গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, ঘন ঘন লোডশেডিং এবং রাত ৮টায় দোকান বন্ধের সিদ্ধান্তে অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। সংগঠনটি রাত ৮টায় দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের পাশাপাশি দেশের সব মার্কেট ও বড় বিপণি বিতানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঘন ঘন লোডশেডিং এবং রাত ৮টায় দোকান বন্ধের সিদ্ধান্তের কারণে দোকান ও প্রতিষ্ঠানে বেচাকেনা কমে গেছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকেই বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দ্রুত বিপণি বিতানগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনকে কার্যকর সমাধান হিসেবে দেখছে সংগঠনটি।
দোকানমালিকরা বলেন, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) বা বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সাত বছর মেয়াদে ২ শতাংশ সুদে বিশেষ ঋণ সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ঋণ পেলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিপণি বিতানগুলো নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারবে বলে তারা মনে করেন।
সোলার প্যানেল স্থাপনে ১০ দফা দাবি জানিয়েছে দোকান মালিক সমিতি। এর মধ্যে রয়েছে- মানসম্পন্ন সোলার প্যানেল নিশ্চিত করতে বিএসটিআই ও ইডকলের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করা এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা। সোলার প্যানেল স্থাপনের পর লাইসেন্স ফি ও সার্ভিস চার্জ থেকে অব্যাহতির দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
উৎপাদিত অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ সাড়ে ১০ শতাংশ হারে জাতীয় গ্রিডে বিক্রির সুযোগ আরও সহজ করার দাবি জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির যৌথ চুক্তির মাধ্যমে দ্রুত সরঞ্জাম সরবরাহ ও স্থাপন নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎ সংকটে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘ সময় ধরে ভুগতে চান না। সারা দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় মার্কেট রয়েছে। বিপণি বিতানগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা গেলে এবং ব্যব সায়ীরা সেই ঋণ পরিশোধ করতে পারলে অনেক ক্ষেত্রে মার্কেটকে বিদ্যুৎ বিল দিতে হবে না। বরং ছুটির দিনগুলোতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
