সিন্ডিকেটের চেহারা বদলালেও কাঠামো বদলায়নি

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

সিন্ডিকেটের চেহারা বদলালেও কাঠামো বদলায়নি

ফন্ট সাইজ:

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের চেহারা বদলালেও কাঠামো বদলায়নি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বলেছেন, ভেতরের রুট ঠিক আছে, বাইরে শুধু চাদরটা বদলে দেয়া হয়েছে। আর কিছু না। শ্রমবাজারে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট না রেখে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর দাবি জানান জামায়াত আমীর। গতকাল ‘সিন্ডিকেট ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় সিন্ডিকেটের উদ্দেশ্যে শফিকুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত সেটা ফাংশনিং আছে। এটা কিন্তু কখনো নন-ফাংশনিং হয়নি। ভেতরের রুট ঠিক আছে, বাইরে শুধু চাদরটা বদলে দেয়া হয়েছে। আর কিছু না। এক সাইড গেছে, আরেক সাইডে এসে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। আবার সেখানে তাদের একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং আছে।

দাতো আমিনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মানুষের সঙ্গে ইনসাফ না করার অভিযোগ রয়েছে। আমরা এই জুলুম আর চাই না। সরকারকে বলবো, বন্ধ করেন। কোনো আমিনের নাম আর শুনতে চাই না। এই আমিনরা কী করবে? বাংলাদেশ দেখে ফেলেছে। নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান যদি পারে, তাহলে বাংলাদেশকেও পারতে হবে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে গোপন বৈঠকের অভিযোগ তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, কোনো কোনো নেতা গোপনে গিয়ে আমিনদের সঙ্গে বৈঠক করেন। কেন? কী ইন্টারেস্ট?
প্রবাসী শ্রমিকদের ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একজন শ্রমিক বিদেশ যেতে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা খরচ করেন। চাকরির মেয়াদ ও চুক্তির সময়ের মধ্যে সেই টাকা পরিশোধ করা কতোটা সম্ভব, সেটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, বিদেশে গিয়ে সাধারণ শ্রমিকদের অনেকের সঙ্গে কথা বলা যায় না। ওদের চেহারার দিকে তাকানো যায় না। প্রশ্ন করলে জবাব দিতে চায় না। বোবা কান্না তাদের বুকে বিষের মতো ভরে আছে। শান্তিতে একটা শ্বাস নিতে পারে না। সেই মানুষগুলোর ওপর যারা জুলুম করে, তারা মানুষ নামের কলঙ্ক।

সেমিনারে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের পর বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতি বহাল থাকবে, তা তারা কল্পনাও করেননি। বিরোধী দলের লংমার্চের সাত দফা দাবির কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমীর বলেন, প্রথমে ৬ দফা ছিল, আরেক দফা যুক্ত হয়েছে। সাত দফা দাবিতে আমরা আন্দোলনের মাঠে আছি।
এসব দাবি কোনো দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির দাবি নয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, কাউকে বসানোর, কাউকে সরানোর দাবি না, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি। প্রত্যেকটি দাবি। এই দাবিগুলো আমরা ইনশাআল্লাহ আদায় না করে ফিরবো না। আমরা বিজয় চাই জনগণের।

রাজনীতির উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমাদের রাজনীতি নিজের জন্য নয়, জনগণের জন্য, দেশের জন্য। আমরা সে রাজনীতিটাই এই দেশে বাস্তবায়ন করতে চাই।

ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে মানুষের কণ্ঠ রোধ করা হলে তার বিরোধিতা করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ন্যায্য কথা যা, তা বলবো। আইন যা করে করুক, এটার পরোয়া করি না। সেই আইনও হওয়ার পথে বাধা দেবো, যদি সেই আইন দেখি যে, জনগণের মুক্ত কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য করা হচ্ছে। তাহলে সেই আইন মানবো না।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে চাই যে, বাজার উন্মুক্ত হোক। তবে অসৎ কোনো ব্যবসায়ী কিংবা প্রতিষ্ঠান থাকলে তারা যেন সুবিধা না পায়।

২৫টি এজেন্সি নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমীর বলেন, বোঝা যাচ্ছে তারা হবে মাস্টার এজেন্সি, তাদের অধীনে এসোসিয়েট থাকবে। ক্রাইটেরিয়াটা কী? বিভিন্ন গণমাধ্যমে আপনারাই নিয়ে এসেছেন যে, এমন কিছু এজেন্সি আছে, যাদের পূর্বের কোনো অভিজ্ঞতা নাই। তো কিসের ভিত্তিতে এটা সিলেক্ট করা হলো?

প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোট ‘মাইনাস’ করার চিন্তা করা হলে সেটিকে জুলুম ও অবিচার হবে। আমরা এটা মানবো না। পরিষ্কার কথা। এখন তারা ভোটার। তারা দেশে না প্রবাসে-এটা অবান্তর। তারা যেখানেই থাকুক, তাদের ভোট দেয়া নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান, বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা আবুল কাশেম কাসেমী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতাহারী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি।