পঞ্চগড়ের কয়েকটি সীমান্তে সক্রিয় মানব পাচারকারী চক্র

পঞ্চগড়ের কয়েকটি সীমান্তে সক্রিয় মানব পাচারকারী চক্র

ফন্ট সাইজ:

অবস্থানগত কারণে পঞ্চগড় জেলার সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকা দিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ একটি চক্র। তারা এলাকাগুলো নিরাপদ ও পছন্দের রুট হিসেবে বেছে নিয়েছে। সম্প্রতি ১০ দিনের ব্যবধানে পৃথক তিনটি ঘটনায় ৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক ও ৪ জন রোহিঙ্গা আটক হলেও মূল হোতারা রয়ে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এতে আরও পাচারের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র মতে, পঞ্চগড় জেলার সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকার বিপরীতে ভারতের উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকার কাছাকাছি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের বিভিন্ন এলাকা অবস্থিত। এসব এলাকা উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ ও রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত। সীমান্ত পার হওয়ার পর দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ থাকায় পাচারকারীরা এই রুট ব্যবহার করছে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছে। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকার কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। মানব পাচারের ঘটনায় বিজিবি’র করা মামলাতেও একাধিক ব্যক্তির নাম এসেছে। পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিরাজোত সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে ৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে বিজিবি।

এর আগে একই সীমান্ত এলাকার আশপাশ থেকে আরও ৬ জনকে আটক করা হয়। আটক ৬ বাংলাদেশির বাড়ি কক্সবাজার, ফেনী, সুনামগঞ্জ ও পঞ্চগড় জেলায়। তাদের ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যও ছিল ভিন্ন ভিন্ন। কেউ চাকরির সন্ধানে, কেউ কাজের উদ্দেশ্যে, আবার কেউ এলাকায় বিয়ে করে অন্য নারীকে নিয়ে দেশ ছেড়ে পালানোর উদ্দেশ্যে ভারতে যাচ্ছিলেন। জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় থাকা দালালদের মাধ্যমে প্রথমে এসব ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসা হয় এবং সেখানে দায়িত্ব নেয় স্থানীয় পাচারকারী চক্র।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিজিবি’র বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার হওয়ায় একের পর এক পাচার চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। জানা যায়, অবৈধভাবে ভারতে পৌঁছে দেয়ার জন্য সাধারণত একজনের কাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা নেয়া হয়। তবে ব্যক্তি ও পরিস্থিতি ভেদে টাকার পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পঞ্চগড় জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফরহাদ হোসেন বলেন, মানব পাচার চক্রের সদস্যদের ধরতে পঞ্চগড় জেলা পুলিশ, সদর থানা পুলিশ, ডিবি ও সিআইডি সমন্বিতভাবে কাজ করছে। গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পাচারের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাইফুর হাসান মাহমুদ বলেন, সীমান্তে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। যখনই কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তখনই অভিযান চালিয়ে পাচারের সঙ্গে জড়িতদের আটক করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই।