ট্যুরিজম মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে-পর্যটন মন্ত্রী মিল্লাত

ট্যুরিজম মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে-পর্যটন মন্ত্রী মিল্লাত

ফন্ট সাইজ:

ঢাকায় শুরু হয়েছে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় আয়োজিত মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে ১০টি দেশের ২০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা অংশ নিয়েছে। প্রায় ৩০০টি স্টলে বিভিন্ন দেশের পর্যটন গন্তব্য, পর্যটনপণ্য, সেবা এবং বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, একটি ট্যুরিজম মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে।

এতে বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণ ও গন্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের পর্যটন সম্পদকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় এনে পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন করা হবে। কক্সবাজারকে একটি আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অবকাঠামো, সেবা, বিনোদন ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন পর্যটন নীতিমালায় বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা কেবল কয়েকটি পরিচিত গন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলের রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও মানুষের গল্প। এসব সম্ভাবনাকে একটি সুপরিকল্পিত, টেকসই ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক পর্যটনশিল্পে রূপান্তর করাই এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন খাতে শৃঙ্খলার ঘাটতি দেশের অর্থনীতিতে নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। পর্যটন খাতেও গত দুই দশকে কাঙ্ক্ষিত ও দৃশ্যমান উন্নয়ন উদ্যোগের ঘাটতি ছিল। সেই বাস্তবতা থেকেই বর্তমান সরকার পর্যটন খাতের উন্নয়নে কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নের বৃহত্তর কর্মসূচির অংশ হিসেবে পর্যটন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ‘আগামীকাল নয়, শুরু হোক এখনই’—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকার পর্যটন খাতের উন্নয়নে কাজ করছে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে পর্যটন খাতের অবদান ৮ থেকে ৯ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন সুপরিকল্পিত বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ, আধুনিক অবকাঠামো, উন্নত সেবা, কার্যকর বিপণন এবং আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন ব্যবস্থাপনা। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া কোনো দেশের পর্যটনশিল্প টেকসইভাবে বিকশিত হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে বৈশ্বিক বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের সংস্থার স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলাল এবং নেপাল, ফিলিপাইন, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূতগণ।