৫৬ বছর ধরে চেয়ারম্যান, অবশেষে সেই পদ ছাড়ছেন ওয়ারেন বাফেট

৫৬ বছর ধরে চেয়ারম্যান, অবশেষে সেই পদ ছাড়ছেন ওয়ারেন বাফেট

ফন্ট সাইজ:

দশকের পর দশক বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর গত বছরের শেষ দিকে সেই পদ ছাড়েন ওয়ারেন বাফেট। এবার ১৯৭০ সাল থেকে ধরে রাখা কোম্পানিটির চেয়ারম্যানের পদও ছাড়ছেন তিনি।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯৬ বছর বয়সী বাফেট পরিচালনা পর্ষদে থেকে এখন চেয়ারম্যান এমেরিটাস হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তার ছেলে হাওয়ার্ড বাফেট, যিনি ১৯৯৩ সাল থেকে কোম্পানিটির বোর্ড সদস্য, তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেবেন।

‘ওমাহার ওরাকল’ নামে পরিচিত বাফেট মূল্য বিনিয়োগের নিজস্ব তত্ত্ব প্রয়োগ করে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়েকে বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান কোম্পানিতে পরিণত করেছেন। তিনি বিশ্বের ১০ম ধনী ব্যক্তি এবং অন্যতম বড় দানশীল হিসেবেও পরিচিতি পান।
ব্লুমবার্গের বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, বর্তমানে বাফেটের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৪৫ বিলিয়ন ডলার।

বাফেটের চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার খবরে বার্কশায়ারের শেয়ারের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

শুক্রবার বার্কশায়ারের শেয়ারহোল্ডারদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বাফেট বলেন, তিনি চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর একটি কারণ হলো, কোম্পানির সিইও গ্রেগ অ্যাবেল তার প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছেন।

তবে চিঠিতে নিজের বয়সের কথাও স্বীকার করেছেন বাফেট। বাফেটের উত্তরসূরি সিইও গ্রেগ অ্যাবেলও তাকে প্রশংসা করে শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, বার্কশায়ার এবং এর মালিকদের ওপর ওয়ারেনের প্রভাব আমেরিকান ব্যবসার ইতিহাসে অতুলনীয়।

জীবদ্দশায় বাফেট বিপুল পরিমাণ অর্থ দাতব্য কাজে দিয়েছেন। ২০১০ সালে মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এবং গেটসের তৎকালীন স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ‘দ্য গিভিং প্লেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন।

এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের তাদের জীবদ্দশায় অথবা মৃত্যুর পর অন্তত অর্ধেক সম্পদ দাতব্য কাজে দান করার প্রতিশ্রুতি দিতে উৎসাহিত করা।
তবে চলতি বছরের শুরুতে বাফেট ঘোষণা করেন, তিনি গেটস ফাউন্ডেশনকে আর বার্কশায়ারের শেয়ার দান করছেন না। একই সঙ্গে সাবেক ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিল গেটসের সঙ্গেও আর কথা বলছেন না বলে জানান তিনি।

দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে গেটসের সম্পর্ক নিয়ে নানা তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর বাফেট এ সিদ্ধান্ত নেন।

২০২৫ সালে শেয়ারহোল্ডারদের কাছে লেখা এক চিঠিতে বাফেট জানিয়েছিলেন, তার উইল অনুযায়ী মৃত্যুর সময় তার মোট সম্পদের ৯ শতাংশেরও বেশি বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হবে। ওই সময় পর্যন্ত তার দান করা সম্পদের মূল্য দাঁড়িয়েছিল ৬০ বিলিয়ন ডলার।

বিপুল সম্পদের পরও ছিল সাদাসিধে জীবন

বিপুল সম্পদের মালিক হয়েও বাফেট ছিলেন সাদাসিধে জীবনযাপনের জন্য পরিচিত। জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি নেব্রাস্কার ওমাহায় একই বাড়িতে বসবাস করেছেন। ১৯৫৮ সালে মাত্র ৩১ হাজার ৫০০ ডলারে বাড়িটি কিনেছিলেন তিনি।

২০১২ সালের এপ্রিলে বাফেট জানিয়েছিলেন, তিনি প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে তিনি বলেছিলেন, রোগটি ছিল প্রাথমিক ও সবচেয়ে কম গুরুতর পর্যায়ে। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তার রেডিয়েশন চিকিৎসা শেষ হয়। এরপর আরও ১৩ বছর বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি।

ধনীদের ওপর বেশি করের পক্ষে ছিলেন

সবচেয়ে ধনী মার্কিন নাগরিকদের ওপর বেশি কর আরোপের একজন সোচ্চার সমর্থক ছিলেন বাফেট। তার যুক্তি ছিল, একজন সচিব এবং মধ্যবিত্ত করদাতাদের তুলনায় নিজের আয়ের একটি কম শতাংশ কর হিসেবে দিতে হওয়া অন্যায্য।