প্রবীণবান্ধব একজন পেশাদার সাংবাদিকের কথা

প্রবীণবান্ধব একজন পেশাদার সাংবাদিকের কথা

ফন্ট সাইজ:

আমি কাজ করি প্রবীণদের নিয়ে। বয়সের সাথে তাদের প্রতি মানুষ ও সমাজের দায়িত্ব, কর্তব্য এবং সংবেদনশীল মনোভাব পোষণ করার বৈচিত্রময় দিক আমার লেখার বিষয়। পরিবর্তিত বিশ্বপরিস্থিতি ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার সুযোগে মানুষের মনোজগতেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এসব পরিবর্তন কখনও কখনও প্রবীণদের প্রতি সমাজের একটি বড় অংশের আচরণগত পরিবর্তনে প্রভাব ফেলে। এ পরিবর্তন অবধারিত। প্রতিটি মানুষই প্রবীণ হন। তাই সবারই তাদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত। এতে একটি সুন্দর সমাজের বুনিয়াদ গড়ে উঠে। যাহোক, আজকে অবশ্য আমি অন্য একটি বিষয় নিয়ে লিখবো। আমার দেখা একজন প্রবীণবান্ধব সাংবাদিককে নিয়ে এখানে লিখতে চাই।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ব্যবসায় সাংবাদিকতায় সামনে থেকে কাজ করছেন সিনিয়র সাংবাদিক ফারুক মেহেদী। প্রায় আড়াই দশকের সাংবাদিকতায় অভিজ্ঞ এ সাংবাদিকের সাথে আমার পরিচয় প্রায় এক দশক আগে, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরে ২০১৬-১৭ সালের দিকে। সেখানে তিনি বিজনেস এডিটর হিসেবে কাজ করতেন। একজন পেশাদার বিজনেস সাংবাদিক হিসেবে তিনি প্রবীণবান্ধবদের নিয়ে বিভিন্ন কাজেও যুক্ত। আমরা প্রবীণদের নিয়ে বিভিন্ন সভা, সেমিনার, উৎসবসহ নানান আয়োজন করে থাকি। তিনি গত এক দশক ধরেই এসব কাজে নির্মোহ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।

আমি তার লেখা অর্থনীতির কলামগুলোও নিয়মিত ভাবে পড়ে থাকি। যেখানে দেশের অর্থনৈতিক বিষয়গুলো খুব সহজভাবে পাঠকের জন্য তুলে ধরেন তিনি। সবচেয়ে বড় কথা হলো তিনি একজন অর্থনীতি বিষয়ক সাংবাদিক সত্য; কিন্তু প্রবীণ বিষয়ক জনসচেতনতা তৈরিতে তার অকুণ্ঠ সমর্থন প্রেরণাদায়ক। তিনি নিজেও প্রবীণদের নানান সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কলাম লিখেছেন। প্রবীণরা বৃদ্ধ বয়সে ডিমেনশিয়া কিংবা অ্যালজাইমার্স রোগে ভোগেন। তিনি এসব নিয়ে লেখালেখি করেছেন।

এজিং সাপোর্ট ফোরাম বা সংশ্লিষ্ট আরও বিভিন্ন সংগঠন থেকে আমরা নিয়মিত বিরতিতে প্রবীণদের নিয়ে নানান রকম অনুষ্ঠান করি। তিনি প্রবীণ না হয়েও এসব অনুষ্ঠানে বিনাপ্রশ্নে অংশ নেন। প্রবীণদের প্রতি রাষ্ট্রের ভূমিকা, বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রাখা, নীতি সহায়তা দেয়াসহ এই সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি সব সময় উচ্চকণ্ঠ।
লেখক: প্রবীণ বিষয়ক লেখক ও গবেষক