ভারতে মাওবাদী বিপর্যয়ের মধ্যে যে কজন শীর্ষ নেতা পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশকে অবশেষে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ।
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই তিনি ওই এলাকায় এসেছিলেন। বাংলা-ওড়িশা-ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলযুদ্ধের অন্যতম কমান্ডার আকাশের মাথার দাম ছিল ২ কোটি ২০ লক্ষ রুপি।
বৃহস্পতিবার সকালে এসটিএফের বিশেষ অপারেশনে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর থেকে দীর্ঘদিনের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ মাওবাদী নেতা আকাশকে গ্রেপ্তাররের খবর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন। এই সাফল্যের জন্য কলকাতা পুলিশের এসটিএফ-কে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ।
এক্স হ্যান্ডলে দীর্ঘ পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, আমি স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, পশ্চিমবঙ্গে ত্রিসীমানায় লাল সন্ত্রাসকে খতম করা হবে। কোথাও মাথাচাড়া দেয়ার চেষ্টা হলে রাজ্য সরকার শক্ত হাতে দমন করবে। আমাদের পুলিশ এ বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক ও দক্ষ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর নির্দেশে দেশকে মাওবাদীমুক্ত করতে লাগাতার যৌথ বাহিনীর অপারেশনে ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ডে একে একে মাওবাদীরা হয় আত্মসমর্পণ করেছেন নয়তো অভিযান চালিয়ে তাদের খতম করা হয়েছে।
কিন্তু যৌথ বাহিনীর এত কঠিন অপারেশনের মধ্যেও আকাশ নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। আত্মসমর্পণ বা লড়াইয়ে মৃত্যুমুখে পড়েননি। বরং স্কোয়াডের বাকি সদস্যদের নিয়ে নতুন করে জঙ্গলযুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু তা আর হলো না।
আকাশের মাওবাদী জীবনের ইতিহাসও দীর্ঘ। ১৯৮০-র দশকে কলেজজীবন থেকেই তিনি বাম উগ্রপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন বলে প্রতিবেদনগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে সিপিআই (মাওবাদী)-র সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। কিষানজির মৃত্যুর পর তিনি পশ্চিমবঙ্গের মাওবাদী সংগঠনের নেতৃত্বে উঠে আসেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে জঙ্গল এলাকায় থেকে সংগঠন পরিচালনা করেছেন তিনি।
