স্বাস্থ্যকে আমরা কী হিসেবে দেখব—সেবা খাত, নাকি শিল্প খাত? সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রশ্নটি কেবল অর্থনীতির আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই; এটি চিকিৎসার মানবিকতা, রোগীর অধিকার, স্বাস্থ্য কর্মীর মর্যাদা, রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং বেসরকারি বিনিয়োগের ন্যায্য সীমারেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কে পরিণত হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো— স্বাস্থ্য সেবা মূলত সেবা খাত; তবে স্বাস্থ্য সেবাকে সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাস্থ্য শিল্পের অংশ। স্বাস্থ্য সেবা ও স্বাস্থ্য শিল্প পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং একে অন্যের পরিপূরক। কিন্তু শিল্পের মুনাফা যদি সেবার মানবিক লক্ষ্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে, তখন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তার নৈতিক ভিত্তি হারায়।
একজন রোগী হাসপাতালে আসেন ক্রেতা হিসেবে নয়। তিনি আসেন বুক ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, স্ট্রোক, দুর্ঘটনা, প্রসবজনিত জটিলতা, ক্যানসার, কিডনি বিকল বা অন্য কোনো জীবন সংকট নিয়ে। তাঁর হাতে সময় থাকে না, তথ্য থাকে না, অনেক ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও থাকে না। এই অসহায় অবস্থায় চিকিৎসা কোনো সাধারণ পণ্য বা বাজারের লেনদেন হতে পারে না। চিকিৎসার কেন্দ্রে থাকতে হবে রোগীর জীবন, নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সর্বোত্তম স্বার্থ।
স্বাস্থ্য সেবা কেন মূলত সেবা খাত
স্বাস্থ্য সেবার উদ্দেশ্য হলো রোগ প্রতিরোধ, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং মানুষের কর্মক্ষম ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা। এর মধ্যে রয়েছে—
* নিরাপদ পানি, পয়োনিষ্কাশন, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য শিক্ষা;
* মাতৃ ও নবজাতক সেবা;
* টিকাদান ও সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ;
* উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও হৃদরোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ;
* জরুরি বিভাগ, অ্যাম্বুলেন্স, অপারেশন থিয়েটার ও নিবিড় পরিচর্যা;
* ওষুধ, পরীক্ষা, পুনর্বাসন ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবা;
* প্রতিবন্ধী, প্রবীণ, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয় সহায়তা।
এসবের প্রতিটিই জনস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। একজন ব্যক্তি রোগে আক্রান্ত হলে শুধু তার পরিবার নয়, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা, জাতীয় উৎপাদনশীলতা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি পরিবার চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে জমি বিক্রি করলে বা ঋণগ্রস্ত হলে সেটি কেবল ব্যক্তিগত দুর্ভাগ্য নয়; সেটি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতারও প্রতিফলন।
স্বাস্থ্য সেবা তাই সমাজের প্রতি রাষ্ট্রের মৌলিক দায়ের অংশ। একটি কার্যকর রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হয়—কেউ যেন অর্থের অভাবে জরুরি চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন; প্রাথমিক পর্যায়ে যেন রোগ শনাক্ত হয়; জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও পরীক্ষা যেন মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে; এবং বিপদে পড়লে রোগী যেন দ্রুত উপযুক্ত হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেন।
স্বাস্থ্য শিল্প কোথায় এবং কেন প্রয়োজন
স্বাস্থ্য সেবা মানবিক সেবা হলেও আধুনিক চিকিৎসা চালাতে শক্তিশালী শিল্পভিত্তিক সহায়তা অপরিহার্য। ওষুধ, স্যালাইন, অক্সিজেন, ইনসুলিন, রিএজেন্ট, রক্তের ব্যাগ, ক্যাথেটার, স্টেন্ট, পেসমেকার, ভেন্টিলেটর, ডায়ালাইসিস মেশিন, ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম, সিটি স্ক্যান, এমআরআই, ল্যাবরেটরি প্রযুক্তি, হাসপাতাল সফটওয়্যার, টেলিমেডিসিন ও অ্যাম্বুলেন্স—সবকিছুর পেছনে রয়েছে গবেষণা, উৎপাদন, আমদানি, রক্ষণাবেক্ষণ, বিতরণ এবং দক্ষ জনবল।
এই অংশটিই স্বাস্থ্য শিল্প। একটি মানসম্মত ওষুধশিল্প দেশের জন্য সম্পদ। স্থানীয়ভাবে নিরাপদ ও কার্যকর ওষুধ উৎপাদন হলে রোগীর ব্যয় কমে, বিদেশ-নির্ভরতা কমে এবং জরুরি সময়ে সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়। চিকিৎসা-সরঞ্জাম, বায়োমেডিক্যাল প্রযুক্তি ও গবেষণায় দেশীয় সক্ষমতা গড়ে উঠলে আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ বাড়ে।
তবে স্বাস্থ্য শিল্পের একটি মৌলিক শর্ত আছে—পণ্য ও প্রযুক্তি রোগীর স্বার্থে ব্যবহৃত হবে, রোগীকে পণ্যের বাজারে পরিণত করার জন্য নয়। কোন পরীক্ষা প্রয়োজন, কোন ওষুধ উপযুক্ত, কোন ডিভাইস ব্যবহার হবে বা কোনো অপারেশন দরকার কি না—এসব সিদ্ধান্তে চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রমাণ, নৈতিকতা এবং রোগীর স্বার্থই প্রধান হওয়া উচিত।
বাজারের যুক্তি যেখানে সীমিত
সাধারণ বাজারে মানুষ পণ্য পছন্দ করেন, মূল্য তুলনা করেন, কিনবেন কি না সে সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু জরুরি চিকিৎসায় এই স্বাধীনতা প্রায়ই সীমিত থাকে। হার্ট অ্যাটাকের রোগী, গুরুতর আহত ব্যক্তি বা জটিল প্রসবের রোগী পণ্য তুলনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। রোগী ও তার পরিবার চিকিৎসক এবং হাসপাতালের ওপর আস্থা রাখেন।
এই আস্থার কারণেই চিকিৎসা ব্যবস্থায় নৈতিকতার গুরুত্ব অন্য সব খাতের চেয়ে বেশি। অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা, অযৌক্তিক ওষুধ, প্রয়োজন ছাড়া ভর্তি, অতিরিক্ত ব্যয়ের প্যাকেজ বা কমিশনভিত্তিক রেফারেল—এসব শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়; এগুলো রোগীর আস্থা এবং চিকিৎসার মানবিক ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
একইভাবে, কেবল লাভজনক সেবা দিয়ে কোনো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পূর্ণাঙ্গ বলা যায় না। জরুরি বিভাগ, নিবিড় পরিচর্যা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, রক্তব্যাংক, পুনর্বাসন, প্যালিয়েটিভ কেয়ার, মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ও গ্রামীণ চিকিৎসা অনেক সময় লাভজনক নয়, কিন্তু জীবন রক্ষায় অপরিহার্য। এগুলোকে উপেক্ষা করলে হাসপাতাল হয়তো ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাভবান হবে, কিন্তু জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা হিসেবে ব্যর্থ হবে।
স্বাস্থ্য কর্মী শুধু কর্মচারী নন
চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ, টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, অ্যাম্বুলেন্স কর্মী এবং প্রশাসনিক সহায়ক কর্মীরা মিলে স্বাস্থ্য সেবা পরিচালনা করেন। একটি হাসপাতালের ভবন, যন্ত্রপাতি ও বিজ্ঞাপন যতই আধুনিক হোক, প্রশিক্ষিত ও নিরাপদ জনবল ছাড়া মানসম্মত সেবা সম্ভব নয়।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক স্বাস্থ্য কর্মী সীমিত জনবল, অতিরিক্ত রোগীর চাপ, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, অনিয়মিত বেতন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংকট এবং সামাজিক অসম্মানের মধ্যেও কাজ করেন। চিকিৎসকের ভুলের জবাবদিহি অবশ্যই থাকতে হবে; কিন্তু চিকিৎসার প্রতিটি জটিলতাকে অপরাধ হিসেবে দেখলে কেউ নিরাপদভাবে কাজ করতে পারবেন না। তখন রোগীও শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হন।
স্বাস্থ্য কর্মীর নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন, যুক্তিসংগত কর্মঘণ্টা, আবাসন, বিশ্রাম, প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত মর্যাদা—এসব বিলাসিতা নয়; এগুলো রোগীর নিরাপত্তারও শর্ত। ক্লান্ত, ভীত বা অবমূল্যায়িত স্বাস্থ্য কর্মীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ মানের সেবা আশা করা যায় না।
সরকারি ও বেসরকারি খাতের সম্পর্ক
বাংলাদেশের মতো দেশে সরকারি ও বেসরকারি—দুই খাতকেই বাস্তবসম্মতভাবে শক্তিশালী করতে হবে। সরকারি খাতের দায়িত্ব হলো জনস্বাস্থ্য, প্রাথমিক চিকিৎসা, জরুরি সেবা, মাতৃ ও শিশুসেবা, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, দরিদ্র রোগীর চিকিৎসা এবং দূরবর্তী জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়া।
বেসরকারি খাতও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা হাসপাতাল, পরীক্ষা, উন্নত চিকিৎসা, বিশেষায়িত সেবা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে পারে। কিন্তু এই বিনিয়োগের সঙ্গে স্বচ্ছতা, ন্যায্য মূল্য, মান নিয়ন্ত্রণ, রোগীর তথ্য জানার অধিকার, অভিযোগের নিরপেক্ষ প্রতিকার এবং চিকিৎসা-নৈতিকতার বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে।
বেসরকারি হাসপাতাল লাভ করতে পারে, কিন্তু চিকিৎসাকে লুটপাটের ক্ষেত্র বানাতে পারে না। সরকারি হাসপাতাল বিনা মূল্যে বা স্বল্পমূল্যে সেবা দিতে পারে, কিন্তু জবাবদিহিতাহীনতা, অব্যবস্থাপনা কিংবা অবহেলার আশ্রয় নিতে পারে না। দুই ক্ষেত্রেই মান, নৈতিকতা ও রোগীর অধিকার এক হওয়া উচিত।
রোগীর অধিকার ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন
রোগীর অধিকার নিশ্চিত না হলে স্বাস্থ্য সেবাকে মানবিক বলা যায় না। রোগী ও স্বজনদের জানার অধিকার আছে—
* রোগের সম্ভাব্য ধরন কী;
* কোন পরীক্ষা কেন প্রয়োজন;
* চিকিৎসার বিকল্প কী কী;
* সম্ভাব্য ঝুঁকি, উপকার ও সীমাবদ্ধতা কতটুকু;
* চিকিৎসা ও পরীক্ষার আনুমানিক ব্যয় কত;
* জরুরি অবস্থায় কোথায় এবং কীভাবে রেফার করা হবে;
* চিকিৎসার নথি ও রিপোর্ট কীভাবে পাওয়া যাবে।
চিকিৎসকেরও অধিকার আছে যুক্তিসংগত সময় নিয়ে রোগী দেখার, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করার, রোগীর সম্মতি নেওয়ার এবং অযৌক্তিক চাপ বা হুমকি ছাড়া পেশাগত সিদ্ধান্ত দেওয়ার। রোগী ও চিকিৎসককে মুখোমুখি দাঁড় করানো কোনো সমস্যার সমাধান নয়। প্রয়োজন স্বচ্ছ নীতি, শক্তিশালী রেগুলেটরি কাঠামো, অভিযোগ তদন্তের নিরপেক্ষ ব্যবস্থা এবং রোগী-চিকিৎসক উভয়ের প্রতি ন্যায়বিচার।
বাংলাদেশের জন্য কী ধরনের নীতি প্রয়োজন
বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সেবার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আমরা স্বাস্থ্যকে কতটা জাতীয় অগ্রাধিকার দিতে পারি তার ওপর। এ জন্য কয়েকটি বিষয় অত্যন্ত জরুরি।
প্রথমত, একটি বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি প্রয়োজন, যেখানে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য সেবা, জনস্বাস্থ্য, জরুরি চিকিৎসা, অসংক্রামক রোগ, মানসিক স্বাস্থ্য, পুনর্বাসন এবং স্বাস্থ্যবিমার সুস্পষ্ট রূপরেখা থাকবে।
দ্বিতীয়ত, প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবাকে শক্তিশালী করতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, হৃদ্রোগ ও ক্যানসারের প্রাথমিক শনাক্তকরণ উপজেলা ও কমিউনিটি পর্যায়েই সহজলভ্য হওয়া দরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে জটিলতা ও চিকিৎসা ব্যয় দুটোই কমে।
তৃতীয়ত, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে জরুরি চিকিৎসা-নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, দুর্ঘটনা, মা ও নবজাতকের জরুরি অবস্থা—এসব ক্ষেত্রে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স, টেলিমেডিসিন, ইসিজি, উপযুক্ত রেফারেল এবং দক্ষ চিকিৎসা সমন্বয় জীবন বাঁচাতে পারে।
চতুর্থত, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে হবে। লাইসেন্স, প্রশিক্ষিত জনবল, রোগীর-নিরাপত্তা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, রক্তব্যাংক, জরুরি সাড়া, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্বচ্ছ মূল্যতালিকা নিয়মিত তদারকির আওতায় আনতে হবে।
পঞ্চমত, স্বাস্থ্য শিল্পে গবেষণা ও স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহ দিতে হবে, কিন্তু ওষুধ ও যন্ত্রপাতির মানের সঙ্গে কোনো আপস করা যাবে না। নিরাপদ ও কার্যকর ওষুধ, নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা এবং মানসম্পন্ন চিকিৎসা-সরঞ্জাম নিশ্চিত করাই হবে নীতির মূল কথা।
ষষ্ঠত, রোগীর নিজস্ব ব্যয় কমাতে হবে। অসুস্থতা যেন পরিবারকে দারিদ্র্যের দিকে না ঠেলে দেয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, জরুরি পরীক্ষা ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে হবে। দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের জন্য কার্যকর আর্থিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাও জরুরি।
উপসংহার
স্বাস্থ্যকে শিল্প বললে কেবল অর্থনীতি দেখা হয়; স্বাস্থ্যকে শুধু সেবা বললে আধুনিক চিকিৎসার প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা আড়াল হয়ে যায়। সঠিক অবস্থান হলো— স্বাস্থ্য সেবা মানুষের অধিকার ও মানবিক সেবা; স্বাস্থ্য শিল্প সেই সেবার প্রয়োজনীয় সহায়ক কাঠামো।
তাই স্বাস্থ্য খাতের সাফল্য মাপতে হবে শুধু কতটি হাসপাতাল, কতটি ভবন বা কত টাকার বিনিয়োগ হলো তা দিয়ে নয়। মাপতে হবে—একজন দরিদ্র রোগী সময়মতো চিকিৎসা পেলেন কি না, একজন মা নিরাপদে সন্তান জন্ম দিলেন কি না, একজন হার্ট অ্যাটাকের রোগী দ্রুত জীবনরক্ষাকারী সেবা পেলেন কি না, একটি শিশুর টিকা হলো কি না, একজন স্বাস্থ্য কর্মী নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে কাজ করতে পারলেন কি না।
মানুষের জীবনকে মুনাফার ঊর্ধ্বে রেখে, আবার বিজ্ঞান, দক্ষতা, প্রযুক্তি ও সুশাসনকে সঙ্গে নিয়েই একটি মানবিক, জবাবদিহিতামূলক এবং সবার জন্য কার্যকর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
লেখক : অধ্যাপক, এমবিবিএস (ডিএমসি), এমডি (কার্ডিওলজি), ক্লিনিক্যাল ও ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট, বিভাগীয় প্রধান, কার্ডিওলজি বিভাগ, পপুলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা।
