চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মৎস্যঘেরে বিষাক্ত বর্জ্য পানি ঢুকে বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার বিকালে থেকে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের শাহাদাতনগর এলাকায় কয়েকটি মৎস্যঘেরে মরা মাছ ভেসে থাকতে দেখা গেছে। চাষিদের দাবি, এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন মৎস্যচাষি প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের অভিযোগ, কর্ণফুলী ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো) থেকে বের হওয়া রাসায়নিকযুক্ত বর্জ্য পানি নালা ও খালের মাধ্যমে তাদের মৎস্যঘেরে প্রবেশ করেছে। এরপর দ্রুত পানিতে বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন আকারের মাছ মরতে শুরু করে।
সরজমিন শাহাদাতনগর এলাকার কয়েকটি ঘেরে দেখা যায়, পানির উপর অসংখ্য মরা মাছ ভেসে রয়েছে। কোথাও কোথাও ঘেরের পাড়ে জমে আছে মরা মাছ। দুর্গন্ধে পরিবেশও দূষিত হয়ে উঠেছে। চাষিদের আশঙ্কা, পানি দূষিত থাকলে ঘেরে থাকা অবশিষ্ট মাছও মারা যেতে পারে। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, সাবেক সংসদ সদস্য শাহাদাতের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এসব ঘেরে মাছ চাষ করে আসছেন স্থানীয় চাষিরা। মাছ বিক্রির আয় দিয়েই তাদের পরিবারের ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধ করা হয়। চাষিদের ভাষ্য, এর আগেও কাফকোর বর্জ্য পানি ঘেরে ঢুকে মাছ মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। ক্ষতিগ্রস্ত চাষি মো. ইসমাইল বলেন, কয়েক দশক ধরে মাছ চাষ করছি।
এর আগেও কাফকোর বর্জ্য পানির কারণে আমাদের মাছ মারা গেছে। কর্তৃপক্ষকে বারবার সতর্ক করা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে কাফকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. ফারুক আহমদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. রাশিদুল হক বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
