লংমার্চের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির, নজরও রাখছে

সহযোগীদের খবর

লংমার্চের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির, নজরও রাখছে

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

‘লংমার্চের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির, নজরও রাখছে’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চসহ ধারাবাহিক কর্মসূচির ওপর নজর রাখছে বিএনপি। পাশাপাশি বিরোধী দলের এমন কর্মসূচির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, সংসদে ও রাজনৈতিক বক্তব্যে জবাব দিলেও তাঁরা বিরোধী দলের এসব কর্মসূচিকে এখনই বড় কোনো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করছেন না। পাল্টা কোনো কর্মসূচির কথাও ভাবছেন না।

বিএনপির নেতাদের ভাষ্য, সরকারে থেকে বিরোধীদের কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার চেয়ে সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সরকার সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। তবে দলের নেতাদের একটি অংশ মনে করেন, জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে বিরোধীরা ধারাবাহিকভাবে মাঠে থাকলে তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

জ্বালানি, বিদ্যুৎ–সংকটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে জামায়াতের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলো মাঠের কর্মসূচি পালন করছে। লংমার্চসহ এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে তারা। বিপরীতে বিএনপির কোনো পাল্টা কর্মসূচি নেই। এ অবস্থায় বিরোধীদের তৎপরতাকে ক্ষমতাসীন দল কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, সেই প্রশ্নও রাজনৈতিক মহলে উঠেছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচিকে গণতান্ত্রিক চর্চার একটা অংশ হিসেবে দেখছি। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করার অধিকার সবার আছে। আমরা এটাকে সেভাবেই দেখছি, এর বেশি কিছু না।’

তবে বিএনপির এই অবস্থানকে ভিন্নভাবে দেখছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিরোধী দলের কর্মসূচিকে গুরুত্ব না দিলে কি সংসদে প্রতিক্রিয়া দেয়? আমরা মনে করি, সরকারি দলের পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার ক্যাপাসিটি নেই, বিএনপির আগের সেই নৈতিক অবস্থানও নেই।’

জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকটের সমাধান, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে জামায়াতের নেতৃত্বে ১১–দলীয় জোট ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ করে। আজ জোটের রংপুর অভিমুখে লংমার্চ। পর্যায়ক্রমে খুলনা, সিলেটসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহর অভিমুখেও একই কর্মসূচি করার ঘোষণা রয়েছে জোটের।

এর আগে প্রথম দফা লংমার্চের বিভিন্ন পথসভা থেকে সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধী দলের নেতারা। একাধিক পথসভায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, দেশে বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, জ্বালানি তেল নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। চারদিকে নাই আর নাই শব্দ। ফেনীর মহিপালের পথসভায় সরকারকে আরও সরাসরি আক্রমণ করে তিনি বলেন, এ সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কারও চোখরাঙানি সহ্য করব না। আমরা যেখানে বাধা পাব, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’

বিরোধীদের এসব বক্তব্য ও কর্মসূচির প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি এখন পর্যন্ত সংসদ ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যেই সীমিত থাকছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও লংমার্চের উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

জ্বালানিসংকটের সমাধানে লংমার্চ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেন, ‘আমরা দেখলাম, একটি বিশাল গাড়ির লংমার্চ আয়োজন করা হয়েছিল। বাইরে বিভিন্ন মানুষ একটি কথা বলে যে জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কি না? গাড়ির লংমার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করাই যেত, তাহলে আমরাই সবচেয়ে আগে লংমার্চের আয়োজন করতাম।’

সরকারি দলের অন্য নেতারাও বিরোধীদের লংমার্চের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের বক্তব্যে মূলত এই কর্মসূচির যৌক্তিকতা, জ্বালানিসংকটের বাস্তবতা এবং সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়গুলো সামনে আসছে।

পাল্টা কর্মসূচির প্রয়োজন দেখছে না বিএনপি

বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতারা বলছেন, বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচির কারণে এখনই এমন কোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন না, যার জন্য দলকে পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে হবে। বিরোধীদের কর্মসূচি নজরে রাখলেও রাজপথে একই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে জবাব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তাঁরা অনুভব করছেন না।

দলটির নেতাদের মতে, কর্মসূচি পালন বিরোধী দলের রাজনৈতিক অধিকার। তবে কোনো কর্মসূচির মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে সরকার সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। ফলে আপাতত সরকারি কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে বিরোধীদের মোকাবিলার কৌশলেই থাকছে বিএনপি।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে রাজনৈতিক কর্মীদের অনেকে মনে করছেন, বিরোধীদের কর্মসূচিকে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে না ক্ষমতাসীন দল। দলটির নেতাদের একটি অংশেরও বক্তব্য, ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির রাজনৈতিক অগ্রাধিকার বদলেছে। প্রায় দুই দশক বিরোধী রাজনীতিতে থাকার সময় রাজপথের আন্দোলন ছিল দলের প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার। এখন সরকার পরিচালনাই প্রধান দায়িত্ব। তাই বিরোধীদের কর্মসূচির জবাবে একই ধরনের কর্মসূচিতে যাওয়ার তাগিদ নেই।

তবে দলের ভেতরেই কেউ কেউ মনে করেন, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের মতো জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে বিরোধীরা নিয়মিত কর্মসূচি দিতে থাকলে সরকারের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা জনগণের কাছে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন হতে পারে।

সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়েও আলোচনা

বিরোধী দলগুলো যখন ধারাবাহিক কর্মসূচিতে মাঠে রয়েছে, তখন বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা অনেকটাই সীমিত। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আলোচনা থাকলেও মাঠপর্যায়ে দলীয় প্রস্তুতির বড় কোনো কর্মসূচি এখনো দৃশ্যমান নয়। সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেউ নিজেদের উদ্যোগে এলাকায় সক্রিয় আছেন। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে দলীয় কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠ গোছানোর তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

ক্ষমতায় আসার পর দলীয় সংগঠন কতটা সক্রিয় রয়েছে, সেই প্রশ্নও বিএনপির সামনে আসছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বড় অংশ ব্যস্ত মন্ত্রিসভা, সংসদ ও প্রশাসনিক কাজে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিকভাবে বিএনপি কতটা সক্রিয় হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিরোধী দলগুলো নিয়মিত কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক উপস্থিতি জানান দেওয়ায় ক্ষমতাসীন দলের সাংগঠনিক তৎপরতার বিষয়টিও আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘নিষিদ্ধ দল ঠেকাতে ব্যাপক তৎপরতা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছুটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার জন্য গোপন তৎপরতা চালাচ্ছে-এমন তথ্যে তৎপর হয়ে উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সবগুলো বিভাগ। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা। গুলশানে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের একটি বড় ধরনের ঝটিকা মিছিল সরকারকে ভাবিয়ে তুলেছে। গোয়েন্দারাও ওই মিছিলের বিষয়ে আগাম কোনো তথ্য জানতে পারেননি।

এ কারণে মিছিলটি ঘিরে আওয়ামী লীগের গোপন বা প্রকাশ্যে যে কোনো কার্যক্রম নিয়ে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে। নিষিদ্ধ দলটির মিছিল ঠেকাতে ব্যর্থতার দায়ে এরই মধ্যে গুলশান জোনের ডিসি ও থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঠিক একই সময়ে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি রাকিবুল হাসান সম্প্রতি এক কথোপকথনে স্পষ্ট দাবি করেন, ‘আওয়ামী লীগ আবার ফিরবে, আওয়ামী লীগ এলে কিছুই হবে না, সব ঠিক হয়ে যাবে। ডিসেম্বর দেরি হয়ে গেছে, এই মাসেই শেখ হাসিনার আসা উচিত ছিল। শেখ হাসিনা ফিরলে পুলিশ কিছুই করতে পারবে না।’

অনেকের মতে, পেছন থেকে আওয়ামী লীগের বড় ধরনের সহায়তা ছিল বলেই পদে বসে ওই ওসি এমন দেশবিরোধী আলোচনা করতে পারেন। তাই রাকিবকে নিয়েও চলছে সরকারের নানামুখী তদন্ত। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে সক্রিয় করার নেপথ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চ বা মাঝারি পর্যায়ের একটা অংশের মদদ থাকতে পারে বলে এতদিন যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল; একাধিক ঘটনায় তা কিছুটা প্রকাশ হওয়ায় এর নেপথ্য কারণ বের করার চেষ্টা করছে সরকার। এজন্য নজর রাখা হচ্ছে বিতর্কিত পুলিশের কর্মকাণ্ডের ওপর।

২০০৯ থেকে ২০২৪-আওয়ামী আমলের সাড়ে ১৫ বছরের দলীয়করণের জের ধরে প্রশাসনের ভেতরে এখনো কিছু অদৃশ্য নেটওয়ার্ক রয়ে গেছে, যা আওয়ামী লীগকে গোপনে ইন্ধন জোগাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে যে কোনো গোপন আঁতাত ও অপতৎপরতা ঠেকাতে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। অশুভ রাজনৈতিক তৎপরতা এবং যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখে দিতে ছক আঁকছে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সূত্র জানায়, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে থাকা এবং দেশ-বিদেশে পলাতক নেতাকর্মীরা মাঠে নামার গোপন ছকের অংশ হিসাবে মাঝে মধ্যেই ঝটিকা মিছিল ও গোপন আস্তানায় মিটিং করছে। এসব ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানে না, ঠিক এমনটি নয়। বরং কোনো কোনো ঘটনায় তাদের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে মিছিল বের করারও তথ্য সামনে আসছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ১১ সেপ্টেম্বর দিনের বেলায় কূটনৈতিক জোন গুলশানে ঝটিকা মিছিলটি করার আগে মিছিলকারীরা গুলশান থানা পুলিশের বেশ কয়েকজনের সহায়তা পেয়েছিলেন। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের গোপন চ্যাট বক্সের স্ক্রিন শট থেকে জানা যায়, মিছিলের আগের রাতেই পরের দিনের কর্মসূচি ঠিক করা হয়। গুলশান থানা পুলিশের আশ্বাসও পায় তারা। সে মোতাবেক মিছিল যখন বের করা হয় তখন সড়কে কোনো পুলিশ সদস্য বা দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ছিলেন না। ফলে নির্বিঘ্নে মিছিলটি বের করার সুযোগ পায় তারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি কেবল গুলশানের মিছিলের ক্ষেত্রেই ঘটছে তা নয়, রাজধানীসহ সারা দেশেই এভাবে ভেতরে ভেতরে ফ্যাসিস্টদের দোসর পুলিশ নানাভাবে নিষিদ্ধ দলটিকে সহায়তার চেষ্টা করছে।

জানা গেছে, আওয়ামীপন্থি পুলিশের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা দেশ থেকে পালিয়ে বিদেশে আশ্রয় নিয়ে নানাভাবে পুলিশ বাহিনীকে সরকারের বিরুদ্ধে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান ও চাকরিচ্যুত অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম পুলিশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য জুলাই আন্দোলনে পুলিশ হত্যা কার্ড নিয়ে খেলছেন। আন্দোলনে দেড় হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা ও কয়েক হাজার আন্দোলনকারীকে পঙ্গু করে দেওয়া বিষয়টি চেপে গিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে পেশাগত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সম্প্রতি বিদেশে বসে দাবি করে তিনি জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন।

তার দাবি, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর সমর্থন থাকা রাজনৈতিক দলকে কেবল নিষেধাজ্ঞা বা পুলিশি শক্তি দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ২০২৪ সালের সহিংসতায় কোনো হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়া এবং কিছু থানা ও স্থাপনা আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের নিচের পর্যায়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক কাজ করছে বলে তথাকথিত একটি টক শোতে যুক্ত হয়ে মনিরুল ইসলাম দাবি করেন। তিনি বলেন, পুলিশ যখন কেবল ঝটিকা মিছিল ও রাজনৈতিক নেতাকর্মী আটক করতে তাদের ৯০ শতাংশ মনোযোগ দিচ্ছে, তখন দেশের ক্রাইম কন্ট্রোল ও জঙ্গিবাদবিরোধী কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে। তার এ ধরনের বক্তব্যে পুলিশে থাকা আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তাদের উসকে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এতে কিছুটা উৎসাহ পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তারা বলছেন, মনিরুলদের এ ধরনের উসকানিমূলক কথাবার্তায় পুলিশ বাহিনীতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি বাহিনীর কাজের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এদিকে শুক্রবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, পতিত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে এলে তাকে হাতকড়া দিয়ে রিসিভ করা হবে। বাংলাদেশের মানুষের ওপর যে মানবতাবিরোধী আচরণ করেছে, তার বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে।

কালের কণ্ঠ

‘এবার ডেঙ্গু বেড়েছে ৫২ জেলায়’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, চলতি বছর দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়েছে ৬৪ জেলায়। এর মধ্যে ৫২ জেলায় সংক্রমণ বেড়েছে, কমেছে ১২ জেলায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গত বছর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় দক্ষিণাঞ্চলের বরগুনা ছিল ডেঙ্গুর সবচেয়ে বড় হটস্পট। এবার সেই জায়গা নিয়েছে খুলনা। শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল নয়, ময়মনসিংহ, পাবনা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম এবং উত্তরাঞ্চলের একাধিক জেলায়ও দ্রুত বাড়ছে রোগী।

কোথাও এক বছরে রোগী বেড়েছে ২৩ গুণের বেশি, কোথাও ১০ থেকে ১৪ গুণ। গোপালগঞ্জে গত এক বছরে রোগী বেড়েছে প্রায় ২৩.৪ গুণ। এরপর রয়েছে দিনাজপুর, খুলনা, বাগেরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর।

চলতি বছর গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৫৯ হাজার ১৪৭ জন ও মৃত্যু ১৭৬ জনের। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু রোগী ছিল ৪০ হাজার ৪৬১ জন। এ সময় মৃত্যু ১৬৭ জনের। অর্থাৎ এক বছরে রোগী বেড়েছে ৪৬.২ শতাংশ, মৃত্যু বেড়েছে ৫.৪ শতাংশ।

পরিস্থিতি বিবেচনায় সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের শুরুতে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা করছে সরকার।

একই সময় অন্তত ১৫ জেলায় সংক্রমণ আরো বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ডেঙ্গুর এই পরিবর্তিত মানচিত্র বলছে—সংক্রমণ এখন কোনো একক শহর বা অঞ্চলের মধ্যে আটকে নেই। এক বছরের ব্যবধানে হটস্পট বদলে যাচ্ছে। এ জন্য নজরদারি, মশক নিয়ন্ত্রণ ও হাসপাতাল প্রস্তুতির কৌশলও বদলানো প্রয়োজন।

কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার কালের কণ্ঠকে বলেন, কোনো এলাকায় যদি এডিস মশার ঘনত্ব ও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা—দুটিই বেশি থাকে, তাহলে সংক্রমণ দ্রুত বাড়ে। অক্টোবরের সম্ভাব্য বিস্তার ঠেকাতে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও তথ্য-প্রমাণভিত্তিক প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

তিনি বলেন, ঢালাও মশক নিধন অভিযান চালিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। কোথায় মশার প্রজনন বেশি হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্টভাবে প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে।

প্রকোপ বেড়েছে যেসব জেলায়: খুলনায় গত বছর ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রোগী ছিল ৪০১ জন। এক বছর পর তা বেড়ে হয়েছে পাঁচ হাজার ৩৫৩ জন। অর্থাৎ রোগীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৩.৪ গুণ।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আরো কয়েকটি জেলায় একই চিত্র। বাগেরহাটে ১১৯ থেকে রোগী বেড়ে এক হাজার ৫৫৯ জন, ঝালকাঠিতে ২৮৩ থেকে বেড়ে এক হাজার ৭২৯ জন, পিরোজপুরে ৬৮৬ থেকে বেড়ে দুই হাজার ১৩৪ জন হয়েছে। গোপালগঞ্জে গত বছর ডেঙ্গু রোগী ছিল মাত্র ২১ জন। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৯২ জন।

দিনাজপুরে ১৬ জন থেকে বেড়ে রোগী হয়েছে ২৩৪ জন। কুড়িগ্রামে ১৪ থেকে বেড়ে ১৭২ জন, রংপুরে ৪৮ থেকে ৫৫০ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৩ থেকে ১১৬ জন হয়েছে। এর বাইরে কুড়িগ্রামসহ চার জেলায় সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। কুড়িগ্রামে ১৪ জন থেকে বেড়ে হয়েছে ১৭২ জন, যা ১২ গুণ বেশি। রংপুরে ৪৮ জন থেকে বেড়ে ৫৫০ জন, মুন্সীগঞ্জে ১২৫ জন থেকে বেড়ে এক হাজার ৩০ জন হয়েছে। ময়মনসিংহে ৪৫১ জন থেকে দুই হাজার ৩৫১ জন হয়েছে। এ ছাড়া নীলফামারীতে ৫৯ থেকে ২১৮ জন, গাইবান্ধায় ৫৫ থেকে ১৬৭ জন হয়েছে।

ঢাকা মহানগরে গত বছরের এই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিল ১০ হাজার ২৭৯ জন। এ বছর এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ৮৮০ জন হয়েছে। গাজীপুরে এক হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে হয়েছে দুই হাজার ১৭৫ জন। নারায়ণগঞ্জে ৫৯৪ থেকে এক হাজার ৪২৪ এবং নরসিংদীতে ৪০৫ থেকে ৯৫৬ জনে পৌঁছেছে।

যেসব জেলায় কমেছে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরের বাইরে ঢাকা জেলাসহ ১২ জেলায় ডেঙ্গু রোগী কমেছে। ঢাকায় গত বছরে একই সময় আক্রান্ত ছিল ১৪৪ জন, এ বছর ৯৯ জন। শরীয়তপুরে ৫০৪ থেকে কমে হয়েছে ২৮৬ জন, কুমিল্লায় এক হাজার ২৬৭ থেকে কমে এক হাজার ৫৭ জন। চাঁদপুরে এক হাজার তিনজন থেকে কমে হয়েছে ৭৮০ জন, লক্ষ্মীপুরে ২৪৩ জন থেকে কমে ১৮৪ জন। মেহেরপুরে ১৮৯ জন থেকে কমে হয়েছে ১২৭ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক হাজার ৪১২ থেকে হয়েছে এক হাজার ৩৪ জন, বরিশালে দুই হাজার ১০৩ জন থেকে কমে হয়েছে এক হাজার ৫৮৫ জন। পটুয়াখালীতে এক হাজার ৮৪১ জন থেকে কমে হয়েছে এক হাজার ১৯৫ জন। বরগুনায় ছয় হাজার ৫৭৮ জন থেকে কমে হয়েছে এক হাজার ১০২ জন। মাদারীপুরে ৬০৫ জন থেকে কমে হয়েছে ৫৯৯ জন।

ডেনভি-৩-এর দাপট: এ বছর ডেঙ্গুর সংক্রমণে ডেনভি-৩-এর আধিপত্য স্পষ্ট। আইইডিসিআরের নমুনা বিশ্লেষণে ৭১টি নমুনার ৯১.৫ শতাংশে ডেনভি-৩ পাওয়া গেছে। বাকি ৮.৫ শতাংশ নমুনায় ছিল ডেনভি-২।

বাংলাদেশে ডেঙ্গুর চারটি ধরন—ডেনভি-১, ডেনভি-২, ডেনভি-৩ ও ডেনভি-৪ সক্রিয় রয়েছে।

আইইডিসিআরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে রেকর্ডসংখ্যক তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। মৃত্যু এক হাজার ৭০৫ জনের। ওই বছর মৃত্যুহার ছিল ০.৫৩ শতাংশ। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে তা কমে যথাক্রমে ০.৪৯ ও ০.৩৪ শতাংশে নামে। চলতি বছর ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৃত্যুহার ছিল ০.২৮ শতাংশ। পরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ০.২৯ শতাংশে।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘পাঁচ বছরের মধ্যে এখন সর্বোচ্চ কারাবন্দি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান চলছে। প্রতিদিন গড়ে এক-দেড় হাজার আসামিকে গ্রেপ্তার করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব আসামিকে পাঠানো হচ্ছে কারাগারে। এতে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বন্দি এখন কারাগারে। ধারণক্ষমতার আড়াই গুণ বন্দি রয়েছে কারাগারে।

তবে কোনো কোনো কারাগারে ধারণক্ষমতার পাঁচ থেকে সাত গুণ বন্দিও রয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে কারাগারে বন্দির সংখ্যার রেকর্ড হয়েছে চলতি মাসে। বর্তমানে কারাবন্দির সংখ্যা এক লাখ পাঁচ হাজার ১২৩ জন। এর আগে গত ২০২৫ সালে কারাগারে সবচেয়ে বেশি বন্দি ছিল ডিসেম্বর মাসে। সেই সংখ্যা ছিল ৮৩ হাজার ৭১৯। ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ বন্দি ৭৫ হাজার ৯৫৮ জন ছিল জানুয়ারিতে, ২০২৩ সালের নভেম্বরে সর্বোচ্চ ৮৬ হাজার ৩০৬ জন, ২০২২ সালের অক্টোবরে ৮৭ হাজার ১৭৩ জন এবং ২০২১ সালে সর্বোচ্চ জানুয়ারিতে ৮৯ হাজার ৯১৪ জন বন্দি ছিলেন।

কারা কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠাচ্ছে। এ ছাড়া মাদকের বন্দির সংখ্যাও বাড়ছে। আগে যেখানে ২০-২২ শতাংশ ছিল এখন সেটা বেড়ে প্রায় ৩২ শতাংশ হয়েছে। এতে বন্দির চাপ বাড়ছে কারাগারগুলোতে।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের পতনের পর দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হত্যা, গুম, হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একের পর এক বিশেষ অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। চলতি বছরেও এসব অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ব্যবসায়ী, জুয়াড়ি ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে 'এস ড্রাইভ' শুরু করে সিএমপি। এপ্রিলে এক সপ্তাহে দুটি হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের পর রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বিশেষ অভিযান চালায় ডিএমপি। এর আগে ২০২৫ সালে 'অপারেশন ডেভিল হান্ট', সুন্দরবনে দুটি বিশেষ অভিযান, পদ্মার চরাঞ্চলে 'অপারেশন ফার্স্ট লাইট' এবং ডিসেম্বরে 'অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২' পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্যমতে, সবশেষ গত ১ মে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান শুরু হয়। চাঁদাবাজি, মাদক, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত এ অভিযানে গত ২৬ আগস্ট পর্যন্ত ৫৩ হাজার ৫১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কারা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মাসে বন্দির সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর দেশের ৭৬টি কারাগারে ছিলেন এক লাখ চার হাজার ৬১৭ জন, যেখানে ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৮৬ জন। বন্দির সংখ্যার হিসেবে এটি পাঁচ বছরের মধ্যে রেকর্ড। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৭৩২ জন, নারী তিন হাজার ৮৮৫ জন।

কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার প্রায় আড়াই গুণ বন্দি রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি বন্দি কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। চার হাজার ৫৯০ জনের ধারণক্ষমতার কারাগারটিতে বন্দি রয়েছেন ১৩ হাজার ৯৮৭ জন, যা ধারণক্ষমতার তিন গুণ। তবে সবচেয়ে বেশি বন্দির চাপ শেরপুর জেলা কারাগারে। ১০০ জন ধারণক্ষমতা থাকলেও বন্দি রয়েছেন ৭৪৬ জন। ধারণক্ষমতার প্রায় সাত গুণ বন্দি রয়েছেন সেখানে।

কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে বিভিন্ন অপরাধের বন্দি ছাড়াও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ও অন্যান্য সংগঠনের আসামিদেরও রাখা হয়েছে।

ইত্তেফাক

‘মানহীন ছাপা, পাঠ্যবইয়ের কোটি ফর্মা বাতিল’—এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ২০২৭ সালের জন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বিনা মূল্যের ৩০ কোটি ৬১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১ কপি পাঠ্যবই ছাপাতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ১৩৩টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। বই মুদ্রণে গতবারের চেয়ে এবার খরচ বাড়ানো হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। আবার সিন্ডিকেট করে প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ১০০ কোটি টাকা বেশি দর দিয়েছে ছাপাখানাগুলো। সব মিলিয়ে এবার পাঠ্যবই ছাপাতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা! তারপরও অধিক মুনাফার লোভে রাতের আঁধারে নিম্নমানের পাঠ্যবই ছাপানোর হিড়িক পড়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘মিনিস্ট্রি টিম’, এনসিটিবির পরিদর্শন টিম ও ইন্সপেকশন এজেন্ট সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শন করে ৫২ ছাপাখানার প্রাথমিকের নিম্নমানের পাঠ্যবইয়ের ১ কোটির বেশি ফর্মা কেটে বিনষ্ট করেছে। ফর্মা মিসিং, ডাবল ফর্মা, আলট্রা ভার্নিশ না করা, বাঁধাইয়ে ত্রুটি ও নিম্নমানের কালি ব্যবহারের চিত্রও হাতেনাতে ধরা পড়েছে। বই দেখতে ঝাপসা, কাগজ খসখসে, ছাপা লেপ্টে যাওয়ার ঘটনা যাতে আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য সতর্ক করা হয়েছে ছাপাখানাগুলোর মালিকদের। কয়েকটি ছাপাখানা পাঠ্যবইয়ের প্রথম কয়েকটি পৃষ্ঠায় ভালো মানের কাগজ ব্যবহার করেছে, ভেতরে পৃষ্ঠাগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে মানহীন কাগজ। সংশ্লিষ্ট সূত্র ইত্তেফাককে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, গত বুধবার মোল্লা প্রেস এন্ড পাবলিকেশন এবং অটো প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং ছাপাখানায় সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে নিম্নমানের পাঠ্যবই হাতেনাতে ধরে ‘মিনিস্ট্রি টিম’। এই দুই ছাপাখানা পঞ্চম শ্রেণির সমাজ বিজ্ঞান বইয়ের মানচিত্রের কালার পরিবর্তন করে। মানচিত্রের পাশের লেখাগুলো একেবারেই অস্পষ্ট। এ কারণে এসব বই কেটে বিনষ্ট করেছে মিনিস্ট্রি টিম ও ইন্সপেকশন এজেন্ট। একই সঙ্গে মিনিস্ট্রি টিম পাঠ্যবই ছাপাতে ব্যবহার করা নিম্নমানের প্রচুর পরিমাণ কালি এই দুই ছাপাখানাস্থল থেকে জব্দ করে ড্রেনে ফেলে বিনষ্ট করেছে। পরদিন বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এনসিটিবিতে যান। এ সময় মোল্লা প্রেস এন্ড পাবলিকেশন এবং অটো প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক মিন্টু মোল্লাকে এনসিটিবিতে তলব করা হয়। নিম্নমানের কালি ব্যবহার করে পাঠ্যবই ছাপানোর জন্য মিন্টু মোল্লার কাছে ‘ধমকের সুরে’ ব্যাখ্যা চান শিক্ষামন্ত্রী। তখন ভবিষ্যতে আর ভুল কিংবা অনিয়ম করবেন না প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমা চান মিন্টু মোল্লা। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মিন্টু মোল্লা গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, সামান্য কিছু পাঠ্যবইয়ে ত্রুটি ছিল। সেগুলো পুনরায় ছাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে রেদওয়ানিয়া প্রেস এন্ড পাবলিকেশনে গিয়ে নিম্নমানের পাঠ্যবই হাতেনাতে ধরেছে মিনিস্ট্রি টিম ও এনসিটিবির ইন্সপেকশন এজেন্ট। নিম্নমানের বইগুলো কেটে ফেলা হয়। লেটার এন্ড কালার ছাপাখানাও নিম্নমানের পাঠ্যবই ও ‘এসো লিখতে শিখি’ খাতা ছাপিয়েছে। এগুলো জব্দ করে কাটা হয়েছে। ফরাজি প্রেসের নিম্নমানের পাঠ্যবই সরেজমিনে গিয়ে জব্দ করে মিনিস্ট্রি টিম। এ সময় বড় একটি ছাপাখানার মালিক ফরাজি প্রেসে গিয়ে নিম্নমানের বই কাটতে বাধা দেন। এতে মিনিস্ট্রি টিম ক্ষুব্ধ হয়।

এনসিটিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, অধিকাংশ ছাপাখানা পাঠ্যবইয়ের ফর্মা মিসিং, ডাবল ফর্মা, আলট্রা ভার্নিশ না করা, বাঁধাইয়ে ত্রুটি ও নিম্নমানের কালি ব্যবহার করেছে। যা তদন্তে ধরা পড়েছে। অনেক ছাপাখানার কাটিংও নিম্নমানের। সব মিলিয়ে অধিকাংশ ছাপাখানা দরপত্রের শর্ত মানছে না। বড় কোম্পানির কাগজ মিলের সরবরাহকৃত কাগজ বেশির ভাগ ছাপাখানা ব্যবহার করছে না। ছোট ছোট কাগজ কল থেকে কম মূল্যে কাগজ কিনে পাঠ্যবই ছাপানোর দিকে ঝুঁকেছে অধিকাংশ ছাপাখানা।

ইন্সপেকশন কোম্পানির প্রধানকে হুমকি: এনসিটিবির প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই ইন্সপেকশনের কাজ পেয়েছে ইনফিনিটি সার্ভে অ্যান্ড ইন্সপেকশন (বিডি)। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সিরাজীম মুনিরকে ম্যানেজ করে নিম্নমানের কাগজ অনুমোদন করাতে না পেরে তাকে জীবননাশের হুমকি দিয়েছেন নিম্নমানের কাগজ সাপ্লাইকারী দুই জন। প্রসঙ্গত, পাঠ্যবই ছাপানোর আগে কাগজের অনুমোদন নিতে হয়। ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে এই অনুমোদন দেয় এনসিটিবির ইন্সপেকশন এজেন্ট।

বণিক বার্তা

দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘সন্দেহজনক ভ্রমণে বিমানবন্দর থেকে ফেরত ৮১,৫০০ বিদেশগামী’। প্রতিবেদনে বলা হয়,ইমিগ্রেশন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে বিদেশযাত্রা বাতিল বা ফেরত পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভিসা জালিয়াতি ও অবৈধ অভিবাসনের ঘটনায় অন্তত ২৩টি দেশের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছেও গন্তব্যে যেতে পারছেন না হাজার হাজার বাংলাদেশী। ভিসা এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ক্লিয়ারেন্সে অসংগতি, জাল কাগজপত্র, ভিসার শর্তভঙ্গ কিংবা ইমিগ্রেশনে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তথ্যের গরমিলসহ নানা কারণে আটকে যাচ্ছে তাদের বিদেশযাত্রা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের শ্রমবাজার বন্ধ বা সীমিত থাকার পরও বিকল্প পথে প্রবেশের চেষ্টা ধরা পড়ছে।

পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ বছরে দেশের বিমানবন্দর থেকে মোট ৮১ হাজার ৫০০ যাত্রীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে ২ কোটি ৯১ লাখের বেশি বিদেশে গেছেন। অর্থাৎ একদিকে বিদেশে কর্মসংস্থানসহ নানা কাজের জন্য বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী প্রতি বছর দেশ ছাড়ছেন, অন্যদিকে তাদের একটি অংশ বিমানবন্দরের শেষ ধাপেই আটকে যাচ্ছেন নানাভাবে প্রতারিত হয়ে।

বিদেশ যেতে সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কাউন্টারে আসেন তাসলিমা বেগম (ছদ্মনাম)। দাবি অনুযায়ী, ওমানে থাকা স্বামীর কাছে যাচ্ছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিল বিএমইটি ক্লিয়ারেন্সও। সাধারণ চোখে বিদেশযাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রের ঘাটতি ছিল না। কিন্তু ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার কয়েকটি প্রশ্নেই বদলে যায় পরিস্থিতি। কেননা দেশটিতে বর্তমানে সাধারণ কর্মী ভিসা ও নারী গৃহকর্মী নিয়োগ বন্ধ রয়েছে।

ওমানে স্বামী কত বছর ধরে আছেন—জবাবে তাসলিমা বলেন, প্রায় পাঁচ বছর। এরপর জানতে চাওয়া হয় তাদের বিয়ের সময়কাল। তিনি জানান, তাদের বিয়ে হয়েছে ‘মোবাইলে’। দেখাতে বলা হলে তিনি একটি বিয়ের ছবি উপস্থাপন করেন। কিন্তু নিবন্ধিত নিকাহনামা বা বিয়ের বৈধ কোনো নথি ছিল না তার কাছে।

ছবিটি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করার পর ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সন্দেহ আরো বাড়ে। পর্যবেক্ষণে দেখা যায় ছবিটি ফটোশপ দিয়ে তৈরি। পরবর্তী সময়ে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডিজিটাল রেকর্ড ও আগের নথি অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখতে পান এক অবিশ্বাস্য জালিয়াতি। তাসলিমার স্বামী পরিচয়ে ব্যবহৃত একই স্পাউস ভিসা অনুমোদনপত্র দিয়ে ভিন্ন সময়ে আলাদা পাসপোর্টে মোট পাঁচ নারীকে ওমানে পাঠানোর তথ্য মেলে। এরপর বাতিল করা হয় তার বিদেশযাত্রা।

ইমিগ্রেশন-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বন্ধ থাকা শ্রমবাজারে প্রবেশের চেষ্টা, ভিসা জালিয়াতি ও অবৈধ অভিবাসন এখন বিমানবন্দরে নথি যাচাইয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব ঘটনায় সরকারি সিল, স্বাক্ষর ও বিভিন্ন অনুমোদনপত্র জাল করে তৈরি হচ্ছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। ফলে সেগুলোর পেছনের তথ্য ও ডিজিটাল রেকর্ড যাচাই না করলে জালিয়াতি শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

ইমিগ্রেশন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে বিদেশযাত্রা বাতিল বা ফেরত পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভিসা জালিয়াতি ও অবৈধ অভিবাসনের ঘটনায় অন্তত ২৩টি দেশের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে থাইল্যান্ড, ভারত, মালয়েশিয়া, চীন, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি, পর্তুগাল, পাকিস্তান, মিসর, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, মেক্সিকো, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, লিবিয়া, সাইপ্রাস, সৌদি আরব ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

২০২১ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ বছরে বিভিন্ন ভিসায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী বিদেশ গেছেন। তবে বিমানে ওঠার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্নের পরও ইমিগ্রেশনে এসে নথিপত্রের জটিলতা, মানব পাচারের শঙ্কা, অবৈধ অভিবাসন ও নিরাপত্তার কারণে বহু যাত্রীর বিদেশযাত্রা আটকে যায়।

এসবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মোট ২৬ লাখ ২২ হাজার ৭১১ বাংলাদেশী বিভিন্ন ভিসায় বিদেশে গেছেন। তবে নথিপত্রে অসংগতি কিংবা ইমিগ্রেশনের কড়াকড়ির কারণে এ সময়ে ৭ হাজার ৮১৯ যাত্রীকে বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠানো হয়। এর আগের বছর বিদেশ গমন করেন মোট ৫৭ লাখ ৮ হাজার ১৩২ যাত্রী। একই বছর আবার নানা জটিলতার কারণে বিমানবন্দরে আটকে দেয়া হয় ১৫ হাজার ৫১৬ জনের বিদেশযাত্রা।

বিগত বছরগুলোর মধ্যে ২০২৪ সালে ৬৪ লাখ ২৮ হাজার ৯৩ বিদেশে গমন করেন। এ সময় দেশের বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হয় ১৮ হাজার ৯ জনকে। ২০২৩ সালে রেকর্ড ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৫৩ যাত্রী বিদেশে গেলেও ইমিগ্রেশন পার হতে ব্যর্থ হয়ে ৯ হাজার ৮৭২ জনকে ফেরত আসতে হয়। ২০২২ সালে বিদেশ যান ৫২ লাখ ৯৯ হাজার ৩১৩ যাত্রী। আর এ সময় সর্বাধিক ১৮ হাজার ৭৫৬ জনকে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হয়। ২০ লাখ ৬০ হাজার ৬৮৩ জন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যান ২০২১ সালে। ওই বছর আবার ১১ হাজার ৫২৮ বাংলাদেশীকে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হয় বিভিন্ন কারণে। সব মিলিয়ে সাড়ে পাঁচ বছরে মোট ২ কোটি ৯১ লাখের বেশি বাংলাদেশী বিদেশে গেছেন। এর বিপরীতে নথিপত্রের ত্রুটি ও নিরাপত্তার কারণে মোট ৮১ হাজার ৫০০ জনের যাত্রা বাতিল করা হয় দেশের বিমানবন্দর থেকে।

আজকের পত্রিকা

‘নতুন নামে নেশার সিরাপ: ফেনসিডিলের বিকল্প ঢুকছে ভারত সীমান্ত দিয়ে’—এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ফেনসিডিলের চোরাচালান ঠেকাতে ভারত সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। চলছে নিয়মিত অভিযানও। তারপরও থেমে নেই মাদক চোরাচালান। ফেনসিডিলের বিকল্প হিসেবে এখন সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢুকছে নতুন নতুন নামের ‘কাশির সিরাপ’। কয়েকটি সীমান্ত এলাকা থেকে চলতি বছর ৪-৫ লাখ বোতল সিরাপ জব্দ করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীসহ (বিজিবি) বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এ নিয়ে সম্প্রতি ভারতের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোকে (এনসিবি) চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ওই চিঠিতে সীমান্তের ওপারে ফেনসিডিল ও কোডিনযুক্ত সিরাপের অবৈধ কারখানা এবং মাদক কারবারিদের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বলেন, নতুন নতুন নামের নেশার সিরাপ সীমান্ত দিয়ে পাচার করছে মাদক কারবারিরা। বিষয়টি ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। তারা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ফেনসিডিলের নাম পরিবর্তন করে বিভিন্ন ওষুধের নামে কোডিনযুক্ত সিরাপ বাংলাদেশে পাচার করছে ভারতীয় মাদক কারবারিরা। এর মধ্যে রয়েছে ফেয়ারডিল, এস্কাফ, ব্রোনোকফ সি, উইনকোরেক্স ও চোকো প্লাস। ব্রোনোকফ সি সিরাপে কোডিন ফসফেট থাকার তথ্য ভারতের ওষুধসংক্রান্ত নথিতেও পাওয়া গেছে।

ভারতকে দেওয়া চিঠিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা ভারতের ১০টি এলাকায় অন্তত ৬২টি অবৈধ কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব কারখানায় কোডিনযুক্ত সিরাপ উৎপাদনের তথ্য রয়েছে। এসব কার্যক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে—এমন অন্তত ৩৭৪ জন ভারতীয় নাগরিকের তথ্যও পেয়েছে বাংলাদেশ। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা, নদীয়া ও মালদহ এবং ত্রিপুরার পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চল, সিপাহিজলা, বিলোনিয়া ও শান্তিরবাজারসহ মেঘালয়ের কয়েকটি এলাকায় এসব অবৈধ কারখানা থাকার তথ্য রয়েছে।

সম্প্রতি রাজশাহীর সীমান্তবর্তী এলাকায় চোকো ও এস্কাফ নামে ভারতীয় কাশির সিরাপের বিস্তার নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। স্থানীয় মাদকসেবীদের কেউ কেউ এসব সিরাপকে ফেনসিডিলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বোতলের গায়ে নাম পরিবর্তন হলেও এসব সিরাপে নেশার উপাদান হিসেবে কোডিন থাকছে। আর এ কারণেই এসব সিরাপকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্রোনোকফ সি সিরাপের প্রতি ৫ মিলিলিটারে ১০ মিলিগ্রাম কোডিন ফসফেট এবং ৪ মিলিগ্রাম ক্লোরফেনিরামিন থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘গবেষণা নাকি বাণিজ্য’। প্রতিবেদনে বলা হয়, পিএইচডি মানে শুধু আরও একটি ডিগ্রি অর্জন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বছরের পর বছর গবেষণা, অনিশ্চয়তা আর নিজের কাজকে বারবার প্রশ্ন করার কঠিন প্রক্রিয়া। একটি গবেষণা প্রশ্ন খুঁজে বের করা থেকে শুরু করে বিদ্যমান জ্ঞান যাচাই, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ, গবেষণার নৈতিকতা রক্ষা এবং নতুন জ্ঞান হিসেবে ফল প্রতিষ্ঠা প্রতিটি ধাপেই গবেষককে অতিক্রম করতে হয় কঠোর একাডেমিক পরীক্ষা। গবেষণার ফল প্রত্যাশামতো না আসা, থিসিস বারবার সংশোধন, তত্ত্বাবধায়কের আপত্তি কিংবা নিজের সিদ্ধান্তকে নতুন প্রমাণের মুখে বদলে ফেলা সবই এই পথের স্বাভাবিক বাস্তবতা।

শেষ পর্যন্ত গবেষককে নিজের কাজের মৌলিকত্ব ও নতুন অবদান নিয়ে দাঁড়াতে হয় একাধিক বিশেষজ্ঞের সামনে। তাই পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের পথ যতটা মর্যাদার, ততটাই দীর্ঘ ও কঠিন। অর্থের সংকট, গবেষণার ব্যয়, মানসিক চাপ, ব্যক্তিজীবনের সঙ্গে গবেষণার টানাপড়েন, উপযুক্ত তত্ত্বাবধায়ক না পাওয়া কিংবা গবেষণার গতিপথ বদলে যাওয়ার মতো নানা কারণে অনেকেই এই পথ শেষ করতে পারেন না।

অর্থাৎ একটি মানসম্মত পিএইচডি ডিগ্রির জন্য শুধু একজন শিক্ষার্থী ও একটি বিশ্ববিদ্যালয় যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন শক্তিশালী গবেষণা পরিবেশ, দক্ষ তত্ত্বাবধান, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, অবকাঠামো এবং কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ।

দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পিএইচডি ডিগ্রি চালুর অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ইতিমধ্যে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে ইউজিসি। এ তথ্য জানার পর শিক্ষাসংশ্লিষ্ট গবেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন দেশে যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ডিগ্রি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোতে কি কঠিন মানদণ্ড পূরণের মতো গবেষণা সক্ষমতা তৈরি করেছে, নাকি উচ্চশিক্ষার বাজারে পিএইচডিও পরিণত হতে যাচ্ছে আরেকটি বাণিজ্যিক ডিগ্রিতে।

যদিও ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে একসঙ্গে পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা যাচাই করে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পিএইচডি চালুর জন্য যোগ্যতা ও সক্ষমতার মানদণ্ড নির্ধারণে ইউজিসি কাজ করছে।

তবে শিক্ষাবিদদের আশঙ্কা, শেষ পর্যন্ত ইউজিসির পক্ষে কঠোর অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হবে না। আর্থিক ও রাজনৈতিক চাপসহ নানামুখী কারণে শেষ পর্যন্ত ইউজিসির পক্ষে কেবল নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব নয়। যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়ার পরিবর্তে তখন তদবিরের কারণে নিম্ন যোগ্যতা ও মানহীন বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হতে পারে পিএইচডি ডিগ্রি।

ইউজিসির ২০২২ সালের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী ১০০ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৫টিতে গবেষণা খাতে কোনো অর্থই বরাদ্দ ছিল না; অনেক প্রতিষ্ঠানে এই বরাদ্দ ছিল অত্যন্ত নগণ্য। অন্যদিকে বেসরকারি বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় চলছে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) জুলাই ২০২৬-এর তথ্যচিত্রে দেখা গেছে, দেশের অনুমোদিত ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৯টিতে স্থায়ী উপাচার্য নেই। ৯৬টিতে উপ-উপাচার্য এবং ৪৭টিতে কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) পদ শূন্য।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাবাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সার্টিফিকেট বিক্রি করে টাকা ইনকাম করা কিংবা ঢালাওভাবে নম্বর দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

২২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ২০১৪ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের (টিআইবি) একটি গবেষণা করে। সেই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাকা দিলে মেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা পাসের সনদ। ভুয়া সনদের জন্য ৫০ হাজার থেকে তিন লাখ, নিরীক্ষা করানোর জন্য ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা লেনদেন করতে হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়া এবং নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য উপহার ছাড়াও নগদ অর্থের লেনদেন হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এতে বলা হয়, কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস ও পরীক্ষা না নিয়ে টাকার বিনিময়ে সনদ দিচ্ছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি তিন লাখ করে টাকার বিনিময়ে সনদ দিয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে শাখা ক্যাম্পাস নিষিদ্ধ থাকলেও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪০টি পর্যন্ত শাখা ক্যাম্পাস আছে। ইউনিয়ন পর্যায়েও তাদের শাখা রয়েছে। অর্থাৎ অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে টাকা উপার্জনই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কিন্তু এর মধ্যেও দেশের হাতেগোনা কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ালেখা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুনাম অর্জন করেছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ডিগ্রি চালু করা মানে একটি বিশাল প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দেওয়া। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আমাদের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এরপরও বেসরকারি উচ্চ মানসম্মত হাতেগোনা যে কয়টা বিশ্ববিদ্যালয় আছে, কেবল সেগুলোতে যদি পিএচডির অনুমোদন দেওয়া হয় তা গবেষণার নতুন দিগন্ত খুলতে পারে। কিন্তু এই মান নিয়ন্ত্রণ করবে কে? মান বলতে যদি তথাকথিত মান হয় তাহলে এর ফল ধ্বংসাত্মক হবে। ইউজিসি যদি কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করতে পারে, তাহলে ঠিক আছে, তা না হলে মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে।

আমাদের দেশের আমলাতন্ত্র ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মধ্যে পিএইচডি পিপাসা রয়েছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মজিবুর রহমান। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, নিশ্চয়ই পুরো বিষয়টি শঙ্কার। হার্ভার্ডসহ বিশ্বের অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যদি পিএইচডি ডিগ্রি দিতে পারে, তাহলে আমাদের দেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেন পারবে না এমন প্রশ্ন আসতেই পারে। কিন্তু ‘মূল প্রশ্ন হলো আমরা কি সেই পর্যায়ের ব্যবস্থা ও সক্ষমতা তৈরি করতে পেরেছি? প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কাগজ-কলমে ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও বাস্তবে অধিকাংশেই ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শিক্ষা ও গবেষণা; ডিগ্রি বিক্রি করা নয়। অথচ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একাডেমিক কার্যক্রমের মান ও ডিগ্রি প্রদানের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এগুলো তদারকি, পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করার মতো সক্ষমতা রাষ্ট্রের আছে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।

তিনি বলেন, সরকার বছরের পর বছর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিজস্ব ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন শর্ত পূরণের নির্দেশ দিয়ে আসছে। অনেক ক্ষেত্রেই সেসব বাস্তবায়ন করানো যাচ্ছে না। কোথাও ভর্তি বন্ধের নির্দেশও কার্যকর করা কঠিন হচ্ছে। একই ব্যবস্থার মধ্যে পিএইচডির মতো উচ্চতর গবেষণা কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ কতটা নিরাপদ, সেই প্রশ্ন উঠবেই। পরীক্ষামূলকভাবে এক-দুটি বিশ্ববিদ্যালয়কে সুযোগ দেওয়া হলেও আশঙ্কা থাকে, সেটি ধীরে ধীরে নিয়মিত হয়ে যাবে এবং পরে অন্যরাও একই সুযোগ দাবি করবে।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, এখন আমরা এআই ও প্ল্যাজিয়ারিজমের যুগে আছি। গবেষণা মৌলিক কি না, অন্যের লেখা বা গবেষণা কপি করা হয়েছে কি না এসব যাচাই করবে কে? রাজনৈতিক, প্রশাসনিক বা প্রাতিষ্ঠানিক চাপ এলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একাডেমিক মানদণ্ডে কতটা অটল থাকতে পারবে, সেটিও প্রশ্ন। আমাদের দেশে ভালো ফ্যাকাল্টি অবশ্যই আছেন। কিন্তু কয়েকজন ভালো গবেষক থাকলেই হবে না; প্রয়োজন শক্তিশালী, স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক একটি ব্যবস্থা। সেই ব্যবস্থা তৈরি না করে পিএইচডির দরজা খুলে দেওয়া হলে উচ্চশিক্ষার মান রক্ষার বদলে ডিগ্রির বাণিজ্যিকীকরণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ইউজিসির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত নীতিমালায় এমন কিছু শর্ত রাখা হচ্ছে, যাতে শুরুতে হাতেগোনা কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ই পিএইচডি চালুর সুযোগ পেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এমফিল ও পিএইচডি দেওয়ার সক্ষমতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট ‘ক্রাইটেরিয়া’ রাখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

‘অপ্রতিরোধ্য কিশোর গ্যাং’—এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ধরপাকড়, মামলা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হুঁশিয়ারি-কোনো কিছুতেই থামছে না কিশোর গ্যাং। বরং সময়ের সঙ্গে আরও বেপরোয়া ও হিংস্র হয়ে উঠছে তারা। অস্ত্রের মহড়া, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক কারবার ও হামলার পাশাপাশি এখন নির্মীয়মাণ ভবনে কোটি টাকা চাঁদা দাবিও করছে গ্যাং সদস্যরা। প্রভাবশালী ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের ছত্রছায়ায় এলাকা ভাগ করে চলছে তাদের আধিপত্য। গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে বেরিয়ে আবারও অপরাধে জড়াচ্ছে অনেকে। ফলে অভিযানের পরও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি নেই।

সর্বশেষ ১৫ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিং এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ ভবনে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবিতে হামলা চালায় কিশোর গ্যাং সদস্যরা। প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারী ইমরানকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় ছয়জন গ্রেপ্তার হলেও গ্যাংয়ের অন্য হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। অথচ এর মাত্র দুই দিন আগে মোহাম্মদপুরে এক মতবিনিময় সভায় ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকবে না।’ এরপর সোমবার রাতে পল্লবীর সবুজবাংলা এলাকায় এক গণমাধ্যমকর্মীর বাসায় হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, পল্লবী, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, রমনা, গুলশান, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাংয়ের দাপট রয়েছে। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, খুলনাসহ বিভিন্ন মহানগর ও জেলা শহরেও সক্রিয় এসব গ্রুপ।

পুলিশের তথ্যানুযায়ী, সারা দেশে প্রায় ৪০০ কিশোর গ্যাংয়ের ৪ হাজারের বেশি সদস্য সক্রিয়। এর মধ্যে ঢাকায় ১৫৯ ও চট্টগ্রাম মহানগরে ৯৮টি গ্যাং রয়েছে। খুলনায় ৭, রাজশাহীতে ১৩, সিলেটে ১৫ ও গাজীপুরে ১৩টি গ্রুপ সক্রিয়। জেলা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি নোয়াখালীতে, ২৫টি। ডিএমপির তথ্য বলছে, মোহাম্মদপুরে ল ঠেলা গ্রুপ, আশরাফ গ্রুপ, স্টার বন্ড, ভাইব্বা ল কিং, পাটালী গ্রুপ, লেভেল হাই গ্রুপ, আনোয়ার গ্রুপ, ফরহাদ গ্রুপ, আর্মি আলমগীর ও নবী গ্রুপ, ডাইল্লা গ্রুপ, এলেক্স গ্রুপ, আকবর গ্রুপ, গাংচিল গ্রুপ, চেতালেই ভেজাল, সাব্বির গ্রুপ, পিচ্চি হেলাল গ্রুপ, চার্লি গ্রুপ, টক্কর ল গ্রুপ, ঘুটা দে, লারা দে, মিরাজ গ্রুপ, সুমন গ্রুপ, মাহি গ্রুপ ও বেলচা মনির গ্রুপ অন্যতম। পল্লবীতে সক্রিয় আশিক গ্রুপ, রাজু গ্রুপ, রকি গ্রুপ, পিন্টু-কাল্লু গ্রুপ, রোমান্টিক গ্রুপ, মুসা হারুনের ভাই ভাই গ্রুপ, মুরাদ গ্রুপ, আরমান গ্রুপ, জুম্মান গ্রুপ, বাহাদুর গ্রুপ, বাহবালী গ্রুপ, ৬.৯ ইয়াসিন গ্রুপ, সোহেল গ্রুপ, আসাদ কাল্লু গ্রুপ ও দীপ গ্রুপ। উত্তরার দক্ষিণখানে বিগবস, ইয়ংস্টার গ্রুপ, ব্লাড বয়েজ, উত্তরা পূর্ব থানায় সসুজন গ্রুপ, রাজিব গ্রুপ, খোরশেদ গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। যাত্রাবাড়ীতে ৮টি গ্রুপের শতাধিক সদস্য সক্রিয় রয়েছে। তারা নিয়মিত চাপাতি, রামদা ও সামুরাই নিয়ে নিয়মিত মহড়া দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

গোয়েন্দা সূত্র বলছেন, গ্যাংগুলোর বড় অংশই আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় রয়েছে। অস্ত্রের মজুত, মাদক কারবার ও এলাকা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সমাজমাধ্যমে অস্ত্রের মহড়া ও হামলার ভিডিও ছড়িয়ে নতুন সদস্য সংগ্রহ বা রিক্রুটমেন্ট করা হচ্ছে। অভাব, হিরোইজমের আকাক্সক্ষা, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের ঘাটতি, অসুস্থ বিনোদন, অভিভাবকদের উদাসীনতা, অল্প বয়সে প্রযুক্তির ব্যবহার ও মাদকাসক্তিকে কিশোরদের গ্যাংয়ে জড়ানোর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন উদ্বেগ হয়ে উঠেছে ‘শিশু গ্যাং’। ভাসমান ও বস্তির শিশুদের একাংশ বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সংঘবদ্ধভাবে ছিনতাইয়ে জড়াচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। ডিএমপির এক কর্মকর্তা জানান, মামলায় আসামিদের নামের সঙ্গে ‘কিশোর গ্যাং’ উল্লেখ না থাকায় পরে তাদের অপরাধের ধরন শনাক্তের আলাদা সুযোগ থাকে না। ফলে এখন পর্যন্ত কতজন কিশোর গ্যাং সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাবও নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক, অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এখন মহামারির পর্যায়ে। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে উপসর্গভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’ প্রভাবশালীদের একটি অংশ অর্থনৈতিক স্বার্থে এ সংস্কৃতি জিইয়ে রাখছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তাঁর মতে, ‘১৮ বছরের নিচের আসামিদের বিরুদ্ধে প্রাপ্তবয়স্কদের মতো ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। ফলে মামলার ফাঁকফোকর দিয়ে পৃষ্ঠপোষকদের সহায়তায় অনেকে বেরিয়ে আসে। এসব মামলা আলাদা কাঠামোর আওতায় এনে প্রয়োজনে পৃথক ট্রাইব্যুনাল করতে হবে। পাশাপাশি অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী উন্নয়নকেন্দ্রে পাঠানো এবং গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’