মাদকে সয়লাব লালমোহন কঠোর পুলিশ

ফন্ট সাইজ:

মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে ভোলার লালমোহন উপজেলা। শহর থেকে গ্রাম, পাড়া-মহল্লা, সবখানেই মিলছে মাদক। গাঁজা-ইয়াবা মিলছে বেশি। উপজেলায় মাদক সহজলভ্য হয়ে পড়ায় বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ছে কিশোর, তরুণ ও যুবকসহ নানা শ্রেণির মানুষ। তবে মাদকের এই ভয়াবহ বিস্তার ঠেকাতে কড়াকড়ি অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। থানায় বর্তমান ওসির যোগদানের পর পরই মাদক নির্মূলে সর্বোচ্চ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া যোগদানের পর থেকেই ওসি মাদকের বিস্তার রোধসহ সামাজিক বিভিন্ন ধরনের অপরাধ রোধে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত জনসচেতনতামূলক সভা করছেন। বর্তমানে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। থানা পুলিশের তথ্যমতে, চলতি মাসের শুরু থেকে ১৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১টি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। এসব অভিযানে ১৬ জন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণের গাঁজা ও ইয়াবা।

এসব ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। ওসি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারের নেতৃত্বে থানার এসআই-এএসআই সঙ্গীয় ফোর্স অভিযানগুলো পরিচালনা করেন। এদিকে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক থানার সাবেক এক এসআই জানিয়েছেন, লালমোহনে বেশ কিছু মাদকের স্পট রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, পৌরশহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ড, নয়ানীগ্রাম, ওয়েস্টার্ন পাড়া, পাকার মাথা, পুরাতন লঞ্চঘাট, লাঙ্গলখালী স্টেডিয়াম এলাকা। এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ের কয়েকটি স্পটের মধ্যে দেবির চর, রহিমপুর, হরিগঞ্জসহ আরও কিছু মাদকের স্পট রয়েছে। তিনি আরও জানান, কয়েকটি রুট দিয়ে লালমোহনে মাদক প্রবেশ করে। যার মধ্যে ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নোয়াখালী, হাতিয়া ও মনপুরা থেকে নৌপথে মাদক প্রবেশ করে।

এ ছাড়া চরফ্যাশন উপজেলা থেকে গজারিয়া, কর্তারহাট ও লর্ডহার্ডিঞ্জের ফাতেমাবাদ স্লুইস গেট এলাকা দিয়ে মাদক প্রবেশ করে। বোরহানউদ্দিন উপজেলা থেকে ডাওরি বাজার ও সোনাবাজার এলাকা দিয়েও মাদক প্রবেশ করে। তজুমদ্দিন উপজেলা থেকে নতুন বাজার ও মঙ্গলসিকদার বাজার এলাকা দিয়ে মাদক ঢুকে লালমোহনে। এ ছাড়া পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নৌপথে ফরাজগঞ্জ ও পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের কয়েকটি স্পটে মাদক প্রবেশ করে। প্রবেশের পর এসব মাদক পৌঁছে যায় ছোট-বড় কারবারিদের কাছে। তারাই উপজেলা জুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে মাদক। এসব মাদক কারবারিরা স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় ব্যবসা চালাচ্ছেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) লালমোহনের সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম জনি বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না; মাদক একটি পরিবার, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদক বিক্রেতা, সরবরাহকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের ছাড় দেয়া উচিত নয়। থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার জানান, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি’র নির্দেশে আমরা মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। এরই মধ্যে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণের বিভিন্ন প্রকারের মাদকদ্রব্য। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।