জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেছেন, ঢাকা থেকে রংপুরের লংমার্চে কোনো বাধা সৃষ্টি হলে আমরা তা মানবো না। সেই বাধাকে উপেক্ষা করেই রংপুরের দিকে অগ্রসর হবো। সরকারের প্রতি আহ্বান, জনগণের দাবিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে মেনে নিন। না হলে আপনারা ফ্যাসিস্ট সরকারের চরিত্রের দিকে চলে যাচ্ছেন।
শুক্রবার দুপুরে রংপুরের শাপলা চত্বরস্থ দলীয় কার্যালয়ে ১৯শে সেপ্টেম্বরের ঢাকা টু রংপুর লংমার্চ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ ২৬৫ আসন পেয়েছিল। পুলিশ, আর্মিসহ সবাইকে ব্যবহার করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে নাই। তারা দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। হাসিনার মতো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে অবহেলা করে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। দাবি না মানলে জনগণের আকাঙ্ক্ষিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশবাসীকে জানাতে চাই, আসুন দাবিগুলোর প্রতি সমর্থন দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চ সফল করি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- রংপুর-৩ আসনের এমপি মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের এমপি গোলাম রব্বানী, জামায়াত দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, মহানগর জামায়াতের আমীর এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি আনোয়ারুল ইসলাম কাজল, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক এড. কাওছার আলী, এনসিপি জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগর ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক সামসুল হকসহ অন্যরা।
উল্লেখ্য, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধ করা, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইন বাতিলের দাবিতে শনিবার সকাল ৭টায় ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা টু রংপুর লংমার্চ শুরু হবে। সকাল ৯টায় গাজীপুর ভোগড় বাইপাস রোড, সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইল নগর জালফৈ বাইপাস রোড, দুপুর ১২টায় সিরাজগঞ্জ হাটিকমরুল মোড়, বিকাল ৪টায় বগুড়া মাটিডালি বিমান মোড়, বিকাল সাড়ে ৫টায় গাইবান্ধা পলাশবাড়ি চৌমাথা মোড়ে পথসভা এবং রাত ৭টায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশ সফল করতে রংপুর জিলা স্কুলে মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা জুড়ে মাইকিং, তোরণ নির্মাণ, দেয়াল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যানার-পোস্টার টাঙিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে।
