রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনার দায়ে নতুন করে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে নয়াদিল্লি বলেছে, এ ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুরক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে দেশটি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে বুধবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে একটি বড় নিষেধাজ্ঞা বিল পাস হয়। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে রাশিয়া থেকে তেল আমদানিকারী দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।
বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হয় বিলটি। এটি এখন শুধু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সইয়ের অপেক্ষায় রইলো। ট্রাম্প সই করলেই এটি বাস্তবায়ন হবে। শিগগিরই তিনি বিলটিতে স্বাক্ষর করে তা আইনে পরিণত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিলটি ইতিমধ্যে মার্কিন সিনেটেও পাস হয়েছে। এর ফলে দুই বছরেরও বেশি সময় পর ইউক্রেনকে সহায়তার উদ্দেশ্যে মার্কিন কংগ্রেসে কোনো বড় আইন পাস হলো। এই আইনের আওতায় চীন ও ভারতের মতো যেসব দেশ রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি করে, তাদের পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ শতভাগ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করার বিশেষ ক্ষমতা পাবেন। এ ছাড়া মস্কোর রাজস্ব প্রবাহ বন্ধ করতে রুশ কর্মকর্তা, ব্যাংক এবং জ্বালানি পরিবহনে যুক্ত গোপন ট্যাংকার বহরের ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
বিলটি পাসের পরপরই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। সামপ্রতিক মাসগুলোতে বিষয়টি নিয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হয়েছে এবং এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনগণের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা বাজার যাচাই করে বিভিন্ন উৎস থেকে তেল সংগ্রহ অব্যাহত রাখবে এবং নিজেদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ ভারত বর্তমানে রাশিয়ার জ্বালানি তেলের অন্যতম শীর্ষ ক্রেতা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের আমদানির তালিকায়ও রাশিয়ার তেল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের মুখে এ সরবরাহ বন্ধ হলে ভারতে তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শোধনাগার সংশ্লিষ্টরা। এদিকে ভারতীয় বিশ্লেষকদের ধারণা, এই নতুন শুল্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যকার চলমান বাণিজ্য আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল চলতি মাসের শেষের দিকে একটি আন্তর্জাতিক বৈঠকে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারেন।
