একুশে পদকের পর স্বাধীনতা পদক প্রদানেও আগের সরকারের সুপারিশই গ্রহণ করেছে সরকার। সর্বশেষ গতকাল ঘোষিত স্বাধীনতা পদকের তালিকায় অবশ্য দুজনের নাম যুক্ত করা হয়েছে। বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সুপারিশ করা বাকি তালিকা অপরিবর্তিতই রাখা হয়েছে। জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বর্তমান সদস্য সচিব স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও আগের কমিটির পথেই হাঁটলেন।
পুরস্কারের তালিকায় দেখা গেল গতানুগতিক ধারা। যদিও কমিটি প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নাম যুক্ত করেছে। প্রয়াত চিকিৎসক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রতিষ্ঠিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নাম পুরস্কারের তালিকায় আগেই ছিল। এর সঙ্গে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নাম কমিটি নতুন করে যুক্ত করেছে। সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য এবার কমিটি কোনো যোগ্য ব্যক্তি খুঁজে পায়নি।
পুরস্কারের ক্যাটাগরিতে ‘সাংবাদিকতা’ না থাকলেও সাহিত্য বা গবেষণা ক্যাটাগরিতে প্রায়শই বিশিষ্ট সাংবাদিককে এই পুরস্কার দেয়া হয়েছে। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ও দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে পুরস্কারের যে তালিকা এসেছে তা অনেকটা বেমানান বলেও কেউ কেউ মনে করছেন। এ ছাড়া আগের সরকারের ধারাবাহিকতার নামে বিগত বেশ কয়েকটি জাতীয় পুরস্কার বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এমন অবস্থায় বর্তমান সরকারের সময়ে আগের ধারাবাহিকতা রক্ষার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলা একাডেমি পুরস্কার নিয়ে প্রথম বিতর্ক তৈরি হয়। পরে এই পুরস্কারের তালিকা সংশোধন করা হয়। সর্বশেষ একুশে পদকের তালিকায় আসা নাম নিয়েও প্রশ্ন উঠে। অভিযোগের কারণে কবি মোহন রায়হানের পুরস্কার স্থগিত রেখে পরে আবার ঘোষণা করা হয়। ২০২২ সালে সাহিত্যে স্বাধীনতা পুরস্কার পান আমীর হামজা। এই অখ্যাত লেখক তার সরকারি কর্মকর্তা ছেলের সুপারিশে এই পদক পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠে। এ নিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।
জাতীয় ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ১৩টি ক্যাটাগরিতে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক এই পুরস্কার দিয়ে থাকে সরকার। পুরস্কারের সাচিবিক দপ্তর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পুরস্কার চূড়ান্ত করে জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত জাতীয় মন্ত্রিসভা কমিটি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর গত ২৫শে ফেব্রুয়ারি এই কমিটি পুনর্গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আহ্বায়ক করে করা ওই কমিটিতে ৯ জন মন্ত্রীকে সদস্য করা হয়েছে।
এ ছাড়া দশম সদস্য হিসেবে পুরস্কার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী পদাধিকার বলে কমিটির সদস্য থাকবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, বুধবার কমিটির বৈঠকে স্বাধীনতা পুরস্কারের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা বাছাই তালিকার সঙ্গে কমিটি প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ও প্রয়াত জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নাম যুক্ত করার সুপারিশ করে। সংশোধিত ওই তালিকা গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব তা গণমাধ্যমকে অবহিত করেন।
বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠান পাচ্ছেন স্বাধীনতা পুরস্কার: জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ পদক দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে সার্বিক অবদানের জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে এই পুরস্কারে মনোনীত করা হয়েছে। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত অন্য ১৪ জন ব্যক্তি হলেন- মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত) ও বশির আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)। এ ছাড়া পুরস্কার পাওয়া পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

moinuddin naser
৪ মাস আগেThis list of Independence Award seems to be a unique one.