বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেকানো ছাদ ক্লাসে চরম আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেকানো ছাদ ক্লাসে চরম আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

ফন্ট সাইজ:

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ায় চরম ঝুঁকি নিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। বিদ্যালয়ের তিনটি ভবনের প্রতিটিতে দেখা দিয়েছে ফাটল আর এতে কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। ভবনগুলোর বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত বিপজ্জনক। কক্ষে ফাটল এবং পলেস্তারা খসে যাওয়ার কারণে ভবনের ছাদ বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেকিয়ে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। জরাজীর্ণ ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে যাওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার আশঙ্কায় এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ২৪ নম্বর দক্ষিণ পাল্টাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই ভবনটি আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ১২৬ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস চালাচ্ছেন শিক্ষকরা।

১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত ও ১৯৭৩ সালে জাতীয়করণ হওয়া এই বিদ্যালয়ের বর্তমান ভবনটি নির্মিত হয় ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে। দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার না হওয়ায় ছাদের বড় অংশের আস্তরণ খসে পড়েছে। বৃষ্টির পানি চুইয়ে রডে মরিচা ধরে দুর্বল হয়ে পড়েছে পুরো অবকাঠামো। দুর্ঘটনা এড়াতে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে নিচ থেকে কয়েকটি বাঁশের খুঁটি দিয়ে ছাদ ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো কংক্রিটের ভবনে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ক্লাস চালানোর চিত্র অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও উদ্বেগজনক। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা প্রতিদিন শঙ্কায় থাকেন। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মোছা. সেথা বলেন, বিদ্যালয়ের ছাদ থেকে মাঝে মাঝে পলেস্তারা খসে আমাদের ওপর পড়ে। একারণে সব সময় আতঙ্কে থাকি। না জানি কখন ছাদ ভেঙে পড়ে। ভবনের এই অবস্থা দেখে অনেকে বিদ্যালয় আসা ছেড়ে দিয়েছে। আমরা চাই দ্রুত নতুন ভবন তৈরি করা হোক। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হাসান হাবিব জানান, প্রায় এক দশক ধরে নতুন একটি ভবনের জন্য আবেদন জানিয়ে আসছেন তারা। ভবন ধসের আতঙ্কে অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চান না।

সহকারী শিক্ষক মোসাম্মদ দুলালী বেগম জানান, ক্লাসে ঢুকেই পাঠদানের বদলে নজর রাখতে হয় ছাদের দিকে, শিক্ষার্থীরাও সবসময় ভয়ে থাকে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজিদা হক জানান, সরজমিন বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দেখা গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ইতিমধ্যে নতুন ভবনের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে এবং প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দ পেলে সেখানে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।