নতুন আইনের মাধ্যমে তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতা পেয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। তবে সব মামলার তদন্ত করবে না এপিবিএন। সরকার, আদালত বা আইজিপি’র মাধ্যমে ন্যস্ত মামলাগুলোই তারা তদন্ত করবে বলে জানিয়েছেন এপিবিএনের ডিআইজি (প্রশাসন) মোহাম্মদ শাহজাহান। গতকাল বিকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডিআইজি শাহজাহান বলেন, নতুন আইনে এপিবিএনের জন্য তদন্ত পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও পার্বত্য এলাকায় ভৌগোলিক ও বাস্তবতার কারণে যেসব অপরাধের তদন্তে জেলা পুলিশের সীমাবদ্ধতা রয়েছে সেসব ক্ষেত্রে এপিবিএন তদন্ত করতে পারবে। তিনি বলেন, আমাদের সশস্ত্র অবস্থান ঠিক আছে। এই সশস্ত্র অবস্থানের মধ্য থেকে আমরা সব মামলা তদন্ত করবো না। আমরা মামলা তদন্ত করবো সরকার-আদালত-আইজিপি থেকে যেসব মামলা আমাদের কাছে ন্যস্ত করা হয় শুধু সেগুলো। এপিবিএনের নতুন আইনের বিষয়ে তিনি বলেন, শান্তিকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য ইউনিটকে সহযোগিতা করা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যুদ্ধকালীন সময়ে ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন হিসেবে কাজ করার সক্ষমতা এপিবিএনের মৌলিক বৈশিষ্ট্যের অংশ।
এপিবিএন ডিআইজি বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আগমনের পর ক্যাম্প এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সূত্রপাত হয়েছে। দূর-দূরান্তে গিয়ে এসব অপরাধের তদন্ত জেলা পুলিশের জন্য অনেক ক্ষেত্রে জটিল হয়ে ওঠে। এ কারণে সরকারের অনুমতি নিয়ে এপিবিএনের নিরস্ত্র সাব-ইন্সপেক্টরদের সেখানে তদন্তের কাজে যুক্ত করা হয়েছিল। নতুন আইনে এই কার্যক্রমের জন্য আইনগত ভিত্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে। নতুন আইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আলাদা সেল গঠনের সুযোগের কথা জানান তিনি। পাশাপাশি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে এপিবিএনের ভূমিকার বিষয়টিও আইনে স্পষ্ট করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে ডিআইজি শাহজাহান বলেন, বর্তমানে প্রায় ১৮ লাখ মানুষের নিরাপত্তায় এপিবিএনের সদস্য রয়েছেন প্রায় ২ হাজার ২০০ জন। এত বড় জনগোষ্ঠীর তুলনায় পুলিশের সদস্য সংখ্যার অনুপাত বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্যাম্প এলাকায় আরও জনবল দেয়ার পাশাপাশি নতুন একটি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ও পুলিশের এখতিয়ারের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিমানবন্দরেও পুলিশের এখতিয়ার রয়েছে। বিমানবন্দরে নিরাপত্তা এবং অপরাধ দমনের কাজকে আলাদা করে দেখতে হবে। পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে অপরাধ দমন, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বেসামরিক নিরাপত্তা রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এপিবিএনের গত আগস্ট মাসের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য তুলে ধরেন ডিআইজি শাহজাহান।
