ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতি শেষে ডাকাতদল প্রবাসীর ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে রেখে ছেলের সামনেই তার মাকে (৩২)সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারই করে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চর কালিবাড়ি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় থানা পুলিশ এক জনকে আটক করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে চর কালিবাড়ি এলাকার তাহের উদ্দিনের ছেলে শরীফ (২৩), আরিফ (২১), মমিনের ছেলে ফাহিম (২২), মোফাজ্জলের ছেলে রাজিব (২৩), নূরুল ছেলে এনামুল (২২) এলাকায় চিহ্নিত বখাটে ও মাদকাসক্ত সশস্ত্র যুবক একই এলাকার প্রবাসীর অর্ধেক নির্মাণ করা বাড়িতে প্রবেশ করে প্রবাসীর ছেলের কাছে পানি চায়। প্রবাসীর ১৪ বছর বয়সী ছেলে জগ ও গ্লাস ভর্তি পানি নিয়ে দরজার কাছে আসা মাত্রই ডাকাত দল প্রবাসীর ছেলেকে ধরে ঘরের দরজার কাছেই একটি গাছের সাথে বেঁধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। ডাকাত দল ঘরে প্রবেশ করে প্রবাসীর স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আলমারি ভেঙে বাড়ি নির্মাণের খরচ বাবদ আলমারিতে রাখা নগদ ৫ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ গৃহবধূর গলার হার, কানের দুলসহ ৫ লাখ মূল্যের প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিপত্র লুটে নেয়।
জিনিসপত্র লুট করার পর ডাকাত দলের সদস্যরা ঘরের দরজার সামনে বেঁধে রাখা ছেলের গলায় চাপাতি ধরে তার মাকে দরজার সামনে এনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। রাজিব নামের ডাকাত দলের সদস্য ছেলের সামনে মায়ের সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ভিডিও ধারণ করে এবং প্রবাসীর স্ত্রী ও ছেলেকে হুমকি দেয় আগামী তিন দিনের মধ্যে আরো দুই লাখ টাকা না দিলে এবং এই ঘটনা প্রকাশ করলে ধর্ষণের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল করে দেওয়া হবে।
ডাকাতদল চলে যাওয়ার পর ভুক্তভোগীদের চিৎকারে প্রতিবেশিরা এগিয়ে আসে এবং গফরগাঁও থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে অভিযানে বের হয়। পরে শুক্রবার তিনটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দুরে চর কালীবাড়ি গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে অভিযুক্তদের ঘেরাও করে। অভিযুক্ত ৪ জন পালিয়ে গেলেও রাজিবকে পুলিশ আটক করে। ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করা মোবাইলটি রাজিব পানিতে ফেলে দিলে থানা পুলিশ পানি থেকে মোবাইলটি উদ্ধার করে। গফরগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান সেখ জানান, এ ঘটনায় রাজিব নামে এক জনকে আটক করা হয়েছে। মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলামান। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুতই আসামীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
