বংশালে মেস থেকে জবি শিক্ষার্থীকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার, পরে ঢামেকে মৃত্যু

বংশালে মেস থেকে জবি শিক্ষার্থীকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার, পরে ঢামেকে মৃত্যু

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর বংশালে চাঁনখানপুলের কায়েতটুলি এলাকার একটি মেস থেকে অনিক চন্দ্র পাল (২১) নামে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সোয়া ১২টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

অনিক চন্দ্র পাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং ও পেইন্টিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। সে সিলেটের শিবপুর উপজেলার অরবিন্দ পালের ছেলে।
নিহতের মেস সদস্য ও জবি শিক্ষার্থী জয় ভূঁইয়া জানান, দুই দিন আগে নিহত অনিকের সঙ্গে তার প্রেমিকার বিচ্ছেদ হয়ে যায়। বিচ্ছেদের পর থেকে অনিকের মোবাইল ফোন বন্ধ ও ভাঙা পাওয়া যায়। এরপর থেকেই অনিক মেসে একা চুপচাপ থাকতে শুরু করেন। হতাশাগ্রস্ত ছিল। পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যা এবং আর্থিক সমস্যার মধ্যেও ছিল। মঙ্গলবার রাত ৯টা বা সাড়ে ৯টার দিকে অনিকের এক ব্যাচমেট তাকে ফোন কলে না পেয়ে মেসে এসে তার রুমে গিয়ে দেখতে পান দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। পরে জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে দেখেন অনিককে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে। পরে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে ছুটে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং ও পেইন্টিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর সুবাস পাল। তিনি বলেন, ‘স্টুডেন্টরা আমাকে ঘটনা জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছাই। গিয়ে দেখি অনিক আর বেঁচে নেই।’
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।’
বংশাল থানার ওসি আশিক ইকবাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, এটা আত্মহত্যার ঘটনা। তার পরিবারের সদস্যরা আসছেন। তারা আসার পর মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’