চলচ্চিত্রের এক ঝাঁক গুণীজনকে সম্মাননা দিয়েছে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে’। আয়োজন ঘিরে এক মঞ্চে মিলিত হন চলচ্চিত্রের কয়েক প্রজন্মের পরিচিত মুখ। দুই শতাধিক চলচ্চিত্র প্রযোজনার মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয় ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরকে। চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন পরিচালক কাজী হায়াত, সোহেল রানা, মতিন রহমান, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, আবু মুসা দেবু, মহিউদ্দিন শাকের, আবুল খায়ের বুলবুল ও আওকাত হোসেন। এ ছাড়া সম্মাননা পান কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন।
বুধবার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। তিনি বলেন, আগের সিনেমাগুলো আমরা শুধু দেখতামই না, সেগুলো আমাদের হৃদয়ে থেকে যেত। কোনো না কোনো ইতিবাচক বার্তা আমাদের হৃদয়ে গেঁথে থাকতো। আমরা সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করব, আগামীতে এমন সিনেমা নির্মিত হবে, যেগুলো সবই আমাদের কথা বলবে। আমরা চাই- এমন সিনেমা নির্মিত হোক, যেগুলো সমাজকে পরিবর্তন করবে।
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সিনেমার উন্নতির জন্য আমাদের কাছে একটি পরিপূর্ণ রিপোর্ট চেয়েছিলেন। সিনেমা ও এফডিসির উন্নতির জন্য যা যা করা দরকার, আমরা খুব শিগগিরই সেগুলো বাস্তবায়ন করব। আমি নিজেও একজন ফিল্মমেকার হতে চেয়েছিলাম, এ কারণে এই সেক্টর নিয়ে আমার আগ্রহ একটু বেশি।
সম্মাননা গ্রহণের পর ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি ও মন্ত্রী মহোদয়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। এভাবে আমরা সবাই একত্রিত থাকলে আমাদের চলচ্চিত্র আরও এগিয়ে যাবে।
চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন বলেন, অনেক পরিচালকের সঙ্গে এই প্রজন্মের অনেকের যোগাযোগ নেই। যারা গুণী নির্মাতা, তাদের চলচ্চিত্র আমাদের চলচ্চিত্রকে এগিয়ে যেতে অনেক সাহায্য করেছে। এ কারণে পরিচালক সমিতি গুণীজনদের সম্মাননা দিয়েছে।
সমিতির মহাসচিব শাহীন কবির টুটুল বলেন, যাদের মাধ্যমে আমাদের চলচ্চিত্র সমৃদ্ধ হয়েছে, তাদের অনেকেই হয়তো জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি পাননি। আবার অনেকে পেয়েছেন। পরিচালক সমিতির পক্ষ থেকে আমরা গুণীদের সম্মাননা জানিয়েছি। আমাদের চেষ্টা থাকবে প্রতি বছর ৩রা আগস্ট এই দিনটি পালন করার। কারণ এই দিনে ‘মুখ ও মুখোশ’ মুক্তি পেয়েছিল। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা।
