মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান

মানবপাচার জালিয়াত চক্রে বাংলাদেশি

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান

ফন্ট সাইজ:

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি, মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়ার কিছু নাগরিক মানবপাচারে জালিয়াত চক্র গড়ে তুলেছে। সাম্প্রতিক অভিযানে বেশ কিছু বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এরপরই মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনাকে কারসাজি করে পরিচালনা এবং জাল নথি তৈরির সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর কার্যক্রমের মূল শিকড় উপড়ে ফেলার ব্যাপারে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। এমন প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল। তিনি বলেন, অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম) এখন আর আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে নেই। বরং এসব চক্রের উৎসস্থলেই আঘাত করে তাদের কার্যক্রম পঙ্গু করে দিতে আগ্রাসীভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা বারনামা। 

ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব এসব জালিয়াতি চক্রের মূল শিকড় উপড়ে ফেলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার পুরো সময়ে আমরা প্রমাণ করেছি, জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষায় প্রশাসনিক ক্ষমতা সাহসের সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে।

সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল বলেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর জেআইএমের পরিচালিত ‘অপস সারকাপ’ অভিযানে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওই অভিযানে কুয়ালালামপুরের জালান চান সো লিন বাণিজ্যিক এলাকায় একযোগে ১১টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। তিনি জানান, অভিযানে ৩০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চক্রটির মূল হোতা হিসেবে সন্দেহ করা ১১ জন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও একজন নারী। তারা সবাই বাংলাদেশি এবং ওই প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও ১৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ জন বাংলাদেশি, একজন মিয়ানমারের এবং দুজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। অভিযানের সময় ১৮টি ল্যাপটপ, ২১টি প্রিন্টার ও স্ক্যানার, তিনটি মোবাইল ফোন এবং বাংলাদেশের ১০টি আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া জাল ইলেকট্রনিক টেম্পোরারি এমপ্লয়মেন্ট ভিজিট পাস (ই-পিএলকেএস) এবং জাল পুলিশ রিপোর্টের মুদ্রিত কপিও জব্দ করা হয়। সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল জানান, প্রতিটি জাল ই-পি এলকেএস ১৫০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত এবং প্রতিটি জাল পুলিশ রিপোর্ট ৭০ রিঙ্গিতে বিক্রি করা হতো। তিনি বলেন, এসব চক্রের কর্মকাণ্ড শুধু অভিবাসন প্রশাসন ব্যবস্থাকে দুর্বল করছে না, একই সঙ্গে জননিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি করছে।

পাশাপাশি বিদেশিদের অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের সুযোগও তৈরি করছে এসব কর্মকাণ্ড। তিনি আরও বলেন, মাদানি সরকার একটি স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে দেশের প্রবেশপথগুলোতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং অবৈধ চক্রগুলোর শোষণ থেকে স্থানীয় শ্রমবাজারকে সুরক্ষিত রাখার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া অপরাধীদের খেলাঘর নয়। কোনো বিদেশি ব্যক্তি কিংবা মালয়েশিয়ার নাগরিক আইন ভাঙার, জাল নথি তৈরির বা অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা করলে তাদের খুঁজে বের করা হবে, গ্রেপ্তার করা হবে এবং আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তিনি বলেন, অবৈধ চক্রগুলোর সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় নথি জালিয়াতদের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযান অব্যাহত থাকবে।