দলের নাম ও প্রতীক হারিয়ে নিঃস্ব মমতা

দলের নাম ও প্রতীক হারিয়ে নিঃস্ব মমতা

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় একের এক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে চলেছেন। দলের অধিকাংশ বিধায়ক বিদ্রোহী হয়ে আলাদা গোষ্ঠীতে নাম লিখিয়েছেন। আর এবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে উপনির্বাচনের আবহে কমিশন তাদের অন্তর্বর্তী নির্দেশে দলের নাম ও ঘাসফুল প্রতীক ফ্রিজ করে দিয়েছে। ফলে মমতাকে হারাতে হয়েছে সব কিছু। দলের নাম ও প্রতীক হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব তিনি। তবে প্রতীক-বিতর্কে এ বার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আঙুল তুলেছেন নির্বাচন কমিশনের দিকে। সংশ্লিষ্ট মামলায় যুক্ত করেছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও।

এই নাটকীয়তার মধ্যে নন্দীগ্রামে মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনীত প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারির সঙ্গে নবান্নে দেখা করে এসেই শুক্রবার প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। অগত্যা হতাশ মমতা কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। তবে মমতার এই সমর্থনের কয়েক ঘন্টা পরেই কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে পুরনো খুনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রেজিনগরেও মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরি শনিবার সকালে মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন। তবে কয়েক ঘন্টা পরে মমতার নির্দেশে ইউটার্ণ করে জানিয়েছেন, তিনি লড়াইয়ের ময়দানে থাকছেন।

দলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করার পর মমতার দলের নতুন নাম হয়েছে, ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’। শুক্রবারই তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর নাম এবং প্রতীক উপনির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মমতা পন্থী তৃণমূল কংগ্রেস নতুন নামে ফুটবল পায়ে ফুটবলার প্রতীকে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচনে লড়বে । ঋতব্রত পন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন নাম হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’। তারা লড়বে খাম চিহ্নে।

দলের নাম এবং প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার পর মমতা বলেছেন, গণতন্ত্রের ইতিহাসে কালো দিবস। রাজ্য রাজনীতিতে যা ঘটছে, তা দুর্ভাগ্যজনক, অসাংবিধানিক, গণতন্ত্র-বিরোধী এবং রাজনৈতিক ভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন মমতা। শিবসেনা, এনসিপি কংগ্রেসের ভাঙনের কথা তুলে ধরে মমতা বলেছেন, ‘‘আমাদের আগে উদ্ধব ঠাকরের দলের প্রতীক কেড়েছে। এনসিপি-কে ভেঙেছে। এ বার আমাদের!’’

নাম না করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে মমতা বলেছেন, ‘‘বিজেপির হয়ে কাজ করেন। ঝুটা এসআইআর, ঝুটা ভোট করেছে।” বিধানসভা ভোটের গণনা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। অভিযোগ করেন, তাদের দলের কাউন্টিং এজেন্টদের বার করে দেওয়া হয়েছেন। মমতার ভাষায়, ‘‘পুরো হাইজ্যাক করেছে। মাস্টারমাইন্ড কে? আমাদের ভদ্রতা, নাম নিচ্ছি না। হাইজ্যাক করেছে ইভিএম মেশিন। তার পর মধ্যরাতে গণতন্ত্র হত্যা করেছে কমিশন।”

তবে মমতার দলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করার পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, আপ নেতা অরবিন্দ কেজরীওয়াল ও সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদবের মতো বিরোধী দলের নেতারা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করেছেন।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে শনিবার এক অনুষ্ঠানে এসে বিজেপি নেতা তথা অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাহুল গান্ধীকে একযোগে আক্রমণ করেছেন। হিমন্ত বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে আর ক্ষমতায় ফিরবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন প্রতীক নিয়েও কটাক্ষ করেন হিমন্ত। তিনি জানান, জোড়াফুল তো গেল এবার ফুটবলও থাকবে না। পাংচার হয়ে যাবে। মমতার পাশাপাশি রাহুল গান্ধীকেও কটাক্ষ করেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘রাহুল পুরো পাগল, দেখলেই হাসি পায়।’

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজেই দলের প্রতীক হিসেবে এঁকেছিলেন ঘাসের উপর জোড়া ফুল। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে মমতা ও তৃণমূলের অবিচ্ছেদ্য পরিচয় হয়ে থাকা সেই জোড়া ফুল প্রতীক রাজ্য রাজনীতি থেকে আপাতত অদৃশ্য হয়ে রইলো।