Warning: Trying to access array offset on false in /var/www/vhosts/mzamin.com/httpdocs/app/core/FileCache.php on line 28

Warning: Trying to access array offset on false in /var/www/vhosts/mzamin.com/httpdocs/app/core/FileCache.php on line 28
উপনিবেশোত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রসঙ্গে - MZamin
উপনিবেশোত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রসঙ্গে

ইতিহাস, ভাষা ও শিক্ষার ঔপনিবেশিক রাজনীতি-৩

উপনিবেশোত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রসঙ্গে

ফন্ট সাইজ:

দেশে-বিদেশে এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিক্রিয়ার ফলে, শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ হাউস অব কমন্স জেনারেল ডায়ারের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করতে বাধ্য হয় এবং তাকে চাকরি থেকে ‘অব্যাহতি’ দেয়া হয়; কিন্তু অনতিবিলম্বে ‘হাউস অব লর্ডস’ সে নিন্দা প্রস্তাব প্রত্যাহার করে, জেনারেল ডায়ারকে অবসরভাতাসহ চাকরি থেকে সসম্মানে অবসর গ্রহণের সুযোগ করে দেয়।৬ ওদিকে, আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, এই নির্মম গণহত্যার খলনায়ক জেনারেল ডায়ারকে একদল ব্রিটিশ নাগরিক একটি রত্নখচিত তরবারি ও চাঁদা তুলে সংগৃহীত ২৬,৩১৭ পাউন্ড উপহার দিয়ে বীরের সম্মান দান করে।৭ এই কর্মকাণ্ডের ভেতর দিয়ে উপনিবেশিত জনগণের প্রতি ব্রিটিশ সরকারের হীনদৃষ্টিভঙ্গি যেমন প্রকটিত হয়, তেমনি ভারতীয়দের হত্যা করার জন্য ভারতীয় সৈন্য ব্যবহারের নির্মম সত্যও প্রকাশিত হয়।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকরা এই ভারতীয় গরিব সৈন্যদের শুধু ভারতবর্ষে নিজেদের শাসন জারি রাখার জন্যই ব্যবহার করেনি, ‘দুনিয়াব্যাপী ব্রিটিশ সাম্রাজ্য অক্ষুণ্ন রাখতে, বিশেষত পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব, মধ্য ও পশ্চিম এশিয়ায় এবং উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্বার্থ রক্ষায় ভারতীয় সৈন্যবাহিনীকে প্রধান অবলম্বন হিসেবে ব্যবহার করেছে’।৮

এতদসত্ত্বেও, ফার্গুসনের স্বপ্রণোদিত প্রশ্নের কিছুটা ন্যায্যতা আছে, কিন্তু তার উত্তরটি নিতান্তই অসম্পূর্ণ। কেননা, কোনো উপনিবেশবাদী রাষ্ট্র বা তার পৃষ্ঠপোষকতাভোগী কোনো সশস্ত্র বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অন্য কোনো দেশকে ছলে বা বলে, কিংবা উভয় উপায়ে, একবার দখল করে উপনিবেশ গড়ে তুলতে পারলেই, দখলীকৃত দেশ বা তার বিভিন্ন জনগোষ্ঠী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঔপনিবেশিক শক্তির বশীভূত হয়ে পড়ে না, পড়েনি কখনো, বরং, আগেই বলেছি, উপনিবেশিত জনগোষ্ঠীর ইতিহাস ও রাজনীতি-সচেতন অংশ থেকে নানা ধরনের প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিদ্রোহী প্রয়াস গ্রহণ করে। কিন্তু ঔপনিবেশিক শক্তিকে নানা সময়ে, নানা কারণে, নানা ধরনের বিদ্রোহ, শুধু বল প্রয়োগের মাধ্যমে দমন করার সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করলেই চলে না, বরং সেসব দ্রোহ নিয়ন্ত্রণ করে নিজের রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েম করার জন্য দখলদার শক্তিকে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর মন ও মননের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে হয়। উপনিবেশিত জনগোষ্ঠীর মন ও মননের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ ব্যবস্থাকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য, ব্রিটিশ শাসকশ্রেণিসহ অপরাপর ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তিসমূহ বরাবরই কতগুলো পরস্পর সম্পর্কিত ‘সাধারণ’ অপ-কৌশল অবলম্বন করেছে, যাদের ভেতর থেকে তিনটি প্রধান অপ-কৌশলের ওপর আমরা শিগগিরই কিছুটা আলোকপাত করবো।

কিন্তু তার আগে ইতিহাসের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত সত্য মনে রাখা প্রয়োজন যে, বিভিন্ন দেশ ও জনগোষ্ঠীর ওপর প্রাথমিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তিসমূহ, সেসব অঞ্চলে নিজেদের ‘উন্নত সভ্যতা ও সংস্কৃতি’ বিস্তারের নামে, আসলে প্রতারণা, বিশ্বাসঘাতকতা, লুণ্ঠন, গণহত্যা, পুরনো সভ্যতার ধ্বংসসাধন ও দাসত্ব আরোপসহ এমন কোনো অসভ্য ও অপরাধমূলক তৎপরতা নেই যা অবলম্বন করেনি।

উদাহরণ হিসেবে, পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দী জুড়ে মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ থেকে শুরু করে দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে, ইউরোপের বিভিন্ন রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপের ‘অনুসন্ধান ও আবিষ্কারের’ নামে, ভাগ্যান্বেষী বিভিন্ন সশস্ত্র দল সামরিক আগ্রাসন, লুণ্ঠন, দাসত্ব আরোপ ও দাস ব্যবসা আর গণহত্যার মাধ্যমে স্থানীয় অধিবাসীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করা ও স্বদেশের তরফে উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। স্পেনের কথাই ধরা যাক।
ইউরোপীয় শাসক শ্রেণির ইতিহাস ক্রিস্টোফার কলম্বাসকে (১৪৫১-১৫০৬) ‘অভিযাত্রী’, ‘আবিষ্কারক’ ও ‘বীর’ হিসেবে যতই গৌরবান্বিত করুক না কেন, এই স্পেনীয় লোকটি আসলে ছিল ভয়ঙ্কর স্বার্থান্বেষী এক স্বর্ণলুলুপ দুর্বৃত্ত, যে ক্যারিবীয় অঞ্চলে স্পেনের নির্মাণবিক উপনিবেশয়ান প্রক্রিয়ার উদ্বোধন করেছিল। কলম্বাস যখন ক্যরিবীয় বাহামা দ্বীপপুঞ্জের গুণাহানি দ্বীপে অবতরণ করে, ১৪৯২ সালের ১২ই অক্টোবরে, ঠিক সেইদিনে তার অভিজ্ঞতা ও ভাবনা সম্পর্কে তার নিজেরই দেয়া বর্ণনা থেকেই লোকটির সহজাত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে পরিষ্কার একটি ধারণা পাওয়া যায়। বাহামার এই দ্বীপে আরাওয়াক নামে একটি জনগোষ্ঠী বাস করতো। কলম্বাসের জাহাজ দ্বীপটির তীরে ভিড়তেই, প্রখ্যাত মার্কিন ইতিহাসবিদ হাওয়ার্ড জিন লিখেছেন, ‘অজানা ভাষায় কথা বলা তলোয়ারধারী’ স্পেনীয় নাবিকদের দেখে আরাওয়াকদের একটি দল বিস্মিত হয়ে যায়, কিন্তু অচিরেই তারা এই অচেনা অভ্যাগতদের ‘খাদ্য, পানীয়জল ও উপহার সামগ্রী দিয়ে স্বাগত জানায়’।৯ আর, কলম্বাসের নিজের ভাষায়, “সুদর্শন ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এই নিরস্ত্র লোকগুলো [...] আমাদের জন্য টিয়া পাখি, তুলার বল, ইক্ষু-দণ্ড দিয়ে তৈরি বর্শাসহ আরও অনেক কিছু নিয়ে আসে।”১০ কিন্তু কলম্বাসের স্বার্থান্ধ মাথায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর এই অতিথিপরায়ণ সারল্যকে নিজের বৈষয়িক স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করার বর্বরোচিত চিন্তা উদয় হয়। সে ভাবতে থাকে, আবারো তার নিজের ভাষায়, “এদেরকে খুব ভালো চাকরে পরিণত করা যাবে। [...] জাহাজে থাকা আমার পঞ্চাশ জন সঙ্গী নিয়ে এদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে, এই গোটা দলটিকেই আমরা পদানত করতে পারবো।”১১ এই অসভ্য ও নির্মানবিক চিন্তার বশবর্তী হয়ে কলম্বাস তাদের ‘কয়েকজনকে’ জোর করে, বন্দি হিসেবে জাহাজে তুলে নিয়ে, তাদের সাহায্যে ‘ঐ অঞ্চলে স্বর্ণের খনির সন্ধান’ করার জন্য প্রথমে কিউবা ও পরে ‘হিস্পানিওয়ালা’র দিকে- বর্তমানে যে হাইতি ও ডমিনিকান রিপাবলিক নামক দু’টি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত রয়েছে- অগ্রসর হয় এবং সেখানে একটি ‘দুর্গ’ নির্মাণ করে, যা ‘পশ্চিম গোলার্ধে ইউরোপের প্রথম সামরিক ঘাঁটি’ হিসেবে ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। তারপর, কলম্বাস তার সহযাত্রীদের মধ্য থেকে ২৯ জনকে এই ঘাঁটিতে রেখে, নিকটবর্তী অঞ্চলে স্বর্ণের অনুসন্ধান ও মজুত করার নির্দেশ দিয়ে, ‘দু’টি জাহাজ ভর্তি আরাওয়াক বন্দিসহ’ স্পেনে ফিরে আসে। তারপর, আরও বেশি জাহাজ ও আরও বেশি সঙ্গী নিয়ে, হিস্পানিওয়ালায় ফিরে এসে স্বর্ণ যোগাড়ের জন্য স্পেনের রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা লাভের উদ্দেশ্যে, মাদ্রিদের রাজ দরবারে, হিস্পানিওয়ালা সম্পর্কে সত্য-মিথ্যা মিলিয়ে প্রদত্ত এক বর্ণনায়, কলম্বাস দাবি করেন যে, “হিস্পানিওয়ালা এক অপার্থিব সৌন্দর্যের লীলাভূমি। পাহাড়-পর্বত, সমতল আর চারণভূমির পুরোটাই খুব সুন্দর আর উর্বরা [...] পোতাশ্রয়গুলো রীতিমতো অসাধারণ, আর সেখানে রয়েছে বিশাল বিশাল নদী, যার অধিকাংশের মধ্যেই স্বর্ণকণা বিদ্যমান। [...] তাছাড়া, সেখানে রয়েছে নানা ধরনের মসলা, আর স্বর্ণ ও অন্যান্য ধাতুর বড় বড় খনি।” সেখানকার স্থানীয় অধিবাসীদের সম্পর্কে কলম্বাস বলে যে, “তারা এতই সরল, আর সম্পদ সম্পর্কে তাদের ধারণা এতই পরার্থবাদী, যে চোখে না দেখলে তা বিশ্বাস করা কঠিন। কেউ যদি তাদের কাছে কিছু চায়, তারা কখনোই ‘না’ বলে না। উল্টো, সবাইকেই তারা নিজেদের সম্পদের ভাগ দিতে চায়।”১২ কলম্বাস এবার তার পরবর্তী অভিযানের জন্য কিছুটা ‘রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতার’ আবেদন জানিয়ে প্রতিশ্রুতি দেয় যে, ‘পরবর্তী অভিযান থেকে ফিরে এসে’, রাজকীয় কর্তৃপক্ষের ‘যত স্বর্ণ প্রয়োজন, আর তারা যত দাস-দাসী চাইবেন’, তা-ই সরবরাহ করা হবে। ১৩

লোভাসক্ত রাজকীয় কর্তৃপক্ষ কলম্বাসকে পৃষ্ঠপোষকতা দান করে। কলম্বাস এবার ১৭টি জাহাজ ও বারশ’রও বেশি সঙ্গী নিয়ে ক্যারিবীয় অঞ্চলে ফিরে যায়। নানা দ্বীপে তার রণতরী ভিড়তে থাকে, আর ‘বিভিন্ন দ্বীপ থেকে জোর করে তুলে আনা বন্দিতে ভরতে থাকে জাহাজ’। এই সব দ্বীপ পরিক্রমা শেষে হাইতিতে ফিরে এলে, কলম্বাস দেখতে পায় যে, তার নির্মিত দুর্গে রেখে যাওয়া সঙ্গীরা ইতিমধ্যেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে- দুর্বৃত্তের মতো সংঘবদ্ধ দলে বিভক্ত হয়ে স্বর্ণের অনুসন্ধান, আর যৌন আকাঙ্ক্ষা পূরণ ও দাস-দাসীতে পরিণত করার জন্য নারী ও শিশুদের ধরে ধরে দুর্গে নিয়ে আসার বিরূপ প্রতিক্রিয়ায়, স্থানীয় জনগোষ্ঠী বহিরাগতদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে ইতিমধ্যেই তাদের নির্মূল করে দিয়েছিল।

কিন্তু এই অদম্য উচ্চাকাঙ্ক্ষী কলম্বাস দমে যাওয়ার লোক ছিল না। তাছাড়া, তার র্অভিযানে যারা পুঁজি বিনিয়োগ করেছে, তাদের পুঁজিসহ মুনাফা প্রদানেরও বাধ্যবাধকতা ছিল। ফলে, হাইতিকে কেন্দ্র করে, চারদিকে, এমনকি দ্বীপটির গহীন অঞ্চলে, স্বর্ণের খোঁজে কলম্বাস তার সঙ্গীদের পাঠিয়ে দেয়; কিন্তু স্বর্ণের খনি না পেয়ে তারা শূন্য হাতে ফিরে আসে। এমতাবস্থায় ১৪৯৫ সালে, কলম্বাস ও তার সঙ্গীরা একটি বিরাট অঞ্চল ঘেরাও করে পনের শ’ আরাওয়াক নারী, পুরুষ ও শিশুকে অস্ত্রের মুখে জোর করে ধরে এনে তাদের মধ্য থেকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী পাঁচশ’ জনকে বাছাই করে, কয়েকটি জাহাজ ভর্তি করে স্পেনে চালান করে। পথিমধ্যে দু’শ আরাওয়াক মৃত্যুবরণ করেন। অবশিষ্ট তিনশ’ জন স্পেনে পৌঁছানোর পর, নিকটস্থ শহরের গির্জার এক কর্মকর্তার মাধ্যমে, খোলাবাজারে দাস হিসেবে বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়।১৪ এই ‘সাফল্যের’ খবর শুনে, কলম্বাস নিজের ডায়েরিতে লিখেছিল, “এখন থেকে বিক্রয়যোগ্য সকল দাসকে, পবিত্র ত্রয়ীর নামে, আমরা স্পেনে পাঠাতে পারি।” প্রসঙ্গত, পর্তুগিজ উপনিবেশকরা কালো আফ্রিকার আরগুইন অঞ্চলে, বর্তমানের মৌরিতানিয়া, ১৪৪৮ সালে যে ঘৃণ্য দাস ব্যবসার পত্তন ঘটিয়েছিল, প্রতিটি ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তির অংশগ্রহণের মাধ্যমে, প্রায় চারশ’ বছর ধরে তা টিকেছিল।

এদিকে, কলম্বাস ও তার সঙ্গীরা হাইতির সিরাও প্রদেশের মাটিতে স্বর্ণ থাকার প্রবল সম্ভাবনা ধরে নিয়ে, সে অঞ্চলের চৌদ্দতীর্ণ সকল ব্যক্তিকে প্রতি তিন মাস অন্তর কিছু নির্দিষ্ট পরিমাণ স্বর্ণ সংগ্রহ করে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়। নির্দেশ অনুযায়ী স্বর্ণ জমা দেয়ার পর তাদের প্রত্যেকের গলায় একটি করে তামার মাদুলি ঝুলিয়ে দেয়া হয়। যে সকল আরাওয়াকের গলায় এই মাদুলি দেখা যাবে না, ধরে নেয়া হবে তারা স্বর্ণ সংগ্রহ করে জমা দেয়নি, এবং তাদের জন্য হাত কেটে দিয়ে, শরীরকে রক্তশূন্য করে, মৃত্যুদণ্ডের নিয়ম প্রবর্তন ও বাস্তবায়ন করা হতে থাকে।