দর্শকনন্দিত ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছে মেঘালয় ছোঁয়া প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি সীমান্তবর্তী জেলা নকশিকাঁথার জামালপুরে। অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চটি নির্মাণ করা হয়েছে বকশীগঞ্জ উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সবুজ বনানী ও নৈসর্গিক লেক পরিবেষ্টিত ‘লাউচাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্রের উন্মুক্ত চত্বরে’। পার্কের প্রাকৃতিক পরিবেশ, পাহাড় ও সবুজের সমারোহের সঙ্গে চমৎকার সামঞ্জস্য রেখে সাজানো হয়েছিল দৃষ্টিনন্দন মঞ্চ। ইত্যাদি’র ধারণকে ঘিরে পুরো জামালপুর জেলা জুড়েই ছিল উৎসবের আবহ। বরাবরের মতো স্থানীয় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানেই দর্শকদের মাঝে বিতরণ করা হয় অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র। সাধারণত রাতের আলোকিত মঞ্চে ‘ইত্যাদি’ ধারণ করা হলেও, মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা লাউচাপড়ার নয়নাভিরাম সৌন্দর্য তুলে ধরতে এবার দিনের আলোতেই ধারণ শুরু হয়।
দেখতে দেখতে নির্ধারিত সময়ের আগেই পুরো প্রাঙ্গণ দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি কিংবা ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি— কোনো কিছুই দমাতে পারেনি দর্শকদের এই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ও বিপুল উদ্দীপনাকে। এবারের পর্বে থাকছে দু’টি ভিন্ন ধরনের গান। এর একটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন শ্রোতাপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী পান্থ কানাই ও তসিবা বেগম; টেলিভিশন পর্দায় যাদের প্রথম আবির্ভাব ঘটেছিল ইত্যাদি’র মাধ্যমেই। লিটন অধিকারী রিন্টুর কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সুমন কল্যাণ। এবারো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জেলা পরিচিতিমূলক নৃত্যগীত। দ্বৈতকণ্ঠে গেয়েছেন মিজান মাহমুদ রাজীব ও সিঁথি সাহা। যাদের বাড়িও এই জামালপুরে। মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন উজ্জ্বল সিনহা। এস কে জাহিদের মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিচালনায় গানটির
সঙ্গে স্থানীয় বাঙালি ও গারো নৃত্য পরিবেশনা পুরো মঞ্চকে প্রাণবন্ত করে তোলে। উপস্থিত হাজারো দর্শক করতালি আর উচ্ছ্বাসে গান দু’টি উপভোগ করেন। ইত্যাদি’র নিয়মিত আয়োজন দর্শকপর্বের প্রথা অনুযায়ী, ধারণস্থান জামালপুরকে কেন্দ্র করে করা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকের মধ্য থেকে নির্বাচিত করা হয় চারজন দর্শককে। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মনোনীত এই দর্শকরা জামালপুরের চারজন স্মরণীয়-বরণীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের কালজয়ী চারটি গানের অংশবিশেষ পরিবেশন করেন, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধতায় ভরিয়ে দেয়। ইত্যাদি’র নিয়মিত পর্বগুলোর মতো এবারো থাকছে বেশ কিছু তথ্যবহুল ও হৃদয়স্পর্শী প্রতিবেদন। জামালপুরের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক ‘নকশিকাঁথা’ এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘মিল্লি বা পিঠালি’র ওপর বিশেষ প্রতিবেদনের পাশাপাশি জামালপুর জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদের ওপর একটি তথ্যভিত্তিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম জামালপুরের ‘তুলসীপুর ঘোড়ার হাট’র ওপর রয়েছে ভিন্নধর্মী প্রতিবেদন। জামালপুরে নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত পরিবার, অভাবের তাড়নায় বাল্যবিবাহে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার— এসব নিয়ে রয়েছে একটি মানবিক প্রতিবেদন। এ ছাড়া, জামালপুরে জন্ম নেয়া
চারজন কালজয়ী গুণী ব্যক্তিত্বের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে। সবশেষে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিজেদের পরিশ্রমে স্বাবলম্বী হওয়া ফেরদৌস হাসান বাপ্পী ও ওসনাই খাতুন দম্পতির অদম্য জীবনসংগ্রামের গল্প নিয়ে থাকছে এক অনুপ্রেরণাদায়ক মানবিক প্রতিবেদন। এবারের বিদেশি প্রতিবেদন পর্বে থাকছে প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির অপূর্ব মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা চীনের নয়নাভিরাম ‘সুঝৌ’ সিটির ওপর একটি বিশেষ চিত্রায়ণ। থাকছে কাশেম টিভি’র রিপোর্টার এবং নাতির প্রাণবন্ত আলাপ। এ ছাড়াও ইত্যাদি’র নিয়মিত আয়োজন চিঠিপত্র পর্ব ছাড়াও রয়েছে বেশ কিছু সামাজিক অসঙ্গতি ও সমসাময়িক প্রসঙ্গনির্ভর তীক্ষè ও তীর্যক নাট্যাংশ। স্বল্প প্রাণ ভাইরাল গান, ডিজিটাল ট্রলের ট্রমা, ভক্তের অন্ধ ভক্তি, ফাঁপা পূর্তির ফূর্তি, সম্মান দিলে সম্মান মিলে, অনলাইন সোলজার, তৈল বিদ্যা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, লাইভ টকের ঝুঁকি, পরজীবী মানুষসহ বেশ কয়েকটি নাট্যাংশ। বরাবরের মতো এবারো ইত্যাদি’র শিল্প নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন শিল্প নির্দেশক মুকিমুল আনোয়ার মুকিম। পরিচালকের সহকারী হিসেবে ছিলেন যথারীতি রানা সরকার ও মোহাম্মদ মামুন। গণমানুষের প্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদি’র এই পর্বটি আগামী ২৫শে সেপ্টেম্বর রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হবে। ইত্যাদি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। ইত্যাদি স্পন্সর করেছে যথারীতি কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।
