বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির বর্ধিত সভা থেকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ঘোষিত পে-স্কেলের সঙ্গে সমন্বয় করে জাতীয় মজুরি কমিশন গঠন করে সর্বস্তরের শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ন্যূনতম মূল মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণা, দ্রব্যমূল্য কমানো ও সর্বস্তরের রেশনিং চালুর দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার রাতে জেলা ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সহ-সভাপতি মো. সুহেল মিয়ার সভাপতিত্বে বর্ধিত সভা থেকে এই দাবি জানানো হয়। সংগঠনের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাসের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন— ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি নিরঞ্জন দাশ, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমলেশ শর্ম্মা, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের নেতা মোস্তফা কামাল, মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তারেশ চন্দ্র দাশ, মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন, চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হরিনারায়ণ হাজরা, চা-শ্রমিক সংঘ রাজনগর চা-বাগানের নেতা হেমরাজ লোহার, শ্রমিক নেতা জামাল মিয়া, হোটেল শ্রমিক নেতা সাজু মিয়া ও জসিম উদ্দিন প্রমুখ।
সভায় বক্তারা সাম্প্রতিক সময়ে লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ের কারণে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দ্রব্যমূল্যের কষাঘাতে জর্জরিত জনগণের জীবনে নাভিশ্বাস উঠছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে বাঁচার মতো মজুরি না পেয়ে অর্ধাহার-অনাহার ক্লিষ্ট শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি জনগণের জীবন চলাই দায় হয়ে পড়েছে। জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রেই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ঘটলেও শ্রমিক-কৃষক-জনগণের মজুরি বা আয় বাড়েনি। সরকারি কর্মচারীদের জন্য সদ্য ঘোষিত পে-স্কেলে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির কথা প্রচার করা হয়েছে। যার কারণে ইতিমধ্যে বাজারে আরেক দফা দ্রব্যমূল্য বেড়েছে। সরকার ১৪/১৫ লাখ সরকারি কর্মচারীদের জন্য বেতন বৃদ্ধির ব্যবস্থা করলেও দেশের অর্থনীতির অন্যতম মূল চালিকাশক্তি প্রায় সাড়ে ৭ কোটি শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার উদ্যোগ নেয়নি।
