩)। নবীগঞ্জ থানার ওসি আবুল হোসেন বলেন, আমি ছুটিতে আছি। তবে সবকিছুর খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। অভিযান চলছে। সবকিছুই পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে।