ডাক্তার আছে মেশিন নেই

ফন্ট সাইজ:

বরগুনার আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেশিন আছে, এক্সপার্ট নেই। এক্স-রে মেশিন আছে (এনালগ) টেকনিশিয়ান নেই। ল্যাব আছে টেকনিশিয়ান নেই। এ ছাড়া নেই গাইনি ডাক্তার, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন। ফলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম। জানা যায়, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ চিকিৎসকের মোট ৪৩টি পদ আছে। বিপরীতে আছেন ১৭ জন চিকিৎসক। ২৬টি পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি থাকায় উপজেলায় তিন লাখ মানুষের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসক ছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিসংখ্যানবিদ, ক্যাশিয়ার, স্টোর কিপারসহ তৃতীয় শ্রেণির ৯২টি পদের মধ্যে ৪০টি এবং ওয়ার্ডবয়, আয়া, মালি, বাবুর্চি, নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকার্মীসহ চতুর্থ শ্রেণির ৩৩ পদের মধ্যে ১৭টি পদ প্রায় ৫ বছর ধরে খালি রয়েছে। এতে হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রমই ব্যাহত হচ্ছে।

এ ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে দাপ্তরিক কাজের জন্য সবসময় ব্যস্ত থাকতে হয়। চলমান অবস্থায় এখানে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ফেরত যেতে হচ্ছে অনেক রোগীকে। তাদেরকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা ৭৫ কিলোমিটার দূরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। উপজেলার হলদিয়া গ্রামের রাবেয়া নামের ষাটোর্ধ্ব এক রোগী জানান, কিছুদিন ধরে শরীরে চুলকানি দেখা দেয়ায় চিকিৎসার জন্য সেখানে যান।

কিন্তু গিয়ে শোনেন চিকিৎসক নেই। আমরা গরিব মানুষ। টাকা খরচ করে অন্য কোথাও যাওয়ার অবস্থাও নাই। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ডা. হিমেল পাল বলেন, চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। চিকিৎসক পদায়ন হলে সংকট থাকবে না। বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফাত্তাহ বলেন, আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সংকটের কথা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানানো হয়েছে। জরুরিভিত্তিতে চিকিৎসক চাওয়া হয়েছে।