২৩ বছর পর মুক্তি, জীবিকার ভরসা হলো ডিসি’র দেয়া ভ্যান

২৩ বছর পর মুক্তি, জীবিকার ভরসা হলো ডিসি’র দেয়া ভ্যান

ফন্ট সাইজ:

দীর্ঘ কারাভোগ শেষে মুক্ত বাতাসে ফিরেও স্বস্তি ছিল না রাজশাহীর পবা উপজেলার বিলধর্মপুর গ্রামের মিঠুর জীবনে। পরিবারের আর্থিক দুরবস্থা, দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতা আর জীবিকা নির্বাহের কোনো পথ না থাকায় মুক্তির পরও অনিশ্চয়তায় দিন কাটছিল তার। কারাগারের চার দেয়াল পেরিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখলেও হাতে ছিল না কাজ করার মতো কোনো পুঁজি। এমন কঠিন সময়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের দেয়া একটি ভ্যান তার জীবনে নতুন করে বাঁচার আশা জাগিয়েছে। সম্প্রতি রাজশাহী জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে মিঠু ও বাগমারা উপজেলার কোন্দা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মো. ইসরাফিলের হাতে দু’টি ভ্যান তুলে দেন জেলা প্রশাসক কাজী শহীদুল ইসলাম। দীর্ঘ কারাভোগ শেষে মুক্তি পাওয়া এই দুই ব্যক্তির কর্মসংস্থানের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্যান দু’টি দেয়া হয়। এ সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে কুলসুম শম্পা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী উপস্থিত ছিলেন। মুক্তির পর কর্মসংস্থানের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে ভ্যান চেয়ে আবেদন করেন মিঠু।

ভ্যান পেয়ে তিনি বলেন, জীবনের এতগুলো বছর কারাগারে কেটে গেছে। মুক্তির পর বাইরে এসে কীভাবে সংসার চালাবো, কীভাবে নিজের পায়ে দাঁড়াবার নিয়ে খুব চিন্তায় ছিলাম। জেলা প্রশাসক স্যার আমার কষ্টের কথা শুনে আমাকে একটি ভ্যান দিয়েছেন। এই ভ্যান আমার কাছে শুধু একটি যানবাহন নয়, এটি নতুন করে বাঁচার অবলম্বন। স্যারের প্রতি আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো। তিনি আরও বলেন, আমি দীর্ঘদিন পরিবারের কাছ থেকে দূরে ছিলাম। মুক্তির পর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা ছিল, কিন্তু হাতে কোনো কাজ ছিল না। এখন ভ্যান চালিয়ে আয় করতে পারব এবং নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে পারব। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের নথি অনুযায়ী, মিঠু ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত ছিলেন। ২০০৩ সালের ১১ই অক্টোবর থেকে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন।

চলতি বছরের ১৬ই জুলাই সাজা শেষে মুক্তি পান তিনি। এরপর জীবিকা নির্বাহের জন্য আর্থিক সহায়তায় একটি ভ্যান চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। অন্যদিকে মো. ইসরাফিলও দীর্ঘ ২৩ বছর কারাভোগের পর সমপ্রতি মুক্তি পেয়েছেন। তার বাবার নাম রহিম উদ্দিন। দীর্ঘ কারাভোগের কারণে তারও পরিবারের আর্থিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। মুক্তির পর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকেও একটি ভ্যান দেয়া হয়েছে। ভ্যান বিতরণের পর জেলা প্রশাসক কাজী শহীদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন কারাভোগ শেষে মুক্তি পাওয়া এই দুই ব্যক্তি তার কাছে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

কারাগার পরিদর্শনের সময় তাদের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। তিনি বলেন, তাদের দেখেছি, তারা নিতান্তই গরিব। তারা কারাগার থেকে বের হওয়ার পর কী করবেন, সেটি নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা গেলে বাকি জীবন সুন্দরভাবে কাটাতে পারবেন। সেই উদ্দেশ্যেই তাদের দু’টি ভ্যান দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, কারাভোগ শেষে তারা যাতে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।