কক্সবাজারের উখিয়ার সীমান্তবর্তী পালংখালীতে গভীর রাতে পুলিশের অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি পুরাতন পিস্তল উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার পর ঘটনাস্থল ও আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। সীমান্তবর্তী এ ইউনিয়নে ইয়াবাসহ মাদক পাচারের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ৫০ মিনিটে পালংখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পালংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করছে, এমন তথ্য পায় পুলিশ।
খবর পেয়ে বালুখালী পুলিশ ক্যাম্পের নাইট পার্টি ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে ঘটনাস্থল ও আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে একটি পুরাতন পিস্তল পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। সাক্ষীদের উপস্থিতিতে জব্দ তালিকা তৈরি করে অস্ত্রটি জব্দ করা হয়। উখিয়া থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান বলেন, পালংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে কয়েকজন সন্দেহজনক ব্যক্তির অবস্থানের খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি পুরাতন পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। পলাতকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পালংখালীতে সাম্প্রতিক মাদক উদ্ধারের ঘটনাগুলোও এ এলাকার পরিস্থিতির একটি চিত্র তুলে ধরছে। গত ১লা সেপ্টেম্বর রাতে পালংখালী ইউনিয়নের মরাগাছতলা রোহিঙ্গা মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে একটি সিএনজি থেকে ২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চালকসহ দুই ব্যক্তি সিএনজি ফেলে পালিয়ে যায়। এর মাত্র দুই সপ্তাহ পর ১৫ই সেপ্টেম্বর ভোরে পালংখালীর আনজুমানপাড়া সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচারের সময় ১ লাখ ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দু’জনকে আটক করে ৬৪ বিজিবি’র পালংখালী বিওপি’র বিশেষ টহল দল। বিজিবি’র তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তের ওপার থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করছিল। এদিকে ১৫ই সেপ্টেম্বর পালংখালী সীমান্তে ইয়াবার একটি চালান ছিনতাইকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে।
ফারিরবিল মাদ্রাসার সামনে ২০ হাজার ইয়াবার একটি চালান ছিনতাইকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে গুলির লড়াই হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, মিয়ানমার সীমান্তবর্তী পালংখালী দিয়ে ইয়াবার চালান প্রবেশের পাশাপাশি মাদক কারবারিদের হাতে অবৈধ অস্ত্র থাকার আশঙ্কাও রয়েছে। এসব অস্ত্র মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের নিরাপত্তা কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী চক্রের মোকাবিলায় ব্যবহৃত হতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা। তবে উদ্ধার হওয়া সর্বশেষ পিস্তলটি কোনো মাদক কারবারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিনা, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনানুগ কার্যক্রম চলছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে অস্ত্র আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
