ঠিকাদারের অর্থে ফের বিদেশ ভ্রমণে সরকারি কর্মকর্তারা

সহযোগীদের খবর

ঠিকাদারের অর্থে ফের বিদেশ ভ্রমণে সরকারি কর্মকর্তারা

ফন্ট সাইজ:

বণিক বার্তা

‘ঠিকাদারের অর্থে ফের বিদেশ ভ্রমণে সরকারি কর্মকর্তারা’—এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যয় সাশ্রয়ে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সচিব ও সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য আকাশপথে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিজনেস, ক্লাব বা এক্সিকিউটিভ শ্রেণীর পরিবর্তে সুলভ শ্রেণী (ইকোনমি ক্লাস) বাধ্যতামূলক করে নির্দেশনা জারি হয়।

চেইন ডোজার, যা ক্রলার বুলডোজার নামেই বেশি পরিচিত। দেশে বিভিন্ন কাজে চেইন ডোজারের ব্যবহারও রয়েছে। এ ধরনের দুটি বুলডোজার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণে অংশ নিতে বিদেশ ভ্রমণের সরকারি অনুমোদন পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের চার কর্মকর্তা। এ ভ্রমণের যাবতীয় ব্যয় বহন করবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সোহেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের সরঞ্জাম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্যও সম্প্রতি চীন সফরের অনুমোদন পেয়েছেন আরো চার সরকারি কর্মকর্তা। এক্ষেত্রেও ভ্রমণের ব্যয় বহন করছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রীন ডট লিমিটেড। ঠিকাদার ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থে বিদেশ ভ্রমণ পরিহারের জন্য সরকারের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের ভ্রমণের অনুমোদন দেয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিদেশ ভ্রমণ-সংক্রান্ত একটি সরকারি আদেশ (জিও) জারি করা হয় গত ৬ সেপ্টেম্বর। এতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম ফয়সাল, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. বরকত হায়াত, ডিএনসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী, যান্ত্রিক সার্কেল মাকসূদ আলম এবং ডিএনসিসির সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুল ইসলামকে পাঁচদিনের চীন ভ্রমণের অনুমতি দেয়া হয়।

সরকারি এ চার কর্মকর্তার বিদেশ সফরের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, তারা দুটি চেইন ডোজার (বুলডোজার) পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন। তাদের এ ভ্রমণকে দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং সব ধরনের ব্যয় বহন করবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সোহেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

ডিএনসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী, যান্ত্রিক সার্কেল মাকসূদ আলমকে এ ভ্রমণ বিষয়ে মন্তব্য জানার জন্য গতকাল যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি শোনার পর ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থাকে সরঞ্জাম সরবরাহ করে বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান সোহেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। সরবরাহকারী এ প্রতিষ্ঠানের অর্থে গত বছরের নভেম্বরে হুইল ডোজার পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণ নেয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা পরিদর্শনের অনুমোদন পেয়েছিলেন তিন সরকারি কর্মচারী। তারা ছিলেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সচিব সুমনা আল মজিদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. ফিরোজ মাহমুদ ও ডেভেলপমেন্ট অব রোড অ্যান্ড ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক উইথ সিটিজেন সার্ভিস অব ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন প্রকল্পের পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম মিয়া।

এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে পাঁচটি চেইন ডোজার কেনার আগে অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স ট্রেনিংয়ের জন্য চীন ভ্রমণের অনুমোদন পেয়েছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তিন কর্মকর্তা। তাদের ভ্রমণসংক্রান্ত সব ধরনের ব্যয় বহন করেছিল উৎপাদক প্রতিষ্ঠান সিনোওয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল (সাংহাই) কোম্পানি লিমিটেড ও এইচটিএমএস।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়ন হচ্ছে ১০টি অগ্রাধিকারভিত্তিক শহরে সমন্বিত স্যানিটেশন ও হাইজিন (সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা) প্রকল্প। বাংলাদেশ সরকার ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের ব্যয় ৫৫৯ কোটি টাকা। এজন্য একটি ডিসচার্জিং সরঞ্জামের পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণে অংশ নিতে ২০ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর চীন ভ্রমণের অনুমোদন পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আনোয়ার ইমাম, প্রকল্প পরিচালক এসএম শামীম আহমেদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ ছামিউল হক ও মো. শামীম আনোয়ার। গত ৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব ড. আশফিকুন নাহার স্বাক্ষরিত আদেশে তাদের এ বিদেশ ভ্রমণের অনুমোদন দেয়া হয়। আদেশে তাদের এ ভ্রমণকে দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা এবং সব ধরনের ব্যয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রীন ডট লিমিটেড বহন করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আনোয়ার ইমাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ ভ্রমণের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের কাছে উপযুক্ত প্রতিনিধি প্রেরণের অনুরোধ করা হয়েছিল এবং মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে মনোনীত করা হয়েছে। এর বেশি কিছু আমি জানি না।’ এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তিনি প্রকল্প পরিচালক এসএম শামীম আহমেদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

এ বিদেশ ভ্রমণে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রীন ডট লিমিটেডের অর্থায়ন করার কারণ জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক এসএম শামীম আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পের একটি নির্দিষ্ট ডিসচার্জিং ইকুইপমেন্টের সাপ্লায়ার। টেন্ডার ডকুমেন্ট অনুযায়ী ইকুইপমেন্টটির অপারেশন ও মেইনটেন্যান্সের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় সাপ্লায়ারকেই বহন করতে হবে। ডোনার অর্থায়িত এ প্রকল্পে ইকুইপমেন্ট কেনার অর্থ ডোনার দিলেও অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স-সংক্রান্ত এ ব্যয়ের জন্য আলাদা কোনো অর্থ সরকারকে দিতে হবে না। টার্মস অব রেফারেন্সেই এটি সাপ্লায়ারের নিজস্ব ব্যয় হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে। ফলে কর্মকর্তাদের ম্যানুফ্যাকচারিং কান্ট্রিতে নিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়ার খরচও সাপ্লায়ারকে বহন করার কথা।’

জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ছোট আকারের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পটি (সিডিআরএসএসডব্লিউআরএমপি) এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ইফাদ ও নেদারল্যান্ডস সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পের অধীনে চলতি বছরের জুলাইয়ে পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের অনুমোদন পেয়েছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং এলজিইডির ছয় কর্মকর্তা। তাদের এ বিদেশ ভ্রমণের অর্থায়ন করেছিল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সরকার কবীর আহমেদ।

সরকারি কর্মচারীদের যথেচ্ছ বিদেশ ভ্রমণের লাগাম টানতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে তিন দফায় নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। এর মধ্যে বিদেশ ভ্রমণকে নিরুৎসাহিত করে ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর প্রথম নির্দেশনা জারি করা হয়। অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থ ছাড়া বিদেশ ভ্রমণে যাওয়া যাবে না বলেও তখন জানানো হয়। আর সরকারি অর্থে কম প্রয়োজনীয় ভ্রমণ অবশ্যই পরিহারের কথাও উল্লেখ করা হয় নির্দেশনায়। মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অধীন অধিদপ্তর বা সংস্থাপ্রধানদের একান্ত অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থ ছাড়া একসঙ্গে বিদেশ ভ্রমণে যেতে নিষেধ করা হয়। কেনাকাটা, প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন বা ফ্যাক্টরি অ্যাকসেপটেন্স টেস্ট ইত্যাদির ক্ষেত্রে কেবল সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ পাঠানোর বিষয়ে বিবেচনা করতে বলা হয় ওই নির্দেশনায়।

বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য দিকনির্দেশনা দিয়ে ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ আবারো পরিপত্র জারি করে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। সেখানে বলা হয়, ঠিকাদার বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণ অবশ্যই পরিহার করতে হবে। জরুরি কারণ ছাড়া উপদেষ্টা বা জ্যেষ্ঠ সচিব কিংবা সচিব, একান্ত সচিব অথবা সহকারী একান্ত সচিবদের সহযাত্রী হিসেবে বিদেশ ভ্রমণ পরিহার করতেও বলা হয়। আরো বলা হয়, সরকারি বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা তাদের স্ত্রী কিংবা স্বামী অথবা সন্তানদের সফরসঙ্গী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন না। সে বছরের ২১ অক্টোবর বিদেশ ভ্রমণসংক্রান্ত আরেকটি নির্দেশনা জারি হয়। সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরসংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো বর্তমানেও কার্যকর রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যয় সাশ্রয়ে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সচিব ও সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য আকাশপথে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিজনেস, ক্লাব বা এক্সিকিউটিভ শ্রেণীর পরিবর্তে সুলভ শ্রেণী (ইকোনমি ক্লাস) বাধ্যতামূলক করে নির্দেশনা জারি হয়। এরপর ৮ জুলাই অর্থ বিভাগের জারি করা পরিপত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ধরনের বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

গত বছর মোবাইল টয়লেট, স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্টের যন্ত্রপাতি, ট্রেইলার, চেইন ডোজার, স্ক্র্যাপার ব্রিজ ক্রয়সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ, পরিদর্শন ও বিভিন্ন টেস্টের নামে অনেক কর্মকর্তাকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে। তাছাড়া হুইল ডোজার, থ্রি হুইল স্ট্যাটিক রোড রোলার, ল্যান্ডফিল কমপ্যাক্টর ভেহিকল, ওভারপাস-পিওটি বিয়ারিং-সংক্রান্ত পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণ, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী ও কারিগরি সেশনে অংশগ্রহণের জন্য বিদেশ ভ্রমণের অনুমোদন পেয়েছিলেন কিছু কর্মকর্তা। তাদের বেশির ভাগেরই ভ্রমণ ব্যয় বহন করেছিল ঠিকাদার কিংবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। সে সময় এ বিষয়ে বণিক বার্তায় একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরের কয়েক মাস এ ধরনের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি আবার সে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি কর্মকর্তাদের এ ধরনের বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি অপচয় ও দুর্নীতি বন্ধের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে এবং সেই নির্দেশনা অনুযায়ী রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে ঠিকাদার বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে কর্মকর্তারা বিভিন্নভাবে সুযোগ নিয়ে এ ধরনের সফর করতেন। মূলত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অর্থে এসব ভ্রমণ করিয়ে থাকে। ফলে এসব ভ্রমণ বিধিসম্মত না। কেননা ঠিকাদার বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের ব্যয়ে স্বার্থের সংঘাত হতে পারে। নিম্নমানের পণ্য দেয়া, কাজের গুণগত মান কমানোর মাধ্যমে খরচ পুষিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। আবার কোনো কোম্পানির টাকায় বিদেশ ঘুরে আসার পর সেই কোম্পানির প্রতি দুর্বলতা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তখন ওই প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব না-ও হতে পারে।

জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ ধরনের বিদেশ সফর শুধু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি নির্দেশের বরখেলাপ নয়, বরং পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অযাচিত আনুগত্য, অনৈতিক ও লোভাতুর ব্যক্তিগত সুবিধা ভোগের উদাহরণ। এ ধরনের অনুকম্পা গ্রহণ করা সরকার ও দেশের জন্য মানহানিকর। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে ভেন্ডরের প্রতি অসম্মানজনক অনুরাগের বশবর্তী হওয়ার দৃষ্টান্ত তৈরি হয়, যা সরকারি ক্রয়নীতি লঙ্ঘনের জন্য শাস্তিযোগ্য অনিয়ম।’

চলতি বছরের ৮ জুলাই অর্থ বিভাগের জারি করা পরিপত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বিদেশী প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ বন্ধ থাকবে। তবে বিদেশী সরকার, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোনো দেশের অর্থায়নে মাস্টার্স, পিএইচডি, স্কলারশিপ, ফেলোশিপ কিংবা বৈদেশিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। এছাড়া প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মৌলিক ও বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের বৈদেশিক অংশ উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা যাবে। প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন (পিএসআই) এবং ফ্যাক্টরি অ্যাকসেপটেন্স টেস্টের (এফএটি) ক্ষেত্রে কেবল জটিল বা বাধ্যতামূলক পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বা কারিগরি সনদপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিদেশ সফর বিবেচনা করা হবে। তবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষা সম্পন্ন করাকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

সরকারি নির্দেশনার ব্যত্যয়ের পাশাপাশি ঠিকাদার, উৎপাদক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থে বিদেশ ভ্রমণের বিষয়টিকে ‘অনৈতিক ও স্বার্থগত সংঘাত’ বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাবেক অর্থ সচিব ও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রথম বিষয় হচ্ছে সরবরাহকারী এখানে অর্থায়ন করছে। এর মানে হলো সে এখানে বিনিয়োগ করছে। এক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এ ধরনের স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে চলাই উচিত। আরেকটি বিষয় হচ্ছে বিদ্যমান নির্দেশনা কার্যকর থাকা অবস্থায় এ ধরনের ভ্রমণের আদেশ জারি করা সমীচীন হয়নি।’

বক্তব্য জানতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি।

প্রথম আলো

‘গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে, অগ্রাধিকার পাচ্ছে শিল্প খাত’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেড় মাসের বেশি সময় পর দেশে গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে। শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর গত সোমবার রাত থেকেই বেড়েছে সরবরাহ। গতকাল মঙ্গলবার যা আরও কিছুটা বেড়েছে।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, সরবরাহ বাড়ানোর পর সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে শিল্প গ্রাহকদের। বাড়তি গ্যাসের অধিকাংশ যাচ্ছে শিল্প খাতে।

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা। আর আমদানি করে পেট্রোবাংলার কোম্পানি রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিদুর্ঘটনায় শুরুতে সরবরাহ ব্যাহত হয়। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সময়মতো এলএনজির কার্গো না আসায় সরবরাহ বাড়াতে দেরি হয়েছে। এখন নিয়মিত আসছে কার্গো।

পটুয়াখালীতে চীন ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে দুটি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। প্রতিটি কেন্দ্র ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতায় নির্মিত হয়। এর মধ্যে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি কারণে বন্ধ আছে। এতে উৎপাদন হচ্ছে ৫৭০ মেগাওয়াট। এখানে পর্যাপ্ত কয়লা আছে। আর একই জেলার আরেকটি কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহ বাড়ার পর গতকাল ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন করা হয়েছে।

পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সর্বোচ্চ ১০৫ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। গত সোমবার রাত ১০টায় এলএনজি সরবরাহ করা হয় ৯৮ কোটি ঘনফুট। আর গতকাল রাত আটটায় এটি বেড়ে হয়েছে ১০১ কোটি ঘনফুট। এতে মোট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে ২৬৩ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশি গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে ১৬২ কোটি ঘনফুট।

এর আগে গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সেটি থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তার আগে দিনে সরবরাহ করা হচ্ছিল ২৬৪ কোটি ঘনফুট। তখন এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হতো ৯৯ কোটি ঘনফুট। এখন এলএনজি থেকে একই পরিমাণ সরবরাহ করা হলেও দেশি গ্যাস থেকে এরই মধ্যে উৎপাদন কমেছে ৪ কোটি ঘনফুট।

পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র বলছে, সেপ্টেম্বরে ১০টি এলএনজি কার্গো আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একাধিকবার দরপত্র দিলেও সব কটি পাওয়া যায়নি। দামও অনেক বেড়ে গেছে। এ মাসে সব মিলিয়ে ৯টি কার্গো নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গানভর যুক্তরাষ্ট্রের দুটি, স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় আরামকোর দুটি এবং খোলাবাজার থেকে কেনা হয়েছে পাঁচটি।

আরপিজিসিএল সূত্র বলছে, এ মাসে আরামকোর দুটি, ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম ও পস্কোর একটি করে কার্গো ইতিমধ্যে এলএনজি সরবরাহ করেছে। এরপর আজ ১৬ সেপ্টেম্বর গানভর, ১৮ সেপ্টেম্বর আরামকো, ২৩ সেপ্টেম্বর টোটাল এনার্জি, ২৫ সেপ্টেম্বর আরামকো ও ২৮ সেপ্টেম্বর গানভরের একটি করে কার্গো আসার কথা। ফলে এলএনজি থেকে সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই অক্টোবরের জন্য ১১টি এলএনজি কার্গো কেনার প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে অক্টোবরের ৮টি কার্গো নিশ্চিত হয়েছে। আরও ৩টি কিনতে গতকাল দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকার ফকির নিটওয়্যার লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ ইমতিয়াজ রাজীব বলেন, চাপ ১০ পিএসআই থাকার কথা, আসছে ৪ পিএসআই। আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে।

নারায়ণগঞ্জ ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমজাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, কারখানা চালাতে যতটুকু চাপ প্রয়োজন, সেই পরিমাণ চাপ গতকাল পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

লোডশেডিং থামেনি, কিছুটা কমেছে

গ্যাসের সংকটে কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হলেও কয়লার স্বল্পতা ও কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছিল না। এতে এক মাস ধরেই সারা দেশে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এটি কমাতে তেলচালিত কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফার্নেস তেলের পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় বেশি করা যাচ্ছে না। ২০ সেপ্টেম্বরের পর তেল থেকে উৎপাদন বাড়ানো হতে পারে।

গত বুধবার রাত ১২টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এতে উৎপাদন আরও কমায় দেশে লোডশেডিং বেড়ে যায়। গত রোববার দুপুর ১২টায় আদানির দ্বিতীয় ইউনিট থেকে সরবরাহ শুরু হয়। এরপর কেন্দ্রটি থেকে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি করে সরবরাহ করা হচ্ছে।

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর আগে রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় কারিগরি কারণে বন্ধ হয়ে যায় বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট। এক ইউনিট বন্ধের পর গতকাল ৬১০ মেগাওয়াট উৎপাদন করেছে কেন্দ্রটি। এটি আবার পুরোপুরি উৎপাদনে ফিরতে আরও দুই দিন লাগতে পারে।

পটুয়াখালীতে চীন ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে দুটি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। প্রতিটি কেন্দ্র ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতায় নির্মিত হয়। এর মধ্যে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি কারণে বন্ধ আছে। এতে উৎপাদন হচ্ছে ৫৭০ মেগাওয়াট। এখানে পর্যাপ্ত কয়লা আছে। আর একই জেলার আরেকটি কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহ বাড়ার পর গতকাল ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্র বলছে, সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় কয়লা থেকে। কিন্তু এক মাস ধরে কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে পুরো সক্ষমতায় উৎপাদন করা যাচ্ছে না। জ্বালানি তেল থেকে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন করা হচ্ছে। গত সোমবার দিবাগত রাত একটায় আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে হয়েছে। গতকাল দিনের বেলায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। এর আগে গত মাসে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে হয়েছে। এ হিসাবে আগের তুলনায় লোডশেডিং কমে এসেছে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ইসির এখতিয়ার ও সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন মন্ত্রীদের’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নেওয়া সিদ্ধান্ত ও এখতিয়ার নিয়ে পরোক্ষভাবে প্রশ্ন তুলেছেন সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা। তারা বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। অন্য নির্বাচনগুলো স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয় রয়েছে। এ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণার আগে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেনি ইসি। মঙ্গলবার সচিবালয়ে পৃথক প্রতিক্রিয়ায় তারা এসব কথা বলেন। তারা আরও বলেন, বৃহস্পতিবার ইসিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

এর আগের দিন সোমবার ইসি সাত ধাপে চার হাজার দুইশর বেশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করে। ওই ঘোষণার পরদিনই সরকার তরফ থেকে এই প্রতিক্রিয়া এলো। অবশ্য প্রতিক্রিয়ায় ইসি অনেকটাই নীরব। কমিশনও জানিয়েছে, আগামীকালের সভা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রোববার ও সোমবার দুটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় ইসি। প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ও শেষ ধাপের ভোট ২৭ মে সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করে গণমাধ্যমকে জানায় ইসি। পরদিনই মঙ্গলবার প্রথমে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সচিবালয়ে তিনি বলেন-আমরা পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনগুলোতে দেখেছি নির্বাচন কমিশন কয়েক ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। আমি দেশবাসীকে জানাতে চাই, এ ব্যাপারে সরকার কিছু জানে না এবং সরকারের সঙ্গে কোনো পত্র যোগাযোগ বা অন্য কোনোভাবে আলোচনা হয়নি।’ তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন এবং নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক ক্ষমতা তাদের রয়েছে। তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তুতিমূলক সভা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকের পর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে বাজেটসহ বিভিন্ন বিষয় থাকে। নির্বাচন কমিশন যে তারিখগুলো ঘোষণা করেছে, সে বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বা সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। সরকার এ ব্যাপারে কিছু জানে না।’

এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত। অন্য নির্বাচনগুলো আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয় রয়েছে। উপদেষ্টা বলেন, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী যেভাবে বলেছেন, সরকারের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে নির্বাচন কমিশন তাদের মতো করে তারিখ ঘোষণা করেছে-আমরা এই বক্তব্যটাকেই সঠিক ধরে নেব। এই নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের সঙ্গে কোলাবরেট করেই এটা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এটাকে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে কোনো ‘গ্যাপ’ হিসাবে দেখার কারণ নেই।

উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সময়সূচি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। নির্বাচন কমিশন যে তারিখ দিয়েছে, ওই তারিখে নির্বাচন হবেই-এটা বলা যাবে না। তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব এখতিয়ার রয়েছে এবং সংবিধান অনুসরণ করে তারা নির্বাচন আয়োজন করতে পারে। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টি রয়েছে।

ইউপি নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন আইন ভঙ্গ করেছে কিনা-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি আইন ভঙ্গ করেছে এভাবেও বলতে চাই না। আপনারা নির্বাচন কমিশনের কাছেও একটু ভেরিফাই করুন। তাদের বক্তব্য নিলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। তিনি বলেন, পার্টিসিপেটরি (অংশগ্রহণমূলক) ইলেকশন হবে কিনা, একটু অপেক্ষা করুন। ওটা হতে বাধ্য। বিভিন্ন দল তাদের সমর্থিত প্রার্থী দিচ্ছে। একটি নতুন দলও তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে। সুতরাং পার্টিসিপেটরি ইলেকশন হবেই।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে ঢাকা শহরের মেগা প্রজেক্টের কারণে উদ্ভূত যানজট রোধসংক্রান্ত এক সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও ইসির এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, সাংবিধানিকভাবে ইসির দুটি দায়িত্ব-রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও সংসদ নির্বাচন। স্থানীয় সরকার আইন অনুসারে স্থানীয় নির্বাচন হবে। এ আইনে এমন কিছু নেই, যেখানে বলা আছে সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ব্যতিরেকে করতে পারে; এটি সমন্বয়ের ব্যাপার। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা থাকবেন। সে সভার সিদ্ধান্তের আলোকে ভবিষ্যতে নির্বাচনের তফসিল সাজাবে ইসি। সে পর্যন্ত তো আমরা অপেক্ষা করি।

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনারদের অবস্থান জানতে চাইলে তারা সরাসরি উত্তর দেননি। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘উনি যেটা বলেছেন সেটা শিরোধার্য। তবে এ বিষয়ে পালটা কোনো মন্তব্য করার ধৃষ্টতা আমি দেখাব না। নো কমেন্টস ফ্রম মাই সাইড।’ অপর প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে এটি নিশ্চিত। তবে নির্বাচন কবে এবং কী পদ্ধতিতে বা কোন পর্যায়ে হবে, তা নিয়ে কমিশনে গত দুই দিন ধরে প্রাক-প্রস্তুতিমূলক আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, এর ধারাবাহিকতায় সোমবার একটি টেন্টেটিভ (সম্ভাব্য) সময়সূচি করা হয়েছে। সেখানে পাঁচটি ধাপে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি ধাপ রিজার্ভ রাখা হয়েছে। তবে এটি একেবারেই প্রাথমিক সময়সূচি। সচিব বলেন, ১৭ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বৈঠক হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ইনপুট নেওয়া হবে। এরপর এসব মতামতের ভিত্তিতে কমিশন নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করবে।

কালের কণ্ঠ

‘আরো ২১ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসেই বোয়িং ও এয়ারবাসের সঙ্গে পৃথক উড়োজাহাজ ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষরের দিকে এগোচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর মাধ্যমে জাতীয় পতাকাবাহী এই সংস্থাটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণ হতে যাচ্ছে।

সম্ভাব্য এই চুক্তিতে আরো ১১টি বোয়িং এবং ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। প্রক্রিয়াটির বিষয়ে অবগত বিশ্বস্ত সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, চুক্তি চূড়ান্ত হলে বিমানের গত এপ্রিলে স্বাক্ষরিত ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ সংক্রান্ত চুক্তির পাশাপাশি নতুন করে আরো ১১টি উড়োজাহাজ যুক্ত হবে। ফলে বিমানের ভবিষ্যৎ বহরে যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় থাকা উড়োজাহাজের মোট সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ৩৫টিতে, যার মধ্যে ২৫টি বোয়িং এবং ১০টি এয়ারবাস।

বর্তমানে মাত্র ১৯টি উড়োজাহাজ নিয়ে পরিচালিত একটি জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থার জন্য এই সম্প্রসারণের মাত্রা বিপুল। প্রস্তাবিত এয়ারবাস প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারোবডি জেট। অন্যদিকে অতিরিক্ত ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজের সুনির্দিষ্ট মডেল বা তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এয়ারবাসের প্রস্তাবিত ক্রয়ের বিষয়ে বিমানের টেকনো-ফাইন্যান্স কমিটি গত ৩১ আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ করে বিমান বোর্ডের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

বোর্ডের একটি উপকমিটিও তাদের পর্যালোচনা শেষ করেছে। এখন প্রস্তাবিত চুক্তির আগে দুই পক্ষ চূড়ান্ত পর্যালোচনা চালাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের আধুনিকায়নে এয়ারবাস ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশের হসপিটালিটি খাতের বিকাশে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী। বাংলাদেশ সরকারের এভিয়েশন হাব প্রতিষ্ঠার অগ্রযাত্রায় যুক্তরাজ্য সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা এয়ারবাসের চুক্তি সই করতে প্রস্তুত। এখন শুধু তারিখ এবং স্বাক্ষরকারীদের বিষয় চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষা। এর আগে বিমান ৩১ আগস্টের মধ্যে এয়ারবাস চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিল। সেই সময়সীমা পার হলেও কর্মকর্তারা এখন সেপ্টেম্বরেই এটি শেষ করার আশা করছেন।’

বোয়িংসংক্রান্ত নতুন বিষয়টি এই সম্প্রসারণকে আরো বড় মাত্রা দিয়েছে। গত এপ্রিলে বিমান ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকা) বিনিময়ে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ (আটটি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮) অর্ডারের চুক্তি সই করে, যা ২০৩১ সালের নভেম্বর থেকে ২০৩৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে হস্তান্তরের কথা রয়েছে।

সাম্প্রতিক আলোচনার সঙ্গে জড়িত সূত্রের মতে, এখন আরো ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ বিবেচনার অধীনে রয়েছে, যা বোয়িংয়ের মোট সংখ্যা ২৫টিতে নিয়ে যেতে পারে। এই সংখ্যাটি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ গত অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক শুল্ক সংক্রান্ত বাণিজ্য আলোচনার সময় ২৫টি বোয়িং কেনার আগ্রহ ব্যক্ত করেছিল। পরবর্তী নির্বাচিত সরকার আর্থিক দিক বিবেচনা করে ১৪টি উড়োজাহাজ নিয়ে এগোলেও অবশিষ্ট ১১টি উড়োজাহাজের আলোচনা আবার সামনে এসেছে, যখন বিমান একই সঙ্গে এয়ারবাসের চুক্তির দিকেও এগোচ্ছে।

বোয়িং নিয়ে এই প্রতিশ্রুতির কথা ঢাকা নয়, বরং ওয়াশিংটন থেকে প্রথম জনসমক্ষে আসে। গত ৩০ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর লেখেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একটি ‘অসাধারণ চুক্তিতে’ পৌঁছেছেন, যার অধীনে বাংলাদেশ বোয়িং বিমানের জন্য তাদের প্রাথমিক অর্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।’

তিনি লেখেন, ‘এ সপ্তাহেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আরো একটি চুক্তি করেছেন, যেখানে বাংলাদেশ তাদের প্রাথমিক অর্ডারের চেয়ে শত শত কোটি ডলার ব্যয় করে আরো বোয়িং বিমান কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’

তবে পোস্টে নতুন করে কতটি উড়োজাহাজ কেনা হবে, মোট কত বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে কিংবা চুক্তিটি কবে ও কোথায় হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন: সরকারের বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের ত্বরিত পিঠটান’। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণের একক এখতিয়ার কমিশনের নেই– সরকারের এই ভাষ্যের পর পিঠটান দিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। যদিও দীর্ঘ প্রস্তুতি শেষে গত সোমবার জানিয়েছিল, আগামী ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে হবে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোট।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষণার পরদিন গতকাল মঙ্গলবার একাধিক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ইউপি নির্বাচনের দিনক্ষণ বিষয়ে সরকার কিছু জানে না। এর পরপরই ইসি বলে, সোমবার যে তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল, তা প্রাথমিক। আগামী বৃহস্পতিবার ইসি আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। যদিও দুই মাস আগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে তথ্য নিয়ে ভোটের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ গতকাল বলেন, সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। এর বাইরে আইনে প্রদত্ত অন্যান্য নির্বাচন-সংক্রান্ত দায়িত্বও পালন করার কথা বলা আছে। স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে আইনের মধ্যে এমন কিছু নেই যে, সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ছাড়া নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কাজ করতে পারে।

এ ছাড়া ‘ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছুই জানে না’ বলে গতকাল মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে কোনো পত্র যোগাযোগ বা অন্য কোনোভাবে আলোচনা হয়নি।

এই বক্তব্যের পর গতকাল ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইউপি নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী যেটি বলেছেন, সেটি শিরোধার্য। এ বিষয়ে পাল্টা কোনো মন্তব্য করার ধৃষ্টতা আমি দেখাব না।’

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে শিরোধার্য আখ্যা দেওয়ায় ইসির জ্যেষ্ঠ সচিবের সমালোচনা করছে বিরোধী দলগুলো। সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্যের পর স্থানীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ থেকে সরে আসাকে নির্বাচন কমিশনের নতজানু আচরণ বলছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংবিধান নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনতা দিলেও তারা যে আসলে সরকারের অধীনে– তা বোঝা যাচ্ছে। সংবিধানে বলা হয়েছে, ইসি আইন অনুযায়ী নির্বাচন করবে। আইনে কোথাও বলা নেই, নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করতে ইসিকে সরকারের সম্মতি নিতে হবে। কিন্তু মন্ত্রীদের বক্তৃতা শুনে যে ইসি নিজের অবস্থানে ঠিক থাকতে পারে না; তারা সুষ্ঠু নির্বাচন কতটা করতে পারবে– তা এখনই বোঝা যাচ্ছে।

ইসির ভূমিকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এনসিপি। এক বিবৃতিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘শিরোধার্য’ মেনে ইসি সচিবের চুপসে যাওয়া প্রমাণ করে, কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সরকারের প্রভাব ও চাপে পড়ে নির্বাচন কমিশন একেক সময় একেক রকম কথা বলে চরম খামখেয়ালিপনা প্রদর্শন করছে, যা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ন্যূনতম গ্যারান্টিও ধ্বংস করছে।

সরকারের কাছে তথ্য নিয়েছিল ইসি

ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, গত ৯ জুলাই স্থানীর সরকার বিভাগে ইসি কার্যালয়ের উপসচিব মনির হোসেনের সই করা চিঠিতে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজনে প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হয়। আইনের ২৯(৩) ধারা তুলে ধরে পাঁচ বছরের মেয়াদ পূরণের আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের কথাও উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সীমানা বা ওয়ার্ড বিন্যাস দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়।

শুধু ইউনিয়ন পরিষদই নয়; ইসি পৃথক চিঠিতে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনগুলোর বিষয়েও সরকারের কাছে তথ্য চেয়েছিল। জবাবে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জিয়াউর রহমান গত ২ আগস্ট ইসির কার্যালয়কে চিঠিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠান।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচন কমিশনকে সংবিধান সুস্পষ্টভাবে চারটি দায়িত্ব দিয়েছে। সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ নির্বাচন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস এবং ভোটার তালিকা প্রণয়ন ইসির কাজ। এর বাইরে অন্যান্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে ১১৯ (২) অনুচ্ছেদে বলা আছে, যেভাবে আইন দ্বারা নির্ধারিত হবে, ইসি সেভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ২০০৯ সালের আইন রয়েছে। এর ২৯(৩) ধারায় বলা হয়েছে, ‘সাধারণ নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদ গঠনের ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে।’ ২০২১ সালে ছয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হয়েছিল। এই হিসেবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই নির্বাচন করতে হবে। আইনে কোথাও বলা নেই, নির্বাচন আয়োজনে সরকারের অনুমতি নিতে হবে।

নির্বাচন আয়োজনে আর্থিক বরাদ্দ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের সহায়তা প্রয়োজন হয় নির্বাচন কমিশনের। সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই সহায়তা দেওয়া সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক।

ইত্তেফাক

‘ইউপি নির্বাচনের তারিখ নিয়ে মন্ত্রণালয়-ইসির সমন্বয়হীনতা’—এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মধ্যে সমন্বয়হীনতার বিষয়টি সামনে এসেছে। ইসি জানিয়েছে, সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং প্রথম ধাপের ভোট আগামী ১২ নভেম্বর হতে পারে। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভোটের ঘোষিত তারিখ নিয়ে সরকার কিছুই জানে না স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য শিরোধার্য। তবে এ বিষয়ে পালটা কোনো মন্তব্য করার ধৃষ্টতা দেখাব না। নো কমেন্টস ফ্রম মাই সাইড।’ এদিকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভা ডাকার তথ্য দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সেখানে সচিবরা মতামত দেবেন। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভার আলোকে ভবিষ্যতের নির্বাচনের তপশিলগুলো সাজাবেন। মনে হয় আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভার পর নির্বাচনের সূচি ঘোষণা হবে।’

সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সঙ্গে আলোচনা বা সমন্বয়ের মাধ্যমে ভোটের সময় বা প্রস্তাব নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। সোমবার নির্বাচন কমিশনে বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, এবার সাড়ে চার হাজার ইউপিতে ৭ ধাপে নির্বাচন হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং ২৭ মে সপ্তম ধাপের ভোট হওয়ার কথা বলেন তিনি। অবশ্য তিনি বলেছিলেন, এটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত, চূড়ান্ত নয়। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আছে ১৭ সেপ্টেম্বর, সেখানে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, সে সিদ্ধান্ত সরকার নেবে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে ইসির ‘একক কোনো এক্তিয়ার নেই’।

গতকাল সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ইসিকে সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সরকার সিদ্ধান্ত নেবে কবে নাগাদ নির্বাচন করবে। একটা টাইমলাইন তো আপনাদের কাছে জানানো হয়েছে মোটামুটি, সো এটাকে ফলো করে সরকার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কোলাবোরেট করে নির্বাচনে যাবে। নির্বাচন তো করবেই, নির্বাচন তো হবেই, এটা নিয়ে তো কোনো কনফিউশনের কিছু নেই।’ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনের মাধ্যমে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন তারিখ জেনেছেন। তিনি বলেন, আমি দেশবাসীকে জানাতে চাই, এ ব্যাপারে সরকার কিছু জানে না এবং সরকারের সঙ্গে কোনো পত্র যোগাযোগ বা অন্য কোনোভাবে আলোচনা হয়নি।

প্রতিমন্ত্রীর কথায়, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন এবং নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক ক্ষমতা তাদের রয়েছে। তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তুতিমূলক সভা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকের পর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে বাজেটসহ বিভিন্ন বিষয় থাকে। নির্বাচন কমিশন যে তারিখগুলো ঘোষণা করেছে, সে বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বা সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। সরকার এ ব্যাপারে কিছু জানে না।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘সংস্কারের চেয়ে দলীয় এজেন্ডায় ঝুঁকছে বিএনপি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, গণভোট মেনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্রের মৌলিক বিষয়গুলোর সংস্কারে একমত হলেও এটির বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার ও বিরোধী জোটে বিরোধ এখন তুঙ্গে। সংস্কারের আইনি রূপ কিভাবে দেয়া হবে এই মূল প্রশ্নেই সমঝোতা আটকে রয়েছে বলে মত কারো কারো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন মূলত সরকারের সদিচ্ছার ওপরই নির্ভর করছে। সরকার চাইলেই এটি বাস্তবায়ন করতে পারে। যেহেতু এটি বাস্তবায়িত হলে ক্ষমতার একটি ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে সরকারের জবাবদিহিতার ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে, তাই ক্ষমতাসীনরা এটা নিজেদের মতো করেই বাস্তবায়ন করবে, এটাই স্বাভাবিক। তারা বলছেন, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আন্তরিক কিন্তু সেটা তাদের নিজেদের মতো করেই করবে। তারা আশঙ্কা করছেন, সরকারের এই ঢিলেমির কারণে এটি আগামী নির্বাচনে বড় ইস্যুও হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ধারাবাহিক বৈঠকের পর জুলাই জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। তবে জুলাই জাতীয় সনদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক বিবেচনা করা হচ্ছে সাত দফা অঙ্গীকারনামাকে। যার তৃতীয় দফায় বলা হয়েছে এ সনদের বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করবে না দলগুলো। আর অঙ্গীকারনামার শেষ দফায় বলা হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত যে সব সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য সেগুলো কোনো প্রকার কালক্ষেপণ না করেই দ্রুততম সময়েই বাস্তবায়ন করবে সরকার। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সময়ে দুই পর্বের আলোচনায় ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য ও সিদ্ধান্ত হয়। সনদের অনেক বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হলেও কিছু বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেনি বিএনপি-জামায়াত-এনসিপিসহ কিছু কিছু রাজনৈতিক দল। সনদের চূড়ান্ত ঘোষণায় বলা হয়েছে, বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা তথা সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশি ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন বিষয়ে কাঠামোগত, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের ব্যাপারে ঐকমত্যে উপনীত হয়েছি।

জুলাই জাতীয় সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৭টি সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত। সংবিধান সম্পর্কিত ধারাগুলো সংস্কারের জন্য সংসদের প্রয়োজন হবে। বাকি যে ৩৭টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে সে সব বিষয়ে নির্বাহী আদেশ বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার কথাও বলা হয়েছে অঙ্গীকারনামায়। কোনো রাজনৈতিক দল যদি কোনো প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে থাকে তাহলে সেই সংস্কার প্রস্তাব ওই দল ক্ষমতায় গেলে তা মানতে বাধ্য নয় বলেও উল্লেখ ছিল।

একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদ প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন, ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হবে, অর্থবিল ও আস্থা ভোট বাদে জাতীয় সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দেয়া, সুপ্রিম কোর্ট বিকেন্দ্রীকরণ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, জাতীয় সংসদের নারী প্রতিনিধিত্ব ক্রমান্বয়ে ১০০তে উন্নীত করাসহ বেশ কিছু ইস্যুতে একমত হয়েছিল বিএনপি-জামায়াত-এনসিপিসহ বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল। দেশের সামগ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা তথা সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশি-ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমনব্যবস্থা সংস্কারে প্রয়োজনীয় সংশোধন, সহযোজন, পরিমার্জন বা নতুন আইন প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন বা বিদ্যমান বিধি ও প্রবিধির পরিবর্তন বা সংশোধনের অঙ্গীকারের কথা বলা হয়েছে। যদিও ক্ষমতার সাত মাসের মাথায়ও এগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। বরং জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব আরো স্পষ্ট রূপ ধারণ করেছে।

জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে সরকার গঠন করা বিএনপি বিদ্যমান সংবিধানের ধারা ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদীয় পদ্ধতিতে পর্যায়ক্রমিক সংশোধনীর সপক্ষে। তারা প্রচলিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির মাধ্যমেই এই সংস্কার চান। অন্য দিকে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দল ও জোটের মতে, সাধারণ সংশোধনীর মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্ত ও আকাঙ্ক্ষার প্রতি সুবিচার করা সম্ভব নয়। তারা সংবিধানের আমূল সংস্কারের পক্ষে অনড়।

আজকের পত্রিকা

‘গ্যাস অনুসন্ধান: স্থলভাগের একাধিক ব্লক উন্নয়নে আগ্রহী শেভরন’—এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের স্থলভাগের একাধিক ব্লকে তেল- গ্যাস উন্নয়নে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম কোম্পানি শেভরন। কোম্পানিটি ইতিমধ্যে সরকারের কাছে তাদের আগ্রহপত্রও জমা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শেভরনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেও আগ্রহ জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও কোম্পানিটির বিনিয়োগ আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দেশে চলমান গ্যাস-সংকটের মধ্যে শেভরন এই আগ্রহ দেখানোয় স্থলভাগের একাধিক ব্লক ইজারা পেতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং শেভরনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

শেভরন বাংলাদেশ বর্তমানে তিনটি ব্লক থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে। এগুলো হলো ১২ নম্বর ব্লকের বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র, ১৩ নম্বর ব্লকের জালালাবাদ গ্যাসক্ষেত্র এবং ১৪ নম্বর ব্লকের মৌলভীবাজার গ্যাসক্ষেত্র।

পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের সূত্র বলছে, শেভরন সুনামগঞ্জ, শেরপুর ও ময়মনসিংহ এলাকা নিয়ে গঠিত ১১ নম্বর ব্লক এবং হবিগঞ্জে অবস্থিত ১২ নম্বর ব্লকের ৬ হাজার ৬০০ বর্গকিমি এলাকায় তেল-গ্যাস উন্নয়নের আগ্রহ দেখিয়েছে।

দেশে তীব্র গ্যাস-সংকট চলছে। দৈনিক ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে প্রায় দুই মাস পর গতকাল মঙ্গলবার সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের কথা জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। গত ২১ জুলাই সাগরে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি অগ্নিকাণ্ডের পর বন্ধ হওয়ায় এবং গত আগস্টে পরিকল্পনায় থাকা এলএনজির ১০ কার্গোর মধ্যে চারটি কম আসায় একপর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ ১ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে গিয়েছিল। বর্তমানে সরবরাহ করা গ্যাসের মধ্যে প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চড়া দামে কেনা এলএনজি। সম্প্রতি এলএনজির দাম প্রতি এমএমবিটিইউ ২৮ মার্কিন ডলার হওয়ায় এর থেকে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম ৭৫-৮০ টাকা পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অথচ দেশীয় কূপ থেকে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম ৫ থেকে ৬ টাকা।

গ্যাস-সংকটের কারণে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে লোডশেডিং বেড়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে স্থলভাগের দুটি ব্লকে উন্নয়নে আগ্রহ দেখিয়েছে শেভরন। পেট্রোবাংলা ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, শেভরন স্থলভাগের ১১ নম্বর ব্লক এবং ১২ নম্বর ব্লকের ৬ হাজার ৬০০ বর্গকিমি এলাকায় তেল-গ্যাস উন্নয়নের আগ্রহ দেখিয়েছে। মৌখিক আলোচনার পাশাপাশি লিখিত প্রস্তাবও তারা জমা দিয়েছে। ১১ নম্বর ব্লকটি সুনামগঞ্জ, শেরপুর ও ময়মনসিংহ এলাকা নিয়ে গঠিত এবং ১২ নম্বর ব্লক হবিগঞ্জে।

তবে উৎপাদন ও বণ্টন চুক্তি কীভাবে হবে কিংবা গ্যাসের অংশীদারত্ব ও দাম কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়টি পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের ওই কর্মকর্তাদের কেউ স্পষ্ট করে বলতে পারেননি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে গত রোববার সাক্ষাৎ করে শেভরনের বেস অ্যাসেটস ও উদীয়মান দেশবিষয়ক প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার লা রোসার নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। সাক্ষাৎকালে তারা বাংলাদেশে আরও বেশি কূপ খনন ও বিনিয়োগে আগ্রহ জানায়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা এবং ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে শেভরনের বিনিয়োগ আগ্রহকে স্বাগত জানান।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘মিছিলের চাপে পুলিশ ক্ষুব্ধ হাইকমান্ড’। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ঘিরে সারা দেশে বাড়ছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। এই নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। হঠাৎ করেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে খন্ড খন্ড মিছিল করে নিজেদের সক্ষমতা জানান দেওয়ার চেষ্টা করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে তিনদিন আগে গুলশানে বড় একটি মিছিল নিয়ে বেশ চাপে পড়েছে পুলিশ। এই নিয়ে সরকারের হাইকমান্ডও ক্ষুব্ধ হয়েছে।

মিছিলের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে খুনাখুনি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ অন্যান্য অপরাধও বেড়ে গেছে। বিভিন্ন কৌশল নিয়েও নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে। এসব কারণে চলতি মাসেই পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদলের পরিকল্পনা আছে সংশ্লিষ্টদের। ইতিমধ্যে একাধিক চৌকস পুলিশ কর্তার আমলনামা যাচাই-বাছাই হচ্ছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নতি করতে সর্বশেষ গত ররিবার পুলিশ সদর দপ্তরের পাশাপাশি ডিএমপির সদর দপ্তরেও বিশেষ বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠক থেকে পুলিশের সবকটি ইউনিট প্রধানকে কড়া ভাষায় বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের কোনো মিছিল ঠেকাতে না পারলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিসহ তার ঊর্ধ্বতনদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নেওয়া হবে। প্রতিটি থানায় রাত এবং দিনে টহল বাড়াতে হবে। মহানগর পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার এসপিরা সমন্বয় করে বৈঠক করে অপরাধীদের ধরার পাশাপাশি সার্বিক বিষয়ে নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন। এতে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে তাৎক্ষণিক অন্যত্র বদলিরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

মাঠ প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা : পুলিশ সূত্র জানায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সাম্প্রতিক ঝটিকা মিছিল ঘিরে চাপে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে রাজধানীর গুলশানে কয়েকশ নেতাকর্মীর মিছিল বের হওয়া, পুলিশের বাধার মুখে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি এবং পরে ব্যাপক গ্রেপ্তারের ঘটনায় মাঠপর্যায়ের পুলিশি তৎপরতা ও গোয়েন্দা সমন্বয় নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এরই মধ্যে রাজধানীর থানাগুলোকে আরও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো এলাকায় এ ধরনের মিছিল বা অপতৎপরতা ঠেকাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। মিছিল চলাকালে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কিছুটা আতঙ্কও দেখা দিয়েছে। মিছিলের জন্য শতাধিকের বেশি মানুষ কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জড়ো হওয়ার আগে স্থানীয় থানা, গোয়েন্দা ইউনিটের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি গাজীপুর মহানগরের পূবাইল থানাধীন টেকপাড়া, সোবানি রিসোর্টের পেছনের রাস্তায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ২৫-৩০ জন সমর্থক মিছিল করে। চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর ও আগ্রাবাদ এক্সেস রোড এলাকায় সাবেক যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের নেতৃত্বে পৃথক দুটি ঝটিকা মিছিল হয়েছে। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পর থেকেই মাঠপর্যায়ে দলটির তৎপরতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এসব ঘটনার পর সারা দেশের থানার ওসিদের সতর্ক করা হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যাতে ঢাকায় মিছিল কিংবা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য সতর্ক আছে পুলিশ। প্রতিটি থানায় বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া আছে। রাস্তায় টহল, তল্লাশি ও অভিযান বৃদ্ধি করা হয়েছে।

দুর্বলতার সুযোগে হচ্ছে মিছিল: আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যাপক অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তারা হাসিনার প্রত্যাবর্তনের দাবি করে সরকারবিরোধী আওয়াজ তুলছে। দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে দলটি ষড়যন্ত্রের ছক আঁকছে। এতে পুলিশের গাফিলতিও আছে। পুলিশের টহলে দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। আছে গোয়েন্দা ব্যর্থতাও। এই সুযোগে আওয়ামী লীগ সারা দেশে ঝটিকা মিছিল করার সাহস পাচ্ছে। গত রবিবার ডিএমপির সদর দপ্তরে বিশেষ বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ডিএমপি কমিশনার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, আওয়ামী লীগ অরাজকতা করার চেষ্টা করলেই কঠোর অ্যাকশনে যেতে হবে। কোনো ধরনের কার্যক্রম চালানো বা ঝটিকা মিছিল হলে তার দায়দায়িত্ব নিতে হবে সংশ্লিষ্ট জোনের ঊর্ধ্বতনদের। কোনো অবস্থাতেই অপরাধীদের দিকে শিথিলতা দেখানো যাবে না। টহল ও চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়াতে হবে। সিটিটিসি ও ডিবিতে কর্মরত সদস্যদের ক্রাইম বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে হটস্পটগুলোতে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে ‘এআই’-চালিত সিসি ক্যামেরা ও ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম প্রবেশমুখগুলোতে নজরদারি করতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

‘রেলের জমিতে দখলের রাজত্ব’—এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সারা দেশে বছরের পর বছর রেলওয়ের জমিতে দখলদারদের রাজত্ব চলছে। রেলের মোট ৩১ হাজার ৮৬০ একর জমির মধ্যে ৩ হাজার ২৪ দশমিক ৮৪ একর জমি দখলদারদের কবজায়। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলে ৩১৬ দশমিক ১৯ একর এবং পশ্চিমাঞ্চলে ২ হাজার ৭০৮ দশমিক ৬৫ একর জমি বেদখল হয়ে আছে। দখল হওয়া এসব জমিতে কোথাও গড়ে উঠেছে দোকানপাট, কোথাও বসতি, আবার কোথাও চলছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম। অনেক জায়গায় আবার রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ও আছে। অভিযোগ আছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় দিনের পর দিন চলছে এই দখল। সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে নানা উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাস্তবে থামছে না দখলদারদের রাজত্ব।

রেলওয়ে সূত্রমতে, রেলের পূর্বাঞ্চলের দখল হওয়া জমির মধ্যে ১২২ দশমিক ৬ একর জমি ঢাকা বিভাগে এবং ১৯৩ দশমিক ৫৯ একর জমি চট্টগ্রাম বিভাগে। পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে ১ হাজার ১৭৬ দশমিক ৩৭ একর জমি লালমনিরহাট অঞ্চলে এবং ১ হাজার ৫৩২ একর জমি পাকশী অঞ্চলে। অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি জমি বেদখল হয়েছে পাকশী অঞ্চলে।

ঘটনা এক. রাজধানী ঢাকার প্রথম রেলস্টেশন ফুলবাড়িয়ায় রেলওয়ের ৩ দশমিক ৯৭ একর জমি বেদখল হয়ে আছে। চার দশকেও তা উদ্ধার করা যায়নি। কর্তৃপক্ষেরও কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।

ঘটনা দুই. রাজশাহীর গোদাগাড়ী সেকশন রেললাইনটি ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পরপর বন্ধ হয়ে যায়। ১৯২৩ সালে নির্মিত ২৫ দশমিক ৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেকশনে রেলের জমির পরিমাণ ৭২০ একর। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। এ জমির এক ছটাকও রেলের হাতে নেই। পুরোটাই বেদখলে আছে। আইন না থাকলেও এসব জমি একের পর এক হাতবদল হচ্ছে।

রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা বলছেন, দখলদারদের বেশির ভাগের সঙ্গেই রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক আছে। এ কারণেই অধিকাংশ সময় দখলমুক্ত করা যায় না। তবে রেলওয়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশেও জমি দখলের অভিযোগ আছে। বিশেষ করে রেলের শ্রমিক নেতাদের কারণে অনেক জায়গাই দখলমুক্ত করা যায় না।