মৌলভীবাজারের জুড়ীতে সিএনজিচালক আবুল কালাম বলাই (৪০) কে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দেয়ার অভিযোগে এক গৃহবধূ ও তার মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে জুড়ী নদী থেকে তার লাশ উদ্ধারের পর রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গৃহবধূ আছমা বেগম হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত বলাই উপজেলার পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের বড়ধামাই গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেপ্তার দু’জন হলেন পাশের গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব কচুরগুল নালাপুঞ্জি এলাকার বাসিন্দা আছমা বেগম (৩৮) ও তার মেয়ে লিমা আক্তার (১৮)। জানা গেছে, বলাই দু’টি বিয়ে করেছেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রী আছমার ননদ। আছমার স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন। সংসারের খরচ চালাতে তিনি একটি সিএনজি কেনেন। সেটি ভাড়ায় চালাতেন বলাই। এ কারণে তিনি প্রায়ই আছমাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন।
পুলিশের ভাষ্য, একপর্যায়ে আছমার সঙ্গে বলাইয়ের সম্পর্ক তৈরি হয়। গত মঙ্গলবার রাতে বলাই আছমাদের বাড়িতে যান। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের জাঙ্গিরাই এলাকায় জুড়ী নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সুরতহাল প্রতিবেদনে লাশের গলায় একাধিক কোপের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পরে স্বজনরা লাশটি বলাইয়ের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় বলাইয়ের ছোট ভাই হাফিজ উদ্দিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে জুড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর বলাইয়ের মুঠোফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে আছমা ও তার মেয়ে লিমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয়। জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, আছমার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে তার সঙ্গে বলাইয়ের বাক?বিতণ্ডা হয়। বলাই তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেন।
এতে আছমা রাজি না হলে তাদের সম্পর্কের কথা প্রচার করে দেবেন এবং তার মেয়ের ক্ষতি করবেন বলে হুমকি দেন বলাই। পরে বলাই ঘুমিয়ে পড়লে রাত তিনটার দিকে আছমা ধারালো দা দিয়ে তার গলায় একাধিক কোপ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই বলাইয়ের মৃত্যু হয়। এরপর মেয়েকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে একটি কলাগাছের সঙ্গে বেঁধে লাশটি টেনে নিয়ে ঘর থেকে প্রায় ১০০ ফুট দূরে নদীতে ফেলে দেন তারা। ওসি আরও জানান, আছমার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত দা এবং ঘরের মাটির নিচে পুঁতে রাখা কালামের মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। মামলায় আছমা ও লিমাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য শুক্রবার মৌলভীবাজারের সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
