সৌদিতে বিয়ে, দেশে এসে সন্তান কোলে নিয়ে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে অনশন

সৌদিতে বিয়ে, দেশে এসে সন্তান কোলে নিয়ে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে অনশন

ফন্ট সাইজ:

কুমিল্লার দেবিদ্বারে স্ত্রীর মর্যাদা ও সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবিতে সন্তান কোলে নিয়ে দুইদিন ধরে অনশন করছেন হ্যাপি আক্তার (২৭) নামের এক নারী। উপজেলার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের বদুরুদ্দি হাজী বাড়িতে তিনি অবস্থান করছেন। দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

অনশনরত হ্যাপি আক্তার বলেন, বারেরা গ্রামের মৃত আবদুল মান্নান মনু মিয়া (মেম্বার) এর সৌদি আরবপ্রবাসী ছেলে এনামুলের সঙ্গে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে সৌদি আরবে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা সৌদি আরবের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে একসঙ্গে থাকতেন। এক বছর জেদ্দা শহরের আলকোমরা পানির ট্যাংকের সামনে একটি হোটেলে তারা একসঙ্গে ছিলেন বলেও জানান তিনি। হ্যাপি বলেন, এর মধ্যে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন। চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এনামুল তাকে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেন। এরপরও এনামুল তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং খরচ দিচ্ছেন। তবে স্ত্রী হিসেবে মর্যাদা দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আসলেও তা করেননি। তাই স্ত্রী ও সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবিতে তিনি এনামুলের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন।

হ্যাপির দাবি- স্ত্রী ও সন্তানকে সৌদি আরবে নেয়ার জন্য এনামুল তাকে তার পিতা ও স্বামী হিসেবে উল্লেখ করে পাসপোর্ট তৈরির কথা বলেছেন। তবে কবে তাদের সৌদি আরবে নিয়ে যাবেন, তা জানাননি। তার আগের স্বামীকে তালাক দিয়ে এনামুলকে বিয়ে করেছেন। বর্তমানে সন্তানকে নিয়ে তিনি অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তার অভিযোগ, এনামুল তাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে ফোনে হুমকি দিচ্ছেন এবং তার মা’কেও ফোন করে হুমকি দিয়েছেন। আমাদের যদি ঘরে তুলে না নেয়, মেরে ফেললে তো ভালো। তা না হলে সন্তানকে নিয়ে এখানেই আত্মহত্যা করবো।’

হ্যাপির বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার কলাতলী গ্রামে। তার আগের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, এনামুল বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। হ্যাপি আক্তার ছাড়াও দেশে তার আরেকটি সংসার রয়েছে বলে তার স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। ওই সংসারে তার দুই ছেলে সন্তান রয়েছে বলেও তারা জানান। এনামুলের বাড়িতে থাকা তার ছোট ভাই সাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এনামুল ভাই দেশের বাইরে। বাড়িতে আম্মা আর আমি ছাড়া কেউ নেই। এনামুল যদি তাকে বিয়ে করে থাকে এবং ওই সন্তান যদি এনামুলের হয়ে থাকে, তাহলে ভাই দেশে এলে ডিএনএ পরীক্ষা করিয়ে বিষয়টি প্রমাণ করতে হবে।’

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। পারিবারিকভাবে সমাধান হলে ভালো হয়। এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি দেখা হবে।’