পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে জোড়া ফুল প্রতীক নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি না করে নির্বাচন কমিশন দলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করে দিয়েছে। মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস ও ঋতব্রতপন্থী বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেস, কোনো গোষ্ঠী সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নাম ও ঘাসের উপর জোড়া ফুল প্রতীক উপনির্বাচনে ব্যবহার করতে পারবে না। উপনির্বাচনের জন্য দুই পক্ষকে কমিশনের সংরক্ষিত প্রতীকের তালিকা থেকে আলাদা আলাদা প্রতীক বেছে নিতে হবে। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক বা দলীয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০২৬ সাল, এই দীর্ঘ ২৮ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে এবার কোনও ভোট হবে জোড়াফুল প্রতীক ছাড়াই।
পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে বিধানসভার উপনির্বাচন হবে আগামী ৬ অক্টোবর। নন্দীগ্রামে মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছে সঞ্চিতা প্রধান দে-কে। রেজিনগর কেন্দ্রে তাদের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। অন্যদিকে নন্দীগ্রামে ঋতব্রতপন্থীদের হয়ে লড়ছেন মহম্মদ এহেতাশমুল হক এবং রেজিনগরে তাদের প্রার্থী শেখ সফিউদ্দিন জামান। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার নির্ধারিত সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠী তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়া ফুল প্র্রতীক উল্লেখ করে নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করেছিল। ফলে মনোনয়নপত্র স্কুটিনি করতে গিয়ে দুই কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসাররা বিপাকে পড়েছিলেন। শেষপর্যন্ত স্কুটিনির সময় বাড়িয়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, দুই গোষ্ঠীকে নিজেদের জন্য আলাদা নাম এবং কমিশনের সংরক্ষিত প্রতীকের তালিকা থেকে আলাদা আলাদা প্রতীক বেছে নিতে হবে।
গত বিধানসভা নির্বচনে তৃলমূল কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের পাশপাশি দলের মধ্যে বিপর্যয় নেমে এসেছে। দল ভাগ হয়ে গেছে দুই ভাগে। নির্বাচিত তৃণমূল কংগ্রেসের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জন ঋতব্রত বন্ধোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এক জোট হয়েছে। মমতাপন্থীদের দাবিকে খারিজ করে দিয়ে বিধানসভায় বিরোধী নেতার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়কে। এমনকি দলের খোলনলচে পাল্টে ঋতব্রত গোষ্ঠী দলের চেয়ারম্যান করেছে অরুপ রায়কে। মমতাকে সরিয়ে নতুন জাতীয় কর্মসমিতি তৈরি করেছে ঋতব্রত গোষ্ঠী।
এরপর থেকে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে আসল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি জানানো হয়েছে। অদালতেও গড়িয়েছে বিষয়টি। তবে দলের কোন গোষ্ঠী আসল তা ঠিক করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। আসল তৃণমূল কে, প্রতীক কার, দলের সম্পদই বা কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে একাধিক বার তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক করেছে কমিশন। শুক্রবার দ্বিতীয় দফায় তৃণমূলের দু’পক্ষকে তলব করা হয়েছিল দিল্লির নির্বাচন সদনে। কিন্তু আপাতত সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে উপনির্বাচনে দলের নাম ও জোড়া ফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো গোষ্ঠী
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা
ভারত
১ ঘন্টা আগে
১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার), ২০২৬, ১০ঃ০৮ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
