মিরসরাই বিসিক শিল্পনগরী বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন কমেছে ৪০%

মিরসরাই বিসিক শিল্পনগরী বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন কমেছে ৪০%

ফন্ট সাইজ:

তীব্র লোডশেডিংয়ে চট্টগ্রামের মিরসরাই বিসিক শিল্পনগরীর উৎপাদনে থাকা ৮টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখে পড়েছে। শিল্প উদ্যোক্তাদের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘন ঘন বিঘ্ন ঘটায় শিল্পনগরীতে উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। একইসঙ্গে বেড়েছে উৎপাদন ব্যয়। অনেক উদ্যোক্তা কর্মীদের বসিয়ে রেখেও নিয়মিত বেতন দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা। বিসিক সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাই বিসিক শিল্পনগরীতে ২০২০ সালে পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়। এরপর ২০২২ সালে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যায় এয়াকুব অটো রাইস মিল। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৪শে অক্টোবর এবি কমোডিটিজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তবে লোকসানের কারণে উৎপাদনে যাওয়া খান অ্যাক্সেসরিজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।

বিসিক কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাবে শিল্পনগরীর অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো উৎপাদনে যেতে পারছে না। উৎপাদনে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোও লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন কমে গেছে। উৎপাদনে থাকা ৮টি প্রতিষ্ঠান হলো- এয়াকুব অটো রাইস মিল, খাজা ভাণ্ডার, জেক ফুড বেভারেজ, নাছির কেমিক্যাল, আলিফ ফুড, মেঘনা ডাল মিল, ইনোভা টেক্সটাইল ও এবি কমোডিটিজ। ইনোভা টেক্সটাইলের উদ্যোক্তা আয়েশা ফারজানা বলেন, লোডশেডিংয়ে তার কারখানায় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এয়াকুব অটো রাইস মিলের উদ্যোক্তা মো. এয়াকুব আলী বলেন, প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মিরসরাই বিসিক শিল্পনগরীতে রাইস মিল স্থাপন করেছেন তিনি। প্রতিষ্ঠানে ১৪ জন কর্মচারী নিয়মিত কাজ করেন কিন্তু ধান ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বর্তমানে মিলটি বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর মিরসরাই জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আদনান আহম্মদ চৌধুরী বলেন, মিরসরাই জোনাল অফিসের আওতায় প্রায় ৭২ হাজার গ্রাহক রয়েছে।

তাদের দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ থেকে ২০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে নিয়মিত ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যায়। লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিরসরাই বিসিক শিল্পনগরী ও উপজেলা প্রশাসনের বিদ্যুৎ লাইন আলাদা। সাধারণ লাইনের তুলনায় এসব গুরুত্বপূর্ণ লাইনে কম লোডশেডিং দেয়ার চেষ্টা করা হয়। বিসিক চট্টগ্রামের শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মোহাম্মদ তানজিলুর রহমান বলেন, মিরসরাই বিসিক শিল্পনগরীতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে যেতে পারছে না। বিশেষ করে ছোট কারখানাগুলোর জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকলে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব।