১১ দলের দ্বিতীয় লংমার্চ ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা না করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, আমাদের লংমার্চ হবে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক। আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, তা হতে দেবো না। গতকাল দুপুরে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক প্রেস ব্রিফিংয়ে গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন। সরকারের প্রতি এবং প্রশাসনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা আমাদের এই গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে সহযোগিতা করুন। আমাদের সব কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক। অস্থিতিশীলতা, বিশৃঙ্খলা বা ভাঙচুরের মতো কোনো চিন্তা বা কর্মসূচি ১১ দলীয় ঐক্যের মধ্যে নেই। গোলাম পরওয়ার বলেন, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও ১১ দলের নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তবে সেই অপরিণামদর্শী চিন্তা থেকে তাদের ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। অহেতুক পায়ে পাড়া দিয়ে গণ্ডগোল সৃষ্টি করে শান্ত দেশকে অশান্ত করবেন না।
‘মেজরিটির জোরে’ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরকে কাজে লাগিয়ে কখনোই জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাবেন না। মেজরিটির শক্তি প্রয়োগ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য করার চক্রান্ত চলছে। এভাবে সব জায়গায় মেজরিটির পাওয়ার দেখালে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে- এই মেজরিটির ক্ষমতা দেখাতে গিয়েই অতীতে অনেকে কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী চরিত্র অর্জন করেছিল।
লংমার্চের প্রস্তুতি ও রুট: সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১৯শে সেপ্টেম্বর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুর অভিমুখে অনুষ্ঠিতব্য লংমার্চের প্রস্তুতি ও পথসভার রুট তুলে ধরা হয়। গোলাম পরওয়ার জানান, ১৯শে সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮টায় লংমার্চের যাত্রা শুরু হয়ে গাজীপুর ও টাঙ্গাইলের নগর জলফই মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর যমুনা সেতু পার হয়ে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়ে জোহরের নামাজের বিরতি এবং রংপুর জেলা স্কুল মাঠে গিয়ে লংমার্চটি শেষ হবে।
তিনি জানান, লংমার্চের শৃঙ্খলার জন্য ৮ থেকে ৯টি বিশেষ বিভাগ, স্বেচ্ছাসেবক দল, মেডিকেল টিম, এম্বুলেন্স, মিডিয়া টিম এবং সাংস্কৃতিক বিভাগের গাড়ি বহরের পেছনে যুক্ত থাকবে। দীর্ঘ এ যাত্রায় কোনো রান্নাবান্নার সুযোগ না থাকায় অংশগ্রহণকারীদের নিজ নিজ শুকনো খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
১১ দলের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি’র আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি ও মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এলডিপি’র সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর-বিক্রম ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাহ হোসেন মিয়াজী; বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ; বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ; বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমীর মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী ও মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার; জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান ও মহাসচিব অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিডিপি’র চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম।
