‘মাছে ভাতে বাঙালি’- প্রবাদটি যেন দিন দিন ম্লান হয়ে আসছে। বর্ষাকাল ও এর পরবর্তী সময়ে একসময় হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে দেশি মাছের যে প্রাচুর্য দেখা যেতো, বর্তমানে তার সিকি ভাগও চোখে পড়ে না। ভরা মৌসুমেও দেশি মাছের সংকটে হতাশ জেলে ও সাধারণ মানুষ। প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট, মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার, অবৈধভাবে রেণু-পোনা নিধন এবং কারেন্ট ও দুয়ারি জালের নির্বিচার ব্যবহারে দিন দিন কমছে দেশি মাছের উৎপাদন। সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও যুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া সময়মতো বৃষ্টি না হওয়া, খরা ও অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে নদী-খাল-বিলে পর্যাপ্ত পানি না আসায় মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ভরা মৌসুমেও জেলেদের অনেকেই মাছের আশানুরূপ দেখা না পাওয়ায় জাল তুলে রেখেছেন।
স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দশক আগেও শায়েস্তাগঞ্জের নদী-খাল ও বিল থেকে জেলেরা প্রচুর দেশি মাছ আহরণ করতেন। এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। শায়েস্তাগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিম (৬৮) বলেন, আগে বর্ষা এলেই নদী-খাল-বিলে জাল ফেললে বিভিন্ন ধরনের দেশি মাছ পাওয়া যেতো। এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল ফেলেও মাছ পাওয়া যায় না। স্থানীয় এক জেলে মো. রহিম মিয়া (৫৫) বলেন, আগে মাছ ধরেই সংসার চালাতাম। এখন মাছ কমে যাওয়ায় জাল ফেলে খরচও ওঠে না।
স্থানীয় মাছ বিক্রেতারা জানান, বাজারে বর্তমানে চাষের মাছের সরবরাহ বেশি। দেশি মাছের সরবরাহ কম হওয়ায় দামও তুলনামূলক বেশি। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই চাইলেও নিয়মিত দেশি মাছ কিনতে পারছেন না। সচেতন নাগরিকদের মতে, দেশি মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র হিসেবে নদী-খাল-বিলগুলো সংরক্ষণ করা জরুরি। অবৈধ কারেন্ট ও দুয়ারি জাল ব্যবহার বন্ধের পাশাপাশি প্রজনন মৌসুমে কঠোর নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করতে হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় মৎস্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেশি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়া হচ্ছে। অবৈধ জাল ব্যবহার করে মাছ ধরার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা এবং জব্দ করা অবৈধ জাল ধ্বংসের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
