ফরিদপুরের সদরপুরে কালাচ সাপকে নির্বিষ দাঁড়াশ ভেবে ধরতে গিয়ে সাপের দংশনের শিকার হয়ে আলমগীর ওঝা (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সাপের বিষ নামানোর ওঝা হিসেবে এলাকায় পরিচিত থাকলেও শেষ পর্যন্ত নিজ বাবার ঝাড়ফুঁকেও বাঁচেনি ওই ওঝা ছেলের প্রাণ। ঘটনাটি ঘটেছে সদরপুর উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের সলেনামা গ্রামে। নিহত আলমগীরের বাবা সত্তার ওঝাও এলাকায় ওঝা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সকালে আলমগীর একটি সাপ দেখতে পেয়ে সেটিকে নির্বিষ দাঁড়াশ ভেবে খালি হাতে ধরার চেষ্টা করেন। এ সময় বিষধর কালাচ সাপটি তাকে দংশন করে। তবে দংশনের পর দ্রুত হাসপাতালে না গিয়ে তিনি বাড়িতে গিয়ে বাবা সত্তার ওঝার শরণাপন্ন হন।
পরে ওঝা পিতা ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে বিষ নামানোর অবৈজ্ঞানিক চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে আলমগীরের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তখন তাকে পার্শ্ববর্তী চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরবর্তীতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সাপটি শনাক্ত করতে গিয়ে মারাত্মক ভুল করেছিলেন আলমগীর। তিনি যেটিকে নির্বিষ দাঁড়াশ মনে করেছিলেন, মূলত সেটি ছিল অত্যন্ত বিষধর কালাচ সাপ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাপে দংশনের পর ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর করে সময়ক্ষেপণ করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিষধর সাপের দংশনের ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে এন্টিভেনম বা যথাযথ চিকিৎসা নেয়া জরুরি।
