যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হলো ৫ম নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও চেম্বার বার্ষিক বিজনেস এক্সপো ২০২৬ এবং ৯ম বাংলাদেশ ট্রেড ফেয়ার ২০২৬। গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের বোরো অব ম্যানহ্যাটন কমিউনিটি কলেজে দিনব্যাপী এ আয়োজন শুরু হয়।
বাংলাদেশ-ইউএসএ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিইউসিসিআই) এবং গ্রেটার নিউইয়র্ক চেম্বার অব কমার্সের যৌথ আয়োজনে মেলাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সহযোগিতা করছে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ফেয়ার এলএলসি ও ইউএসএ-বাংলাদেশ বিজনেস লিংকস। এবারের প্রতিপাদ্য, ‘কানেক্টিং গ্লোবাল মার্কেটস, ক্রিয়েটিং অপরচুনিটিজ ফর ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট’।
মেলায় বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, নীতিনির্ধারক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীরা অংশ নেন। উদ্বোধনের পর গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট, ব্যাংকিং, ফাইন্যান্স অ্যান্ড রেমিট্যান্সেস ফোরাম এবং ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকদের মতে, বাংলাদেশি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংযোগ তৈরি এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করাই মেলার মূল লক্ষ্য। এবারের আয়োজনে প্রবাসীদের রেমিট্যান্সকে উৎপাদনশীল বিনিয়োগে যুক্ত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়।
২০১৬ সালে বাংলাদেশি পণ্যের প্রচারের মাধ্যমে ট্রেড ফেয়ারের যাত্রা শুরু হয়। ২০২২ সালে এটি আন্তর্জাতিক পরিসরে বিস্তৃত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গ্রেটার নিউইয়র্ক চেম্বার অব কমার্সের সঙ্গে যৌথভাবে পঞ্চমবারের মতো এ আয়োজন।
পূর্ববর্তী আয়োজনে ১৫০টির বেশি কোম্পানি, ৫৪ জন বিশিষ্ট বক্তা ও অতিথি এবং প্রায় ১ হাজার ৮০০ দর্শনার্থী অংশ নেন বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউএস স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অ্যাডমিনিস্ট্রেটর কেলি লফলার ক্ষুদ্র ব্যবসা ও উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তার অংশগ্রহণও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের প্রতি গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল বাংলাদেশি-আমেরিকান বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশ-ইউএস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এবং গ্রেটার নিউইয়র্ক চেম্বার অব কমার্সের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের জন্য মার্ক জ্যাফে ও অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানান। ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি সংখ্যায় তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, শিক্ষা, ব্যবসা ও কমিউনিটি উন্নয়নে তাদের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। তিনি ফজলুর রহমান খান, সালমান খান, জাভেদ করিম, ড. আবুল হুসাম, আবদুস সাত্তার খান, ড. এম. জাহিদ হাসান এবং সৈয়দ জাকি হোসাইনের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাফল্যের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং উল্লেখ করেন যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। একই সঙ্গে বাংলাদেশও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ করছে। তিনি এই এক্সপোকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে উল্লেখ করেন।
গ্রেটার নিউইয়র্ক চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মার্ক জ্যাফে তার বক্তব্যে চেম্বারের ২৫ বছরের ‘চেম্বার বিজনেস এক্সপো’ আয়োজনের অভিজ্ঞতা এবং গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশ-ইউএস চেম্বারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই এক্সপো বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরির পাশাপাশি বড় ব্যবসা ও ছোট এবং উদীয়মান ব্যবসাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
মেলায় বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাংলাদেশি-আমেরিকান ব্যবসায়ী, বাংলাদেশি ব্যবসায়ী এবং ভারত, চীন, নেপাল, পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা মেলা ও সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। এর ফলে বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ এবং নতুন ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়।
মেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ ছিল বিজনেস-টু-বিজনেস ম্যাচমেকিং কার্যক্রম। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা সম্ভাব্য ক্রেতা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়িক অংশীদার ও সেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পান। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পণ্য ও সেবা উপস্থাপন, নতুন বাজার সম্পর্কে ধারণা নেওয়া, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পায়।
মেলায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার ও ব্যবসায়িক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট, ব্যাংকিং, ফাইন্যান্স অ্যান্ড রেমিট্যান্স ফোরাম ২০২৬’, যেখানে বিনিয়োগ, ব্যাংকিং, অর্থায়ন ও রেমিট্যান্স খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কৌশলগত সোর্সিং ও সাপ্লাই চেইন, অনাবাসী বাংলাদেশি বিনিয়োগ এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ‘আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক শ্রেষ্ঠত্ব পুরস্কার ২০২৬’। ব্যবসা, উদ্যোক্তা কার্যক্রম, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ছয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
তারা হলেন- সৈয়দ জাকি হোসাইন: সমাজসেবী ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, মডার্ন প্যাকেজিং ইনক, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র। লিয়াকত হোসাইন: প্রতিষ্ঠাতা, অ্যাডভান্সড ফার্মাসিউটিক্যালস ইনক, যুক্তরাষ্ট্র। আবুবকর হানিফ: চেয়ারম্যান ও চ্যান্সেলর এবং প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পিপলএনটেক। কাজী হেলাল আহমেদ: প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন, যুক্তরাষ্ট্র। গোলাম ফারুক ভূঁইয়া: প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, জিএফবি গ্রুপ, যুক্তরাষ্ট্র। ড. আরিফুর রহমান: চেয়ারম্যান, প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি, ঢাকা, বাংলাদেশ।
এই এক্সপোতে বাংলাদেশি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য ও সেবা আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের ক্রেতা, ব্যবসায়িক অংশীদার, বিনিয়োগকারী, পেশাজীবী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পায়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যবসা ও পণ্যের জন্য নতুন বাজার সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও বাংলাদেশ ট্রেড ফেয়ার উদ্বোধন
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন
২ ঘন্টা আগে
১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার), ২০২৬, ৫ঃ২৫ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
